১৯ জুন ২০২১
`

সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যে দ্রুত বাড়ছে করোনা

-

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু দুটোই হু হু করে বাড়ছে। দেশটির মহামারী এখন ক্রমশ পূর্ব দিকে এগোচ্ছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে। শীর্ষনিউজ।
আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহার- পূর্ব ভারতের এই পাঁচটি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যগুলোর কর্মকর্তাদের সাথে আপৎকালীন বৈঠকের পরই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই রাজ্যগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দক্ষিণ, পশ্চিম বা উত্তর ভারতের তুলনায় পূর্ব ভারতের পরিস্থিতি এতদিন কিছুটা ভালো ছিল। কিন্তু তা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে ইঙ্গিত পাওয়ার পরই বুধবার বিকেলে পূর্বের পাঁচটি রাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় আমলা ও বিশেষজ্ঞরা।
পরে রাতে দিল্লিতে জারি করা এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, যাবতীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ দিকনির্দেশ করছে যে, কোভিড মহামারী এখন ক্রমশ পূর্ব দিকে এগোচ্ছে। দেশের পূর্ব প্রান্তের এই রাজ্যগুলোতে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যেমন বাড়ছে মৃত্যু হারও। বিহারে সোমবারেও মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল সাড়ে ১১ হাজার। গত মাসের শেষ সপ্তাহেও সেই গড় ছিল ১০ হাজারের নিচে। অথচ বৃহস্পতিবার সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারে পৌঁছেছে। রাজ্যে ১৫ মে পর্যন্ত জারি করা হয়েছে লকডাউন।
আসামে সপ্তাহদুয়েক আগেও দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজারের নিচে। এখন তা পাঁচ হাজারের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। পশ্চিমবঙ্গেও মাত্র দিন দশেক আগেও প্রতিদিন ১০-১২ হাজার করে নতুন কোভিড রোগী শনাক্ত হচ্ছিলেন। এখন সেখানেও দৈনিক সংক্রমণ ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
গ্লোবাল টাইমসের রিপোর্ট
এদিকে ভারতে করোনাভাইরাসের যে ভ্যারিয়েন্ট তাণ্ডব চালাচ্ছে তা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, সীমান্তে কঠিন নিয়ন্ত্রণ এবং ভাইরাসবিরোধী পদক্ষেপ না নিলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোও ভয়াবহ অবস্থায় পড়তে যাচ্ছে। কারণ এ অঞ্চলে এখনো ভ্যাকসিন কার্যক্রম বেশিদূর আগায়নি এবং দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানও ভালো নয়।
গত বুধবার নেপালে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৬০০ কোভিড রোগী। এক টানা সাত দিন দেশটিতে সাত হাজারের বেশি কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটির সরকার নানামুখী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
বাংলাদেশে গত মার্চ থেকে কোভিড সংক্রমণের উচ্চ হার দেখা যায়। তবে তা এখন কমে এসেছে। ৭ এপ্রিল এক দিনে সর্বোচ্চ সাত হাজার ৬২৬ জনের কোভিড শনাক্ত হয় বাংলাদেশে। তবে বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা ছিল এক হাজার ৮২২।
বাংলাদেশ ও নেপাল আগেই ভারতের সাথে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কাও গত বৃহস্পতিবার ভারতের সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করেছে। সংক্রমণ থামাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এখন সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর উপায় নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে ভ্যাকসিন কার্যক্রমও বৃদ্ধি করতে হবে বলে তারা মত দিয়েছেন।

 



আরো সংবাদ