১৬ জুন ২০২১
`

বরিশালে এক সাইলো নির্মাণেই ব্যয় ৩৩১ কোটি টাকা

-

খাদ্য মজুদের জন্য একটি স্টিলের সাইলো নির্মাণ করতেই ব্যয় করা হবে ৩৩১ কোটি টাকা। খাদ্য ধারণক্ষমতা বাড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্টিলের তৈরি যে সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তারই অংশ হিসেবে বরিশালে এই সাইলো তৈরি করা হবে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় খাদ্য অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন ‘মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ প্রজেক্ট (এমএফএসপি)’ শীর্ষক প্রকল্পের একটি প্যাকেজের আওতায় এটি নির্মাণ করা হবে জানা গেছে। সাইলো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩০ কোটি ৮৬ লাখ ১৫ হাজার ৮২২ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় খাদ্য অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি ১৯১৯.৯৬৭৫ কোটি (জিওবি ৩.৩৫২৪ কোটি, প্রকল্প সাহায্য ১৮৭৬.৬১৫১ কোটি (আইডিএ ঋণ) ও উপকারভোগীর দেয়া ৪০ কোটি) টাকা ব্যয়ে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের প্রস্তাব গত ২০১৪ সালের ১১ মার্চ একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।
এ বিষয়ে একটি কার্যপত্রে বলা হয়, ৮টি আধুনিক স্টিল সাইলো এবং আইসিটি কম্পোনেন্টসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কম্পোনেন্টের জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন হওয়ায় বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ২০২ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি ৩৫৬৮.৯৪ কোটি [জিওবি ৬৫.০০ কোটি, প্রকল্প সাহায্য ৩৪৯৯.৯৪ কোটি (আইডিএ ঋণ) এবং উপকারভোগীর দেয়া ৪.০০ কোটি] টাকা ব্যয়ে জানুয়ারি ২০১৪ থেকে অক্টোবর ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য গত ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দেশে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে খাদ্য মজুদক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দেশের ৮টি কৌশলগত স্থানে স্টিলের তৈরি সাইলো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, আশুগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মধুপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল মহেশ্বরপাশায় একটি করে সাইলো নির্মাণ হবে।
জানা গেছে, ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫ শত মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার ৮টি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বন্যা, সাইক্লোন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পরিবার পর্যায়ে খাদ্যশস্যের নিরাপদ মজুদ নিশ্চিত করা। এ ছাড়াও সরকারি পর্যায়ে খাদ্য সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় অনলাইন ফুড স্টক অ্যান্ড মার্কেট মনিটরিং সিস্টেম প্রবর্তন, খাদ্যশস্যের গুণগত ও পুষ্টিমান বজায় রাখার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির অভিযোজন সর্বোপরি খাদ্য ব্যবস্থাপনার উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে গবেষণালব্ধ ফলাফল বাস্তবায়ন।
৮টি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের জন্য দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপিতে ২৬৩৩ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং কন্টিনজেন্সি হিসেবে ৫০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। ডিপিপির প্রকিউরমেন্ট প্ল্যানে প্রাক্কলন ব্যয় হিসেবে প্যাকেজ ডব্লিউ-২১ এ বরিশালে প্রস্তাবিত স্টিল সাইলো নির্মাণের জন্য ৩৪০ কোটি ৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা সংস্থান রয়েছে। এছাড়া, অতিরিক্ত অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সাথে সম্পাদিত চুক্তির প্রজেক্ট পেপারে প্যাকেজ ডব্লিউ-২১ এর জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার (সমতুল্য ৩৪০ কোটি টাকা) বরাদ্দ রয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের ডিজাইন, সুপারভিশন কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে ‘গারসিও ফ্রান্স’ নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে প্রণীত প্রাক্কলন এই প্রকল্পের দাফতরিক প্রাক্কলন কমিটি পর্যালোচনা করে এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে দেশী-বিদেশী সাতটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে দরপত্রের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি যৌথভাবে কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং দি জিএসআই গ্রুপ এলএলসিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য মনোনীত করে।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আগামী বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদনের পর নির্মাতা সংস্থার সাথে খাদ্য বিভাগের চুক্তি হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। তারপরই সাইলো নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

 



আরো সংবাদ