২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

১১ কোটি টাকা খরচের পর প্রকল্প বাতিলের প্রস্তাব!

চট্টগ্রামের লালদিয়া বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ
-

প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে ছয়টি বছর। এই ছয় বছরে টাকাও খরচ হয়েছে ১১ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এখন এসে বলা হচ্ছে ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং এই প্রকল্পটি লাভজনকও হবে না।’ তাই প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়া হোক।
প্রকল্পটি হচ্ছেÑ চট্টগ্রামের লালদিয়া বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় নির্মাণ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন এসে বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি বাতিলের প্রস্তাব করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাল বৃহস্পতিবার বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর এলাকায় প্রায় ৫৯ দশমিক ৮৭ একর জমির উপর ‘লালদিয়া বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ‘পিপিপির’ আওতায় নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই প্রেক্ষাপটে ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদনও দেয়া হয়। প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এমএম গ্রুপের’ সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা জরিপ প্রতিবেদন দাখিল করে এবং ২০১৭ সালের মার্চে এ জরিপ প্রতিবেদন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদন দেয়া হয়।
এরপর একই বছর প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র আহবান করে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য বলে তালিকাভুক্ত করা হয়। এর তিন বছর পর গত ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কয়েকটি বাধার কথা উল্লেখ করে তা বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠায় ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’। এদিকে ইতোমধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে প্রায় ১১ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিন ধরনের বাধা রয়েছে বলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রথমত: লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় লালদিয়ার চরে প্রায় ৫৯.৮৭২৫ একর জায়গার উপরে আনুমানিক প্রায় ৫০০ পরিবার দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে। প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করার আগে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের পুনর্বাসন/উচ্ছেদ করা সম্ভব না হলে পিপিপি’র আওতায় আলোচ্য প্রকল্পের কাজ সম্পাদন সম্ভবপর হবে না। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অবৈধ বসবাসকারীদের পুনর্বাসনে অর্থ বরাদ্দ/খরচ করার কোন অবকাশ নেই।
দ্বিতীয়ত: ২০১৩ সালে লালদিয়া চর এলাকায় লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ হাজার ১৪০ মিটার দীর্ঘ জেটি নির্মাণ করা যাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২০১৫ সালে প্রায় ৭.০২ একর জমির উপর বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী রেডি রেসপন্স ঘাঁটি নির্মাণ করে। ফলে প্রকল্প এলাকায় লালদিয়া চরে অবশিষ্ট জায়গায় জেটি নির্মাণের স্থান অবশিষ্ট থাকে ৮৩৫ মিটার। ওই জায়গায় ২০০ মিটার করে ৪টি জেটি নির্মাণ করা সম্ভব হবে। ফলে লালদিয়া টার্মিনালের প্রোডাক্টিভিটি উল্লেখযোগ্য হারে কম হবে। তা ছাড়া বর্তমান স্থিত প্রায় ৫২.৮৫২৫ একর জায়গার ভিতরে ছোট আকারে টার্মিনালটি নির্মিত হলে ৪টি জেটির পেছনে ব্যাকআপ ইয়ার্ডের জন্য যে জায়গা পাওয়া যাবে তাতে অপারেশন কার্যক্রমসহ কাস্টমস ফরমালিটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। এছাড়া সঠিক প্রোডাক্টিভিটিও পাওয়া যাবে না।
তৃতীয়ত: নির্মাণাধীন টার্মিনালে আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনের জন্য উপযুক্ত রাস্তা ও রেললাইন নেই। সংযোগ সড়ক ও রেললাইন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি না থাকায় সংযোগ সড়ক ও রেল লাইন নির্মাণ করা সম্ভবপর হবে না।
‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের’ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায় আলোচ্য টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এমতাবস্থায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অগ্রসর হলে সেটি লাভজনক হবে না এবং এতে ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ’ বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পিপিপি’র মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না করে তা তালিকা থেকে বাদ দেয়া যেতে পারে বলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রকল্প নেয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের পেপার ওয়ার্ক করা হয়। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেটি খুব গুরুত্ব দিয়ে যে করা হয়নি তা বোঝা যা”ে॥ বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার ছয় বছর পর বলা হচ্ছে-এটি লাভজনক হবে না তাই বাতিল করা হোক। কিন্তু অর্থের যে অপচয় হলো তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে। এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।



আরো সংবাদ


খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আরো এক বছর চায় বিজিএমইএ মুস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই জিতল রাজস্থান সাবমেরিন ইস্যু : ‘ক্রুদ্ধ’ ম্যাক্রঁ কি বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন? গাড়িচালক মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের আফগানিস্তানে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ হার এড়ালো বার্সেলোনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের ২৮৩৯ পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে : ওবায়দুল কাদের মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে আপস করা যাবে না: বিএনপি

সকল