১২ এপ্রিল ২০২১
`
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

কারাগারে রফিকুল ইসলাম মাদানি

-

শিশুবক্তাখ্যাত মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানির (২৬) নামে বুধবার রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানায় মামলা হয়েছে। র্যাব-১ এর নায়েব সুবেদার (ডিএডি) মো: আব্দুল খালেক বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি মাওলানা রফিকুল ইসলামকে গতকাল বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তায় গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাত ১০টায় তাকে নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার লেটিরকান্দা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে র্যাব।
তার বিরুদ্ধে গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৮ ও ৩১ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে আক্রমণাত্মক ও মিথ্যা ভীতি প্রদর্শন; তথ্য উপাত্ত ইলেকট্রনিক্স বিন্যাসে প্রকাশ ও সম্প্রচার করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটনানোর’ অভিযোগ আনা হয়েছে। আলামত হিসেবে তার কাছ থেকে উদ্ধার দেখানো হয়েছে চারটি মোবাইল ফোন। মামলায় তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা-জয়দেবপুর রোডের ওয়ারলেস এলাকায় অবস্থিত মারকাজুল নূর আল ইসলামী মাদরাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এই মাদরাসার পরিচালক। গতকাল মাদরাসাটিতে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ধৃত আসামি বিভিন্ন সময় দেশ ও সমাজের জন্য ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় এরূপ উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলাসহ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এছাড়াও আসামি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণœ করা, বাংলাদেশে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘœ ঘটানো, আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা, প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে শত্রুতামূলক মনোভাব ও সরকারের প্রতি ঘৃণার ভাব সৃষ্টিমূলক বক্তব্য প্রদান করে দেশের সরল ও ধর্মানুরাগী মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। আসামি গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা থেকে ১০টায় জিএমপি, গাজীপুরের গাছা থানাধীন বোর্ড বাজার সাকিনস্থ কলমেশ্বর শীতক ফ্যাক্টরির ভেতর ওয়াজ মাহফিলে বক্তা হিসেবে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্র তথা সরকার বিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদান করে যা তার নির্দেশে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এজাহারে আসামির এসব প্রদত্ত বক্তব্যের মধ্যে কিছু বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। এতে আরো বলা হয়, ‘ওই আসামি প্রচলিত আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। আসামির এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্যের ফলে তার অনুসারী কর্তৃক গত ২৬ মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সংঘটিত হয়।’
এদিকে গাজীপুর জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন খান মামলা ও গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, মাওলানা রফিকুল ইসলামকে আদালতে তোলার আগে তাকে কোনো আইনি সহায়তা গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ওকালতনামা জমা দিতে পারেননি। তাকে আদালতে নেয়ার আগেই শতাধিক পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আদালত ঘিরে অবস্থান নেয়।
মাদরাসায় তালা : গাজীপুর মহানগরের বাড়িয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে মারকাজুন নূর আল ইসলামিয়া নামে একটি আবাসিক মাদরাসা রয়েছে। হাফেজ ক্কারী মো: রফিকুল ইসলাম মাদানি ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও পরিচালক। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিন মাদরাসা ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে মাদরাসাটির প্রাধান ফটকে ভেতর থেকে দু’টি তালা ঝুলছে।
রফিকুল ইসলাম মাদানির মুক্তি দাবিতে তিন শতাধিক আলেম-ওলামার বিবৃতি
নেত্রকোনা সংবাদদাতা জানান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানিকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে তিন শতাধিক আলেম-ওলামা এবং হেফাজত ইসলামের নেতৃবৃন্দ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন জামিয়া মাহমুদিয়া হাসেমিয়া মাদরাসার মুহতামিম নেত্রকোনা জেলা হেফাজত ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আলেমে দ্বীন মুফতি মুহাম্মদ তাহের কাসেমী, জামিয়া মিফতাহুল উলুম মাদরসার মুফতামিম মাওলানা মো: আবুল কাসেম, জামিয়া নূরীয়া দারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মো: সিরাজুল ইসলাম, জামিয়া হুসাইনিয়া মালনী মাদরাসার মুফতামিম জেলা হেফাজত ইসলামের শূূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, জেলা হেফাজত ইসলামের শূরা সদস্য হাফেজ মাওলানা মো: দেলোয়ার হোসাইন, মাওলানা মো: আব্দুর বারী, মাওলানা আসাদুর রহমান আকন্দ, জেলা খেলাফত যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক মো: আব্দুর রহিম, মাওলানা শরীফ উদ্দিন, মাওলানা মো: ইউনূস, মাওলানা আবু সায়েম খান, মাওলানা মাজহারুল ইসলামসহ তিন শতাধিক আলেম-ওলামা ও হেফাজত নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে আলেম-ওলামারা বলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক সাজানো মামলা দিয়ে এখন চরিত্র হননের অপচেষ্টা চলছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানচ্ছি। একই সাথে আমরা অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহার ও দ্রুত নিঃস্বার্থ মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

 



আরো সংবাদ