২০ জুন ২০২১
`
আল-কুদ্স দিবস উপলক্ষে ওয়েবিনার

ফিলিস্তিনিদের মুক্তির একমাত্র পথ অব্যাহত প্রতিরোধ

-

আন্তর্জাতিক আল-কুদ্্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের মুক্তির একমাত্র পথই হলো জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রতিরোধ।
গতকাল আল-কুদস কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও আল-কুদ্্স কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এম শমশের আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মাদ রেজা নাফার। আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ সিদ্দিকুর রহমান খান, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী স¤পাদক জামাল উদ্দিন বারী, ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা এ কে এম মাহবুবুর রহমান ও দৈনিক আজকের ভোলার স¤পাদক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শওকত হোসেন। ওয়েবিনার সঞ্চালনায় ছিলেন আল-কুদ্্স কমিটি বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মোস্তফা তারেকুল হাসান। কুরআন তেলাওয়াত করেন কারি এ কে এম ফিরোজ।
ড. এম শমশের আলী বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিকামী দেশ এবং সবসময় শান্তির পক্ষে কথা বলে আসছে। বাংলাদেশের একটি সুন্দর নীতি রয়েছে যে, সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো প্রতিই শত্রুতা নয়। তিনি যুবকদের জন্য আয়োজিত একটি বিজ্ঞান কনফারেন্সে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, সে কনফারেন্সের আলোচনার একটি বিষয় ছিল পারমাণবিক শক্তির বিধ্বংসী ব্যবহার নয় যেটি হিরোশিমা-নাগাশাকির ক্ষেত্রে ঘটেছিল, বরং পারমাণবিক শক্তির ইতিবাচক ব্যবহার করতে হবে। তিনি হল্যান্ডে আয়োজিত আরেকটি কনফারেন্সের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে তিনি লর্ড নোয়েল বেকারের সাক্ষাৎ লাভ করেন যিনি লিগ অব ন্যাশন্সের প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন, তিনি বলেন, আমি বাদশাহ আবদুল আজিজকে বলেছিলাম যে, ইসরাইলিরা এখানে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আবদুল আজিজ জবাব দেন, ইহুদিরা যেহেতু জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেক উন্নত তাই তারা যদি আমাদের পাশে আসে তাহলে আমরা শুধু উপকৃতই হবো। কিন্তু তারা এটি চিন্তা করেনি যে, এতে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভূমিতেই উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
মোহাম্মদ রেজা নাফার বলেন, মহানবী সা: বলেছেন : ‘যদি কোনো মুসলমান অপর কোনো মুসলমানকে আহ্বান করে আর সে তার ডাকে সাড়া না দেয় তবে সে মুসলমান নয়।’ এ হাদিস অনুযায়ী ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের আহ্বানের বিষয়টি আমাদের স্মরণ করা উচিত। পৃথিবীব্যাপী করোনা মহামারীর মধ্যে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য এই ওয়েবিনারের মাধ্যমে আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের কাছে এ বার্তাই পৌঁছাতে চাই যে, ফিলিস্তিন ইস্যু আজো জীবন্ত।
তিনি বলেন, ২০২০ সালে ইসরাইল বিশ্বের ১৬০টি দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ২০টি দেশে এখনো ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেনি যাদের মধ্যে বাংলাদেশ ও ইরান রয়েছে। ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরো বলেন, আল-কুদ্স হলো মুসলিম বিশ্বের জন্য রেডলাইন। কারণ, এটি অনেক নবী-রাসূলের জন্মভূমি, মহানবীর মেরাজ যাত্রার সূচনা ও মুসলমানদের প্রথম কিবলা যেটি জায়নবাদীরা দখল করে আছে। ইমাম খোমেইনি কর্তৃক আল-কুদ্স দিবস ঘোষণা ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রতীক।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অপরিবর্তনীয় ও অফিসিয়াল সুস্পষ্ট অবস্থান হলো দখলদার জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে। ইরান ফিলিস্তিনিদের সর্বব্যাপী স্বাধীনতার সমর্থক। ফিলিস্তিনিদের মুক্তির একমাত্র পথই হলো জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রতিরোধ। ফিলিস্তিনিদের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে, বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়া ফিলিস্তিনিদেরকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে, জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ঘোষণা করতে হবে। রেজা নাফার বলেন, মহান আল্লাহর অনুগ্রহে আগামী ২০ বছর পরে ইসরাইল নামক কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব এ অঞ্চলে থাকবে না।
সভাপতির বক্তব্যে ড. কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার, নির্যাতনের মধ্যে পার করছে। অনেকে শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। শিশুহত্যা, দেশ থেকে বিতাড়ন, নির্যাতন সব কিছুরই শেষ রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেইনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আল-কুদ্্স দিবস ঘোষণা করেন যাতে মাজহাব নির্বিশেষ সবাই ফিলিস্তিন ইস্যুতে একত্র হতে পারে।আন্তর্জাতিক আল-কুদ্্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের মুক্তির একমাত্র পথই হলো জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রতিরোধ।
গতকাল আল-কুদস কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও আল-কুদ্্স কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এম শমশের আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মাদ রেজা নাফার। আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ সিদ্দিকুর রহমান খান, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী স¤পাদক জামাল উদ্দিন বারী, ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা এ কে এম মাহবুবুর রহমান ও দৈনিক আজকের ভোলার স¤পাদক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শওকত হোসেন। ওয়েবিনার সঞ্চালনায় ছিলেন আল-কুদ্্স কমিটি বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মোস্তফা তারেকুল হাসান। কুরআন তেলাওয়াত করেন কারি এ কে এম ফিরোজ।
ড. এম শমশের আলী বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিকামী দেশ এবং সবসময় শান্তির পক্ষে কথা বলে আসছে। বাংলাদেশের একটি সুন্দর নীতি রয়েছে যে, সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো প্রতিই শত্রুতা নয়। তিনি যুবকদের জন্য আয়োজিত একটি বিজ্ঞান কনফারেন্সে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, সে কনফারেন্সের আলোচনার একটি বিষয় ছিল পারমাণবিক শক্তির বিধ্বংসী ব্যবহার নয় যেটি হিরোশিমা-নাগাশাকির ক্ষেত্রে ঘটেছিল, বরং পারমাণবিক শক্তির ইতিবাচক ব্যবহার করতে হবে। তিনি হল্যান্ডে আয়োজিত আরেকটি কনফারেন্সের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে তিনি লর্ড নোয়েল বেকারের সাক্ষাৎ লাভ করেন যিনি লিগ অব ন্যাশন্সের প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন, তিনি বলেন, আমি বাদশাহ আবদুল আজিজকে বলেছিলাম যে, ইসরাইলিরা এখানে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আবদুল আজিজ জবাব দেন, ইহুদিরা যেহেতু জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেক উন্নত তাই তারা যদি আমাদের পাশে আসে তাহলে আমরা শুধু উপকৃতই হবো। কিন্তু তারা এটি চিন্তা করেনি যে, এতে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ভূমিতেই উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
মোহাম্মদ রেজা নাফার বলেন, মহানবী সা: বলেছেন : ‘যদি কোনো মুসলমান অপর কোনো মুসলমানকে আহ্বান করে আর সে তার ডাকে সাড়া না দেয় তবে সে মুসলমান নয়।’ এ হাদিস অনুযায়ী ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের আহ্বানের বিষয়টি আমাদের স্মরণ করা উচিত। পৃথিবীব্যাপী করোনা মহামারীর মধ্যে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য এই ওয়েবিনারের মাধ্যমে আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের কাছে এ বার্তাই পৌঁছাতে চাই যে, ফিলিস্তিন ইস্যু আজো জীবন্ত।
তিনি বলেন, ২০২০ সালে ইসরাইল বিশ্বের ১৬০টি দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ২০টি দেশে এখনো ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেনি যাদের মধ্যে বাংলাদেশ ও ইরান রয়েছে। ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরো বলেন, আল-কুদ্স হলো মুসলিম বিশ্বের জন্য রেডলাইন। কারণ, এটি অনেক নবী-রাসূলের জন্মভূমি, মহানবীর মেরাজ যাত্রার সূচনা ও মুসলমানদের প্রথম কিবলা যেটি জায়নবাদীরা দখল করে আছে। ইমাম খোমেইনি কর্তৃক আল-কুদ্স দিবস ঘোষণা ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রতীক।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অপরিবর্তনীয় ও অফিসিয়াল সুস্পষ্ট অবস্থান হলো দখলদার জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে। ইরান ফিলিস্তিনিদের সর্বব্যাপী স্বাধীনতার সমর্থক। ফিলিস্তিনিদের মুক্তির একমাত্র পথই হলো জায়নবাদীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত প্রতিরোধ। ফিলিস্তিনিদের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে, বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়া ফিলিস্তিনিদেরকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে, জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ঘোষণা করতে হবে। রেজা নাফার বলেন, মহান আল্লাহর অনুগ্রহে আগামী ২০ বছর পরে ইসরাইল নামক কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব এ অঞ্চলে থাকবে না।
সভাপতির বক্তব্যে ড. কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার, নির্যাতনের মধ্যে পার করছে। অনেকে শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। শিশুহত্যা, দেশ থেকে বিতাড়ন, নির্যাতন সব কিছুরই শেষ রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেইনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আল-কুদ্্স দিবস ঘোষণা করেন যাতে মাজহাব নির্বিশেষ সবাই ফিলিস্তিন ইস্যুতে একত্র হতে পারে।



আরো সংবাদ