১২ এপ্রিল ২০২১
`

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

-

টানা তিন কার্যদিবসে বড় উত্থানের পর গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব ক’টি মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে।
পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৬৬ কোম্পানির শেয়ার দামের সর্বনিম্ন সীমা বা ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় এই দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, বিএসইসি লকডাউনের মধ্যে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। যে কারণে টানা তিন কার্যদিবস বাজারে বড় উত্থান হয়। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে হঠাৎ ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের আতঙ্কে দেখা দেয়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে।
৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ার আগে লকডাউনের মধ্যে টানা তিন কার্যদিবস শেয়ারবাজরে বড় উত্থান হয়। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় আড়াই শ’ পয়েন্ট বেড়ে যায়। আর বাজার মূলধন বাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকার উপরে।
এ পরিস্থিতিতে গত বুধবার কমিশন সভা করে তালিকাভুক্ত ৬৬ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে ও শেয়ারবাজারের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে এই কোম্পানিগুলোর ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানায় বিএসইসি। বিএসইসির এই সিদ্ধান্তের পর রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা কড়া সমালোচনা করতে থাকেন। গতকাল লেনদেনের শুরুতেই একের পর এক প্রতিষ্ঠানের দরপতন হতে থাকে। এতে ৫ মিনিটেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৬০ পয়েন্ট পড়ে যায়। সময়ের সাথে বাড়ে পতনের মাত্রা। এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৪ পয়েন্টে নেমে যায়। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারটিতে দিনভর লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬৪টির। আর ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
মূল্যসূচকের পতনের সাথে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৭৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৫৮২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবির ২৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ২০ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑ প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং বেক্সিমকো ফার্মা। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২০৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির দাম।
ব্লক মার্কেট : গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে ১৯টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির ১৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোম্পানিগুলোর ৫৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮১টি শেয়ার ৪৭ বার হাত বদল হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর ১৮ কোটি ৪৫ লাখ ২৭ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ তিন কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে সিটি ব্যাংকের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিন কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকার গ্রামীণফোনের এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ তিন কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে উত্তরা ব্যাংকের।

 



আরো সংবাদ