১৯ জুন ২০২১
`

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটা গাছও আর যেন কাটা না হয়

-

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটার প্রতিবাদের আন্দোলনে নেমেছেন দেশের পরিবেশবিদ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। গতকাল চতুর্থ দিনের মতো তারা উদ্যানের ভেতরে পৃথক পৃথকভাবে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা বলেন, এ উদ্যানের আর একটা গাছও যেন কাটা না হয়।
সকালের দিকে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েসে কর্মরত শাফিয়া আরেফিন গাছ কাটার প্রতিবাদ জানাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেয়েকে সাথে নিয়ে আসেন। মেয়ের গলায় প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘আমাকে অক্সিজেন দাও, আমি বাঁচতে চাই’। আর শাফিয়ার নিজের গলায় প্ল্যাকার্ডে ইংরেজিতে লেখা সেভ দ্য ট্রিজ, সেভ দ্য আর্থ’।
এ সময় তিনি প্রশ্ন করেন, সরকারের হর্তাকর্তারা কোন বিবেকে গাছ কেটে উদ্যানে রেস্টুরেন্ট বানাতে চাচ্ছেন? গ্রিন ভয়েস উদ্যানের সবুজ ধ্বংস করে রেস্টুরেন্ট বা খাবারের দোকান নির্মাণ বন্ধের দাবিতে ছাত্র-যুব সমাবেশের আয়োজন করে।
শাফিয়া বলেন, করোনার এ সময়ে মেয়েকে বাইরে আনার ঝুঁকি আছে, কিন্তু মনে হলো বাঁচতেই তো দিচ্ছে না। ঘরে বসে থেকে তো লাভ নেই। আর পরবর্তী প্রজন্ম জানতে চাইতে পারে, ‘গাছ কাটার কথা শুনে তুমি কী করেছ’? তাই প্রতিবাদ করার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছি। আমাদের অধিকারের কথা আমাদেরই বলতে হবে।
সমাবেশ শেষে স্থপতি ইকবাল হাবিব, গ্রিন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির, গ্রিন সেভার্সের সভাপতি আহসান রনিসহ অন্যরা কাগজে লেমিনেটিং করে ফিতা দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ, বীর প্রতীকসহ খেতাবপ্রাপ্ত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম লিখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছে গাছে তা টাঙিয়ে দেয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
গাছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম লাগানোর সময় স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, বিখ্যাত, বিজ্ঞ ব্যক্তিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। তাতে খাবারের দোকান, শৌচাগারসহ এ ধরনের কোনো স্থাপনা বানানোর কথা ছিল না। প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের নাম দিয়ে দুর্বৃত্তায়ন করে খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে এ উদ্যানের ঐতিহাসিক সত্যতাকে বৃদ্ধাঙুলি দেখানো হচ্ছে। তিনি গাছ কাটার প্রতিবাদ চলমান রাখার ঘোষণা দেন।
আহসান রনি বলেন, গাছগুলোকে বাঁচানোর স্বার্থেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে গাছগুলোর নামকরণ করা হলো। গাছগুলো এই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করছে। সমাবেশে গ্রিন ভয়েসের পক্ষ থেকে উদ্যানের সবুজ ধ্বংস করে রেস্টুরেন্ট নির্মাণ বন্ধ করা এবং গাছ কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
গ্রিন ভয়েসের সমাবেশে সেভ ফিউচার বাংলাদেশ নামে আরেকটি সংগঠনের প্রতিনিধিরাও একাত্মতা প্রকাশ করেন। এর বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের উন্মুক্ত মঞ্চের প্রতিনিধিরাও নানাভাবে প্রতিবাদ জানানো অব্যাহত রেখেছেন। বিকেল ৩টার দিকে সাংস্কৃতিক কর্মীরা উদ্যানের ভেতরে অক্সিজেন মাস্ক ও মুখোশ পরে গাছ কাটার প্রতিবাদ করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন অনন্যা, নুতফা, শিশির, সুজিত সচিব, রাতুল মিজান, বাবু, আতিয়ার ও দাশ পৃথি।

 



আরো সংবাদ