২৫ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

গ্যাস সঙ্কটে না’গঞ্জের ৫০০ শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত

জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত হলেও সুবিধাবঞ্চিত ; সাত টাকা ৬৫ পয়সা ইউনিটের গ্যাস কিনতে হয় ১৩ টাকা ৮০ পয়সায়; বাতিল হচ্ছে পণ্যের অর্ডার, বসে বেতন দিতে হয় শ্রমিকদের
-

গ্যাস সঙ্কটে নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলায় উৎপাদনের সময়টাতেই গ্যাস সরবরাহ থাকছে না। আবার রাত ১১টার পর গ্যাস পাওয়া গেলেও কাক্সিক্ষত প্রেসার পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস সঙ্কটের কারণে নারায়ণগঞ্জের শিল্পমালিকরা ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। তারা বলছেন, স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং এবং টেক্সটাইল মিলসহ প্রায় ৫০০ শিল্পকারখানায় গ্যাস সঙ্কটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম গোলাম ফারুক বলেন, আমরা জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ পাই সেটিই সরবরাহ করে থাকি। বিষয়টিতে আমাদের কোনো হাত নেই। আগে শীতকালে গ্যাসের কিছুটা সঙ্কট দেখা যেত বা সরবরাহ অনিয়মিত হতো; কিন্তু এখন শীতকাল নয়। বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ের। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কিছু করার নেই।
গ্যাস সঙ্কটে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিট গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ’র প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশের শিল্পমালিকরা কাক্সিক্ষত উৎপাদন করতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে শুধু গ্যাস সঙ্কটের কারণে। নারায়ণগঞ্জে পাঁচ শতাধিক শিল্পকলকারখানার অবস্থা এখন শুধু গ্যাস সঙ্কটের কারণেই বেহাল।
এ দিকে শিল্পকারখানায় গ্যাস সঙ্কট নিরসণে আমদানি করা ন্যাচারাল লিকুয়িড গ্যাস (এলএনজি) জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হলেও এর সুফল পাচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ জেলার শিল্পকারখানা। এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে গত বছর দুই দফায় বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। মূল্য বৃদ্ধি হলেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রয়েছে নারায়ণগঞ্জের শিল্প খাত।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাস ব্যবহার না করেও গ্যাস বিল দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস সঙ্কটের কারণে সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় অর্ডার বাতিল হচ্ছে অথবা এয়ারে পণ্য ডেলিভারি দিতে হচ্ছে। এতেও শিল্পমালিকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। গ্যাস সঙ্কটের কারণে কাজ না করলেও শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে গ্যাসের প্রতি ইউনিটের মূল্য ছিল সাত টাকা ৬৫ পয়সা। ২০১৮ সাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা এলএনজি যুক্ত হয়। এরই মধ্যে গত বছরই দুই দফা গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় সাত টাকা ৬৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১২ টাকা এবং এরপর গত বছরই ১৩ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে গ্যাস সঙ্কট নিরসনে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জে একটি নতুন গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করে। এতে সমস্যার কিছুটা সমাধান হয়েছিল; কিন্তু জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত করার পর সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। দিনের বেলায় গ্যাসের সরবরাহ পাওয়া যায় না। রাত ১১টার পর গ্যাস সরবরাহ করা হলেও প্রেসার থাকে না।
জানা গেছে, শিল্পকারখানায় ১০-১৫ পিএসআই প্রেসারে গ্যাস সরবরাহের লাইন সংযোগ দেয়া হলেও সর্বোচ্চ চরি-পাঁচ পিএসআইর বেশি প্রেসারে গ্যাস পাওয়া যায় না। নিট গার্মেন্টের সাথে যুক্ত স্পিনিং, ডাইং ও নিটিং এই তিন সেক্টর ২৪ ঘণ্টাই শিফট অনুযায়ী চলে। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এই তিন সেক্টরে অনেক ক্ষেত্রে দেড় বা দুই শিফটে কোনো কাজই হয় না। শ্রমিকদের বসিয়ে বেতন দিতে হয়। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার বাতিল হয়।
এ দিকে দেশে গ্যাস সঙ্কটের কারণে টেক্সটাইল কারখানার গড়ে ৪০ শতাংশ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। আর টেক্সটাইল মিলের বেশির ভাগই নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। সংগঠনটির অভিযোগ, এখন গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। ফলে যেসব টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের মাধ্যমে পরিচালিত, তাদের উৎপাদন কার্যত বন্ধ। রফতানি আয়ও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। অবিলম্বে সব কারখানায় এলএনজির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে।
বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের মাধ্যমে পরিচালিত কারখানাগুলোয় সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড মেশিন ব্যবহার হয়। ফলে গ্যাসের পর্যাপ্ত এবং অব্যাহত সরবরাহ না থাকায় প্রতিনিয়ত মেশিনারিজ এবং স্পেয়ার পার্টসের ক্ষতি হচ্ছে, উৎপাদনও সর্বনিম্ন পর্যায়ে। আমরা প্রধানমন্ত্রীসহ জ্বালানি উপদেষ্টা ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এলএনজি আমদানির ব্যবস্থা করেছেন। টেক্সটাইল খাতে অব্যাহত এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি প্রাধান্য দিতে অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় কারখানামালিকদের পক্ষে শ্রমিকদের বেতনভাতা ও ব্যাংক ঋণের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধসহ ইউটিলিটি বিল ও অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ সম্ভব হবে না।



আরো সংবাদ


বাংলাদেশ দখলের হুমকি দিয়ে লাভ কার (৫৬২৬১)অভাবের তাড়নায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন বিজিবি সদস্য! (১৭৫২২)ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দোর রেফারি ড. পেটেল (১৫৭৭১)গেইলের প্রয়োজন ৯৭ রান, সাকিবের ১ উইকেট (৯১৫৯)প্রতিরক্ষার মতোই যোগাযোগ অন্যের হাতে রাখতে পারি না : এরদোগান (৬৬৫৫)মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ, গণহত্যার আশঙ্কা জাতিসঙ্ঘের (৬৬০৪)ভারতের বিরুদ্ধে দলে যাদের রেখেছে পাকিস্তান (৬৩২১)সিরিয়ায় ইসরাইলি বিমান হামলায় বাধা দিবে না রাশিয়া (৬২২৬)আজ থেকে সুপার লিগ : সুপার টুয়েলভের কখন কোন দলের খেলা (৫৮৭৪)পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট (৫৭৭৯)