০২ আগস্ট ২০২১
`
পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে : মেয়র

প্রথম দফায় অর্ধেক হাটেরও কাক্সিক্ষত দর পায়নি ডিএসসিসি

-

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নির্ধারিত ১৩টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে প্রথম দফায় মাত্র ছয়টি হাটের কাক্সিক্ষত দর পেয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। দর কম পাওয়ায় বাকি সাতটি হাটের দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এ দিকে পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডিএসসিসি।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজ-সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকার হাটের সর্বোচ্চ দর পড়েছে এক কোটি ৪৫ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। যার সরকারি মূল্য ছিল এক কোটি ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৮৯ টাকা। পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গার হাটের সরকারি মূল্য ৭৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। যার বিপরীতে দর উঠেছে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গার দর উঠেছে এক কোটি ৭৭ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। এ হাটের সরকারি মূল্য ছিল এক কোটি ৪৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩০০ টাকা। ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনালসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকায় হাটের দর উঠেছে দুই কোটি ৫৫ লাখ এক হাজার টাকা। যার সরকারি মূল্য এক কোটি ৬৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা। গোলাপবাগের ডিএসসিসি মার্কেটের পেছনের খালি জায়গার হাটের সর্বোচ্চ দর উঠেছে এক কোটি টাকা। যার বিপরীতে সরকারি মূল্য ছিল ৬৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৬০ টাকা। আফতাবনগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক-ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন-১ ও ২-এর খালি জায়গার হাটের সরকারি মূল্য এক কোটি ১৬ লাখ ৯১ হাজার ৮০০ টাকা। যার বিপরীতে দর উঠেছে দুই কোটি ৪১ লাখ টাকা।
এ ছয়টি হাটের বিপরীতে কাক্সিক্ষত দর পাওয়ায় সর্বোচ্চ দরদাতাদের ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসসিসি। তবে উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী ক্লাব-সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গার হাটের জন্য সরকারি মূল্য ৯০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তার বিপরীতে সর্বোচ্চ এক কোটি ১৫ লাখ টাকা দর উঠলেও ডিএসসিসি মনে করছে এ হাটে আরো বেশি দর ওঠা উচিত। এ কারণে এ হাটটি পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে ডিএসসিসি। এ ছাড়া আরো দুই হাটে সরকারি মূল্যের চেয়ে কম দর উঠেছে। এগুলো হলোÑ লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব-সংলগ্ন খালি জায়গা ও কমলাপুর স্টেডিয়াম-সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গার হাটের সরকারি মূল্য ছিল দুই কোটি ৬৭ লাখ ১২ হাজার টাকা। যার দর উঠেছে এক কোটি ১০ লাখ টাকা। অন্য দিকে আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গার হাটের সর্বোচ্চ দর উঠেছে ২০ লাখ টাকা। যার সরকারি মূল্য ছিল ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা। এ কারণে এ হাট দু’টিও পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএসসিসির চারটি হাটের বিপরীতে দরপত্রই জমা পড়েনি। হাটগুলো হলোÑ দনিয়া কলেজ-সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধূপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব-সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ও রহমতগঞ্জ ক্লাব-সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা এবং শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড-সংলগ্ন খালি জায়গা।
এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয়টি হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে। এগুলো অনুমোদনের জন্য মেয়রের দফতরে পাঠানো হবে। বাকি সাতটি হাটের জন্য দ্বিতীয় দফা টেন্ডার আহ্বান করা হবে। দ্বিতীয় দফায় না হলে তৃতীয় দফায়ও টেন্ডার আহ্বান করা হবে। যদি তৃতীয় দফায়ও দর না পাই তাহলে হাট বাতিল করা হবে।
পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কাজ করবে ডিএসসিসি : করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আসন্ন কোরবানি ঈদে পশুর হাটগুলো যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করা হয় তার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। গতকাল এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় ১৩টি হাট বসানো হচ্ছে। এ হাটগুলোতে যেন স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় সেই বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ জন্য হাটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেবে ডিএসসিসি।
গত বছরের মতো এবারো এক দিকে হাটে প্রবেশ করে অন্য দিকে হাট থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, হাটগুলোতে যাতে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন করা হয়, সে জন্য আমরা সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব।



আরো সংবাদ