০৮ মে ২০২১
`

সপ্তাহের শেষ দিনও বাড়ল সূচক ও লেনদেন

-

সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সামান্য বেড়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজারের সূচক। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরুর পর গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ষষ্ঠ লেনদেন দিবস, আর এই ছয় দিনই সূচক বেড়েছে পুঁজিবাজারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১১ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ৪৩৫ দশমিক ০৩ পয়েন্ট হয়েছে। ডিএসইতে লেনদেনও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। ৮৮৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এ দিন, যা আগের কর্মদিবসের চেয়ে ১০৬ কোটি টাকা বেশি। ঢাকার বাজারে এ দিন লেনদেন হয়েছে ৩৫৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট, যার মধ্যে ১৪৩টির দর বেড়েছে, ১৩৫টির কমেছে এবং ৭৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইতে গতকাল বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানি হলোÑ বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, বিডি ফাইন্যান্স, রবি অজিয়াটা, বিএটিবিসি, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, লাফার্জহোলসিম, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও স্কয়ার ফার্মা। দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলোÑ ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল ফিড মিল, শাইনপুকুর সিরমিক, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, নাহী অ্যালুমিনিয়াম, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, তাকাফফুল ইন্স্যুরেন্স, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ও পিপলস ইন্স্যুরেন্স। সবচেয়ে বেশি দর হারানো ১০ কোম্পানি হলোÑ প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, এমআই সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, এমারেল্ড ওয়েল, জি কিউ বলপেন, জেনারেশন নেক্সট, এনভয় টেক্সটাইল, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ ও ফারইস্ট ফাইন্যান্স।
অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই এদিন ১২ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা দশমিক ০৭ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৭২৩ দশমিক ৬০ পয়েন্ট হয়েছে। সিএসইতে ৩৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে তিন কোটি টাকা বেশি। এ বাজারে লেনদেন হওয়া ২৪৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০২টির দর বেড়েছে, ৯৫টির কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ডিএসইর ট্রেক পেতে ৬৬ আবেদন, বাতিল ১৫ : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) পেতে ৬৬ প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১৫টি আবেদন বাতিল করে ৫১টি চূড়ান্ত করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এই ৫১টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত ডিএসইর পর্ষদ সভায় ট্রেক ইস্যুর লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথম দফায় আবেদনের সময় নির্ধারণ করা হয় ১৮ মার্চ। পরে তা আরো ১০ দিন বাড়িয়ে ২৮ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে মোট ৬৬টি প্রতিষ্ঠান ট্রেকের জন্য আবেদন করে।
ট্রেক হলো শেয়ারবাজারে লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান। যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের লেনদেন করবেন। এ হিসেবে ট্রেক অনেকটাই ব্রোকার হাউজের মতো। তবে ট্রেকের মালিকরা ব্রোকারেজ হাউজের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার পাবে না।
গত বছরের ২৪ মার্চ ‘ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট বিধিমালা ২০২০’ খসড়া করে তা জনমত যাচাইয়ের জন্য মতামত চায় বিএসইসি। এ খসড়া চূড়ান্ত করতে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হয়। পরে ১২ নভেম্বর ট্রেক বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এ বিধিমালা অনুযায়ী, এক্সচেঞ্জের প্রত্যেক প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডার ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইনের আওতায় একটি করে ট্রেক (ব্রোকারেজ হাউজ) পাওয়ার অধিকার রাখেন।
প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডারদের বাইরে ট্রেক পাওয়ার যোগ্যতার শর্তে রাখা হয়েছেÑ কোম্পানি, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কমিশন থেকে অনুমোদন সেসব প্রতিষ্ঠান যাদের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা তারা ট্রেক পাওয়ার যোগ্য হবেন।
তবে দেশী-বিদেশী শেয়ারহোল্ডারের যৌথ উদ্যোগে গঠিত কোনো কোম্পানি আবেদন করলে তার ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৮ কোটি টাকা হতে হবে। আর সম্পূর্ণ বিদেশী শেয়ারহোল্ডারের মালিকানাধীন কোনো কোম্পানি আবেদন করলে তার ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা হতে হবে।
গেজেটে তিন ক্ষেত্রেই আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদের পরিমাণ সব সময় পরিশোধিত মূলধনের ৭৫ শতাংশের বেশি থাকতে হবে বলে শর্ত রাখা হয়েছে। ট্রেক পাওয়ার জন্য এক লাখ টাকা ফি দিয়ে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। এই ফি ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে এক্সচেঞ্জ বরাবর জমা দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে এক্সচেঞ্জ ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে তা মঞ্জুর করবে অথবা বাতিল করবে। আবেদন মঞ্জুর হলে নিবন্ধন ফি বাবদ এক কোটি টাকা এক্সচেঞ্জ বরাবর ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার করতে হবে।



আরো সংবাদ