১২ এপ্রিল ২০২১
`
কড়াইল বস্তির ঝিলে মা-ছেলের লাশ

পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রী ও সন্তানকে খুনের পর লাশ গুম করে রুবেল

-

পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রী ও সন্তানকে খুনের পর লাশ গুম করে রুবেল। কড়াইল বস্তির ঝিল থেকে মা-ছেলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার স্বামী রুবেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এ কথা জানিয়েছে। স্ত্রী-সন্তান হত্যাকাে র ঘটনায় গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়া কাঁচামালের আড়তের সামনে থেকে র্যাব-১ এর সদস্যরা গ্রেফতার করে রুবেলকে। ৪ এপ্রিল সে স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী (ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা) প্রদান করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই শাহ সিরাজ উদ্দিন জানান, গত ২৩ মার্চ রাত ২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় স্ত্রী হাসি খাতুন এবং ছেলে নিরবকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে কড়াইল বস্তির পেছনে ঝিলে ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় হাসি খাতুনের বাবা বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে রুবেল জানায়, হাসি খাতুন অন্য লোকের সাথে পরকীয়া করত। এ জন্য তাকে খুন করেছে। আর ছেলে নিরব যদি তার মায়ের সাথে কড়াইল বস্তিতে থাকে তাহলে ছেলেকে মানুষ করতে পারবে না। আবার নিজের কাছে ছেলেকে নিয়ে যেতে পারবে না। স্ত্রী-ছেলে দু’জনকেই গলাটিপে একাই হত্যা করে সে।
তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। রুবেল হয়তো নিজেকে এড়াতে তার স্ত্রীর ওপর দায়ভার চাপাতে চাচ্ছেন। সব কিছু নিয়ে তদন্ত চলছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে খুনের আসল রহস্য জানা যাবে।
হাসি খাতুন ও ছেলে নিরবকে হত্যাকাে র ঘটনায় হাসির বাবা মো: হাতেম গত ২৪ মার্চ বনানী থানায় রুবেলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সাত বছর আগে হাসির সাথে বিয়ে হয় রুবেলের। পাঁচ বছর বয়সী ছেলে নিরবকে নিয়ে রুবেল ও হাসি কড়াইল বস্তিতে বাস করতেন। ৫ মাস আগে তারা ঢাকা ছেড়ে কুমিল্লার বাড়িতে চলে যান। শ্বশুর বাড়িতে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ছেলে নিরবকে নিয়ে ১৯ মার্চ ঢাকায় চলে আসেন হাসি। ২২ মার্চ রুবেলও ঢাকায় আসেন স্ত্রী ও ছেলেকে ফিরিয়ে নিতে। এ কথা শুনে হাসি ছেলেকে নিয়ে বাসা থেকে চলে যান। হাসির মা ও ভাইবোন তাকে বুঝিয়ে বাসায় নিয়ে আসেন। ২৩ মার্চ রাত ২টা পর্যন্ত হাসি ও রুবেলের মধ্যে সাংসারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলে। হাসির বোন বৈশাখীর সাথে ঘুমিয়ে ছিল নিরব। ভোর ৪টার দিকে রুবেল বৈশাখীকে ডেকে জানায়, হাসি অন্য ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে। এরপর নিরবকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায় সে। হাসিকে খুঁজতে যাচ্ছে বলে জানায়। আধা ঘণ্টা পর রুবেল বাসায় এসে বৈশাখীর কাছে ২০০ টাকা চায়। নিরবকে নিয়ে কুমিল্লা চলে যাবে বলে জানায়। নিরব কোথায়, বৈশাখী জানতে চাইলে রুবেল বলে, ওকে চায়ের দোকানে বসিয়ে রেখে এসেছি। বৈশাখীর কাছে টাকা না পেয়ে শ্যালক মেহেদীর কাছে ৫০০ টাকা নিয়ে চলে যায় রুবেল।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্বশুর হাতেম এবং বৈশাখীকে ফোন দিয়ে রুবেল জানায় হাসি ও ছেলে নিরবকে মেরে ফেলেছে সে। বাসার পেছনে বিলের মধ্যে খোঁজ করলে হাসি ও নিরবের লাশ পাওয়া যাবে বলে জানায় সে। পরে তল্লাশি করে ঝিলে হাসির ও নিরবের লাশ খুঁজে পান স্বজনরা।



আরো সংবাদ