১৫ এপ্রিল ২০২১
`

গাইবান্ধায় ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের পরিবারের পাশে জামায়াত

-

গত ৪ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে অসংখ্য বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। এ সময় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ মোট ১২ জন নিহত হন। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের ১২টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গতকাল আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। নিহতদের পরিবারের সাথে সশরীরে সাক্ষাৎ করে এ সহযোগিতা প্রদান করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এ সময় গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের দায়িত্ব ছিল এসব ক্ষতিগ্রস্ত দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সরকারের উদাসীনতার কারণে এ সব ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারগুলো কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পায়নি। জামায়াতে ইসলামী তার সামর্থ্যরে আলোকে এসব অসহায় পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। দুঃখ-কষ্টের সময় আল্লাহর সাহায্য চাইতে হয়। আল্লাহর রাসূল সা. এটাই শিক্ষা দিয়েছেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য ও গাইবান্ধা জেলার সাবেক আমির ডা: আব্দুর রহীম সরকার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অন্যতম সদস্য, গাইবান্ধা জেলা শাখার আমির ও গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো: আব্দুল করিম, জেলা নায়েবে আমির ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহুরুল হক সরকার, জেলা কর্মপরিষদের সদস্য ফয়সাল কবির রানা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আমির মো: শহিদুল ইসলাম মঞ্জু, সদর উপজেলা আমির ডা: আব্দুল হামিদ, পলাশবাড়ী উপজেলা আমির আবু বকর সিদ্দিক, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুল বারী, সদর উপজেলা সেক্রেটারি নুরুন্নবী সরকার প্রমুখ।
আর্থিক সহযোগিতাপ্রাপ্ত পরিবারগুলো হলো গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়নের সরকারতারি গ্রামের জোসনা রানী (৬০), হরিনসিংহা তিনগাছের তল গ্রামের শিশু মনির মিয়া (৫), আরিফ খাঁ বাসুদেবপুর গ্রামের আরজিনা (২৮) ও মালিবাড়ি ইউনিয়নের ধনধনি গ্রামের সাহারা বেগম (৪০), গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামের নববধূ শারমিন বেগম (২০), গোবিন্দগঞ্জ বালুয়াহাটের জাহিদুল ইসলাম (৪৩), পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের ডাকেরপাড়া গ্রামের জাহানারা বেগম (৫০), একই ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের গাফ্ফার মিয়া (৪২) ও মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের মমতা বেগম (৫৫), ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারি গ্রামের শিমুলি আকতার (২৭) ও এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ডাকাতিয়ার চর গ্রামের হাফেজ উদ্দিন (৪৪) এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামের ময়না বেগম (৪০)।
নেতাকর্মী গ্রেফতারের প্রতিবাদ : অপর এক বিবৃতিতে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভাণ্ডার ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মোজাম্মেল হক বাবুলসহ ৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৬ এপ্রিল রাত ১০টায় মোজাম্মেল হক বাবুলসহ ৯ জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো ধরনের বৈঠক বা আলোচনা সভা ছিল না। অথচ পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। আমি পুলিশের এই অন্যায় গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, সরকার মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির মুহূর্তে বেশ কিছু দিন হলো সারা দেশে গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছে। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সরকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জুলুম-নিপীড়নের পরিণতি কখনো শুভ হয় না। ভিন্নমতের মানুষকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ওপর জুলুম-নিপীড়ন চালিয়ে সরকার বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। অবিলম্বে জুলুম-নিপীড়ন বন্ধ করে জনাব মোজাম্মেল হক বাবুলসহ জামায়াতে ইসলামীর গ্রেফতারকৃত সব নেতাকর্মীকে মুক্তি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি।



আরো সংবাদ