১৭ এপ্রিল ২০২১
`
বিভিন্ন সংগঠনের দাবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন

-

অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল পৃথক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।
ওয়ার্কার্স পার্টি : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা বলেছেন, সাইবার ক্রাইম অ্যাক্ট বাতিল, অথবা ন্যূনপক্ষে তার নিপীড়নমূলক ধারাগুলো বাতিলের বিষয়ে যে দাবি উত্থাপিত হয়েছে তার ভিত্তিতে উচ্চ আইনের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা আশু জরুরি হয়ে পড়েছে। ১৪ দলেও এর পর্যালোচনা বিশেষ প্রয়োজন। পলিটব্যুরোর গতকালের এক সভায় নেতারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। নেতারা আরো বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি এ আইন প্রণয়নের সময়ই এর নির্দিষ্ট ধারাগুলো সম্পর্কে তার প্রবল আপত্তির কথা উত্থাপন করেছিল। এ আইন পাস করার সময় আইনমন্ত্রী এর অপপ্রয়োগ রোধ ও প্রয়োজনে ওই সব ধারা পর্যালোচনার কথা বলেছিল, যা তিনি সম্প্রতি সময়েও উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিতে এ আইনের পর্যালোচনা করে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সভায় আহ্বান জানান হয়। পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সভায় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, মাহমুদুল হাসান মানিক, নুর আহমদ বকুল, কামরুল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সিপিবি : আটক ছাত্রনেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে গতকাল প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি। সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ কাফী রতন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল কাদের, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি জিয়া হায়দার ডিপটি, ছাত্রনেতা সাখাওয়াত ফাহাদ, মমতা চক্রবর্তী। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সম্পাদক জলি তালুকদার।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। যেখানে আমরা এ সমাবেশ আয়োজন করেছি সেখানে ১৯৭৩ সালে পুলিশ গুলি করে ছাত্র ইউনিয়নের মতিউল ও কাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম, যার হাত সন্তানের রক্তে রঞ্জিত তাকে জাতির পিতা আমরা মানি না। এটা কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কথা ছিল না, এটা ছিল সরকারের সমালোচনা। আজকে ক্ষমতায় থাকার জন্য শেখ হাসিনা রাষ্ট্র, সরকার সব এক করে ফেলেছেন। লুটপাটের জন্য গদি রক্ষা করতে হবে। গদি রক্ষা করতেই এ ধরনের নিবর্তনমূলক আইন জারি রাখা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘লেখক, কার্টুনিস্ট, সাংবাদিক, ছাত্রদের আজকে ডিজিটাল আইনে গ্রেফতার করে জেলে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাতের অন্ধকারে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনকে ধীরে ধীরে কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পরিণত করা হয়েছে। যে ৫৭ ধারা মানুষের বাকস্বাধীনতা স্তব্ধ করে দিয়েছিল, যে আইনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন, জনমত তৈরি হয়েছিল, বাতিলের দাবি উঠেছিল সেই ৫৭ ধারারই নতুন সংস্করণ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। সরকার ও রাষ্ট্র এক বিষয় না। সরকারের সমালোচনা জনগণের অধিকার, এই অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।’
কারাগারে আটককৃত জয়তী চক্রবর্তীর মা মমতা চক্রবর্তী বলেন, এটা কি পুলিশের দেশ? নাকি জনগণের দেশ? প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যদি তিনি স্বৈরাচার হন তবে এরশাদের মতো ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দেন অন্যথায় মানুষকে কথা বলার জন্য গ্রেফতার করা যাবে না। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
ছাত্রমিশন : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, কারা অভ্যন্তরে রহস্যজনকভাবে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত, এ আইনে গ্রেফতারকৃত কারাবন্দী সবার মুক্তির দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রমিশন নেতারা বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মুশতাক আহমদকে হত্যা করা হয়েছে। বাকস্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করতে ফ্যাসিবাদী কায়দায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে গণমানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিজিটাল আইনের প্রতিবাদকারীদের দমনে পুলিশ যে বর্বর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে তাতে সরকারের ফ্যাসিবাদী চেহারা আরেকবার উন্মোচিত হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ছাত্রমিশন কার্যালয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ মো: মিলনের সভাপতিত্বে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা বলেন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রমিশন সাধারণ সম্পাদক মো: শরিফুল ইসলাম। এ সময় লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান, ছাত্রমিশনের সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম মামুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান রহমান রিফাত, পাঠাগার সম্পাদক মামুনুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১২ মার্চ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবিলম্বে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশন চার্জ প্রথা বাতিল ও করোনাকালীন বেতন মওকুফের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান হয়।
ছাত্র ইউনিয়ন : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও আটককৃত ছাত্র নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের উদ্যোগে গতকাল শান্তিনগর মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। হাসান ওয়ালীর সভাপতিত্বে ও মাসুদ মেসবাহর সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, কোষাধ্যক্ষ শামীম হোসেন, দফতর সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার রেজা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতা মুক্ত রেজোয়ান প্রমুখ।
দীপক শীল বলেন, ‘সারা দেশে চরম ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। একদিকে যেমন দুর্নীতি, লুটপাটের মহোৎসব চলছে, তেমনিভাবে যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের দমন করা হচ্ছে। জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তা করার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকারকে নির্মমভাবে দমন করা হচ্ছে। করোনার এ এগারো মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে লেখক-সাংবাদিক, নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীসহ প্রায় পাঁচ শ’ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দ্বারা জনমনে এক ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে। একে ভয়ের রাজনীতি বললেও ভুল হবে না বলে মনে করি। বাংলাদেশে আজ ভয়ের রাজনীতি বিরাজ করেছে। এ ভয় সাময়িক। ভয় জয় করে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাবে।’ প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ, স্বৈরাচারী সরকারকে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়।



আরো সংবাদ