০৭ মার্চ ২০২১
`

প্রধানমন্ত্রী আপনি প্রথম টিকা নিন : মির্জা ফখরুল

-

সন্দেহ দূর করে সব মানুষের জন্য করোনার টিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রোববার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই দাবি জানান। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে ‘গণ-অভ্যুত্থান দিবসের ডাক স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।
তিনি বলেন, আমরা চাই যে, এ দেশের সব মানুষ টিকা পাক। আমরা প্রথমেই বলেছি, এ দেশের মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দিতে হবে। আমরা এ কথা প্রেস কনফারেন্স করে বলেছি। এমনকি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে এ কথা বলেছেন। আমরা আবারো বলছি, টিকা এ দেশের মানুষ নেবে। তবে এই টিকায় আস্থা আনতে হবে এবং একই সাথে সেটাকে বিনামূল্যে মানুষকে দিতে হবে।
ভারত সরকারের উপহারকৃত টিকার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা প্রায় দেখছি সোশ্যাল মিডিয়াসহ সব জায়গায়Ñ এ ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের যথেষ্ট রকমের সন্দেহ আছে এবং ওই যে গিফট বা উপহার হিসেবে এসেছে সেগুলো নিয়েও মানুষ অনেক কথা বলছে। আমার প্রস্তাব, মানুষের এই যে সন্দেহ, মানুষের যে অনাস্থা এগুলো দূর করার জন্য পৃথিবীর অন্যান্য সভ্য দেশে যা করেছেÑ যুক্তরাজ্যের রানী নিজে প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন, রাশিয়ায় পুতিন নিয়েছেন, আমেরিকায় বাইডেন নিয়েছেন। আমি বলব, প্রধানমন্ত্রী আপনি আজকে প্রথম টিকাটা নিন। নিয়ে মানুষকে বলেন যে, এটাতে ভয়ের কিছু নেই। এটা করুন। তা হলে মন্ত্রীরা করুন, তার এমপিরা করুনÑ টিকাগুলো নিন। তা হলে দেখবেন যে, সব মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সরকার আমাদের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। আজকে দেখুন, করোনার টেস্ট নিয়ে কী খেলা খেলেছে আপনারা সবাই জানেন, সেই রিজেন্ট হসপিটাল থেকে শুরু করে কিভাবে তারা লুট করেছে। আজকে আবার দেখেন ভ্যাকসিন নিয়ে তারা একই কাজ শুরু করেছে। এদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে লুট করা এবং দুর্নীতি-লুট ছাড়া এদের কিন্তু কোনো বিষয়ে কোনো লক্ষ্য থাকে না। আজকে এই ভ্যাকসিনের তারা যে লুট শুরু করেছে, সেই লুটের মধ্য দিয়ে তারা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।
সাধারণ মানুষের জন্য টিকা প্রদানে কোনো রোডম্যাপ সরকার প্রণয়ন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। সর্বক্ষেত্রে জনগণের সাথে সরকার প্রতারণা করছে অভিযোগ করে এ সঙ্কট থেকে উত্তরণে সব রাজনৈতিক দলের বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
‘টিকার জন্য আন্দোলন চাই’
গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী সভায় বলেন, করোনা ভ্যাকসিন বা টিকা আমাদের অধিকার। প্রতিটি জনগণের এই অধিকার রয়েছে। আমি বলি, আমার নাম এলে আমি নিয়ে নেবো। আপনারাও টিকা নিয়ে নেবেন। এটি আমাদের অধিকার। আজকে আমাদের এই টিকা নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এটি ব্যক্তি বিশেষ ২-৪ জনকে নয়, এই টিকা সবাইকে দিতে হবে। রিকশাওয়ালা, কৃষক, আমার ফুটপাথের দোকানদারসহ সবাইকে টিকা দিতে হবে। আজকে এখানে নেতারা আছে, টিকার জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবেÑ বিনা মূল্যে আমরা টিকা চাই।
তিনি বলেন, মানুষের মনে সন্দেহ দূর করতে আমি আবেদন করেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে উনি প্রথমে টিকা নেবেন। আমি তাকে আহ্বান করেছিলাম যে, আপনি ভয় পাবেন না, আমার নাম থাকলে আমিও টিকা নিতে রাজি আছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আগামী বুধবারে টিকা নেবেন না। উনি অন্ধকারে অন্তরীণ থেকে ওখান থেকে আওয়াজ দিয়ে উদ্বোধন করবেন। ভারতেও একই টিকা নরেন্দ্র মোদিও নেননি।
অক্সফোর্ড-অস্ট্রেজেনেকার টিকা প্রসঙ্গে ডা: জাফরুল্লাহ বলেন, অক্সফোর্ড-অস্ট্রেজেনেকার একই টিকা ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিনছে দুই ডলার ৩০ সেন্ট দিয়ে। ভারত সরকার কিনছে দুই ডলার থেকে আড়াই ডলার দিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ কিনছে ৫ ডলার দিয়ে।
কারণটা কী? কারণ হচ্ছে প্রাইভেট কোম্পানি, মিডল ম্যান নিয়ে যাচ্ছে বাকি টাকাটা। এই বাকি টাকার একটা অংশ আবার আমেরিকা চলে যায় কি না, আমি জানি না। সরকার টিকার কেনার ক্ষেত্রে একটা বিশেষ কোম্পানিকে সুবিধা দিচ্ছে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই সরকার গণতন্ত্র দেবে না। মানুষের ভোটের অধিকার দেবে না। যেভাবে পারে সেভাবেই তারা ক্ষমতায় থাকতে চায়। এখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবাইকে নসিহত করছেনÑ দীর্ঘকাল ক্ষমতায় ছিলাম বলে দেশের উন্নতি করতে পেরেছি। তার মানে আরো দীর্ঘকাল উনি ক্ষমতায় থাকতে চান।
তিনি বলেন, আরো দীর্ঘকাল তাকে ক্ষমতায় থাকতে দেবেন? তাকে বিদায় করবেন কিভাবে? উনি এমনে যাবেন? ভোট দিলে যাবেন? না যাবেন না। অতএব একটাই পথ আছে, আমরা মনে করি আরেকটা অভ্যুত্থান লাগবে।
মান্নার সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল্লাহ কায়সারের পরিচালনায় আলোচনা সভায় কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, বিএনপির শওকত মাহমুদ, গণসংহতি জুনায়েদ সাকি, নাগরিক ঐক্যের এস এম আকরাম, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।



আরো সংবাদ