১৮ এপ্রিল ২০২১
`

পুঁজিবাজারবহির্ভূত কোম্পানির করহার বাড়ানোর প্রস্তাব

পুঁজিবাজারে আয়করমুক্ত সীমা ১ লাখ চায় বিএসইসি
-

পুঁজিবাজারে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সাথে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির করহার ব্যবধান সাড়ে ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এটিকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএসইসি। শুধু তাই নয়, পুঁজিবাজারে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করারও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সই করা এসব সুপারিশ সংবলিত একটি চিঠি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
সুপারিশের মধ্যে রয়েছেÑ ‘জিরো কুপন বন্ড’-এর মতো সব ধরনের বন্ডের মাধ্যমে আয়ে করমুক্ত সুবিধা প্রদান। ‘সুকুক’ কিংবা ‘অ্যাসেট ব্যাকড সিকিউরিটিজ’ (এবিএস)-এর মাধ্যমে তহবিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে ‘আন্ডার-লায়িং অ্যাসেট ট্রান্সফার’-এর ব্যয় সঙ্কোচন কিংবা এককালীন স্বল্প ফি নির্ধারণ করা। লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানির দ্বৈতকর তথা উৎসে কর প্রত্যাহার করা। পুঁজিবাজারে করমুক্ত আয়সীমা এক লাখ টাকায় উন্নীত করা। মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার ৩৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা। এসএমই কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে প্রথম তিন বছর শূন্য শতাংশ এবং পরবর্তীতে ১৫ শতাংশ রেয়াতি হারে কর নির্ধারণ করা।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ব্যবধান ১৫ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়ে প্রস্তাবে বলা হয়, বিদেশী/বহুজাতিক কোম্পানিসহ ভালো কোম্পানিগুলো যাদের পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনের প্রয়োজন কম এবং যেসব কোম্পানি আর্থিকভাবে সচ্ছল ও সহজশর্তে বৈদেশিক ঋণ নেয়ার সুযোগ রয়েছে, সেসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে বাজেটারি সুবিধা দেয়া দরকার। সে লক্ষ্যে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট করহার যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ৩২.৫ শতাংশ।
প্রস্তাবে বলা হয়, আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ব্যাংক, বীমা বা অন্য কোনা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব করদাতার জন্য ‘জিরো কুপন বন্ড’ থেকে উদ্ভূত আয় করমুক্ত। অন্যান্য বন্ডের গ্রাহকরা এ সুবিধা পান না। এমতাবস্থায়, জিরো বন্ডের প্রযোজ্য করসুবিধা সব ধরনের বন্ডে এবং সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (আর্থিক/অ-আর্থিক ও ব্যক্তিগত/প্রাতিষ্ঠানিক) প্রদান করা যেতে পারে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
‘সুকুক’ কিংবা ‘অ্যাসেট ব্যাকড সিকিউরিটিজ’ (এবিএস)-এর বিষয়ে প্রস্তাবে বলা হয়, এগুলো বিনিয়োগের সময় ও পরবর্তীতে মেয়াদ পূর্তিকালে সম্পদের মূল্যের ওপর রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি ফি, গেইন ট্যাক্স, স্থানীয় সরকার ট্যাক্স ও ভ্যাট বাবদ ১০.৫ শতাংশ হারে দুই দফা স্থানান্তরে ২১ শতাংশ কর/ফি দিতে হয়। ফলে এটি ব্যয়সাপেক্ষ ও বাস্তবসম্মত নয়। এটি দেশের শিল্পায়ন, পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিদ্যমান এ আইনে এ ধরনের সিকিউরিটিজ ইস্যু করা প্রায় অসম্ভব। ফলে সরকারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আয়কর আইনের ৫৪ ও ৫৬ ধারা অনুসারে লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানিগুলোকে মুনাফার ওপর এবং লভ্যাংশ বিতরণের সময় কর দিতে হয়। এ ধরনের দ্বৈত উৎসে কর পরিহার করা হলে কোম্পানিগুলো অধিকতর লভ্যাংশ দিতে পারবে এবং এক স্তর কর কাঠামো হলে কর আদায়প্রক্রিয়া সহজ হবে।
বিএসইসির মতে, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ও ইউনিট ফান্ড থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা এক লাখ টাকা নির্ধারিত হওয়া উচিত। বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং মিউচুয়াল ও ইউনিট ফান্ড থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত আছে।
অন্যান্যের মধ্যে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর করহার বিদ্যমান ৩৭.৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে ২৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা এবং স্বল্প মূলধনী এসএমই কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করতে এসব কোম্পানির করহার প্রথম তিন বছরের জন্য শূন্য শতাংশ এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ১৫ শতাংশ রেয়াতি হারে কর নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বিএসইসি। এসএমই কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বলা হয়েছে, এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারের ‘এসএমই বোর্ড’-এর তালিকাভুক্ত হলে অধিক সংখ্যক কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হবে এবং একটি মানসম্মত করপোরেট কাঠামো ও রিপোর্টিংয়ে অভ্যস্ত হবে, যা থেকে সরকারের প্রত্যক্ষ করের পাশাপাশি পরোক্ষ করও বাড়বে। একই সাথে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর নতুন প্রবর্তিত ‘এসএমই বোর্ড’ বাস্তবায়ন করা অধিকতর সহজ হবে।
চিঠিতে প্রস্তাবগুলোর স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়, বর্তমানে আমাদের পুঁজিবাজার সার্বিক অর্থে ইক্যুইটি-নির্ভর। বিএসইসি পুঁজিবাজারে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যমান বন্ড মার্কেট উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। পুঁজিবাজার উন্নত হলে শিল্পে অর্থায়নের জন্য বর্তমান ব্যাংকনির্ভরতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে এবং তা কাক্সিক্ষত শিল্পায়নে ভূমিকা রাখবে।
জানা গেছে, এর আগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে কর ব্যবধান ছিল ১০ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরে করোনার কারণে এই ব্যবধান কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।



আরো সংবাদ