০৭ মার্চ ২০২১
`

বিজেপি ঘেঁষা ডেমোক্র্যাটরা ঠাঁই পাননি বাইডেন প্রশাসনে

-

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগ পেয়েছেন প্রায় ২০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তবে যারা নিয়োগ পাননি, তাদের নিয়েই বরং আলোচনা বেশি। জায়গা হয়নি ওবামা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সোনাল শাহ ও অমিত জানির। যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি আছে কি না তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন উপস্থাপনের জন্য নিজের প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে সম্প্রতি ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার জেরে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে নজিরবিহীন তা-ব চালায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা যখন নভেম্বরের নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শত শত সমর্থক তখন পার্লামেন্ট ভবন ইউএস ক্যাপিটলে ঢুকে পড়ে। খবর : বিবিসি ও রয়টার্সের।
পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত পাঁচজন। শুক্রবার হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাথে সমন্বয়ের ভিত্তিতে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের কার্যালয় এ মূল্যায়নের কাজ করবে। সাকি বলেন, ‘আমরা বাস্তব অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণ চাই, যেন এর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের নীতিমালা নির্ধারণ করতে পারি।’ তিনি আরো জানান, অভ্যন্তরীণ সহিংস উগ্রপন্থা ঠেকাতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে সক্ষমতা তৈরি করবে হোয়াইট হাউজ। হুমকি সম্পর্কে ফেডারেল সরকার কিভাবে আরো ভালো উপায়ে তথ্য আদান-প্রদানের কাজ করবে সে সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনামূলক নীতিমালাও তৈরি করা হবে। তা ছাড়া, এ ইস্যু মোকাবেলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে হোয়াইট হাউজ।
বিজেপি-আরএসএস ঘেঁষা ডেমোক্র্যাটরা, ঠাঁই পাননি বাইডেন প্রশাসনে : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগ পেয়েছেন প্রায় ২০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তবে যারা নিয়োগ পাননি, তাদের নিয়েই বরং আলোচনা বেশি। জায়গা হয়নি ওবামা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সোনাল শাহ ও অমিত জানির। আরএসএস-বিজেপির সাথে তাদের কথিত সম্পর্কই এক্ষেত্রে প্রধান কারণ। তাদের আরএসএস সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রায় এক ডজন ইন্ডিয়ান-আমেরিকান সংগঠন তুলে ধরেছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে নয়া ডেমোক্র্যাট সরকারের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত।
বাইডেনের দলে রয়েছেন প্রবীণ কূটনীতিক উজরা জেয়া। গৃহকর্মীর ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় ভূমিকা ছিল তার। আরো স্থান পেয়েছেন সামিরা ফাজিলি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত সামিরা যুক্তরাষ্ট্রে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, নাগরিকপঞ্জী বা কাশ্মির লকডাউন ইস্যুতেও প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন তিনি।
কয়েকটি সূত্র জানায়, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয়-আমেরিকান সংগঠনগুলোর চাপেই বাইডেন-হ্যারিসের দল আরএসএস-বিজেপি ঘেঁষা ব্যক্তিদের প্রশাসনের বাইরে রেখেছে। মূলত, হিন্দুত্ব-বিরোধী সংগঠনগুলোর চাপেই আরএসএস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারে রাখার বিষয়ে সতর্ক ডেমোক্র্যাটরা। আর এই সংগঠনগুলোর অব্যাহত প্রচারণার কারণেই হিন্দুত্ব-সমর্থক কংগ্রেস প্রার্থী শ্রী প্রেস্টন কুলকার্নি নির্বাচনে পরাজিত হন। পাশাপাশি রাজনৈতিক গুরুত্ব হারান আরেক কংগ্রেস সদস্য তুলসি গাবার্ড। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনে থাকা সোনাল শাহ এবার জায়গা পাননি। বাইডেনের ‘ইউনিটি টাস্কফোর্স’-এও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার পিতা আরএসএস-এর অঙ্গ সংগঠন ‘একাল বিদ্যালয়’-এর প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি, তিনি‘ওভারসিস ফ্রেন্ডস অব বিজেপি-ইউএসএ’-এর প্রধান। সোনাল শাহ নিজে আবার এই সংগঠনটির জন্য অনুদান সংগ্রহ করেছিলেন।
আরএসএস-বিজেপি সংশ্লিষ্টতার জেরে বাইডেনের প্রশাসনে স্থান না পাওয়া অপর উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হচ্ছেন অমিত জানি। তিনি বাইডেন প্রচার শিবিরের ‘মুসলিম আউটরিচ’ কর্মসূচির সমন্বয়ক ছিলেন। কিন্তু পরে জানা গেল তিনি ও তার পরিবারের সাথে বিজেপি ও মোদির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পরে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। বিজেপি-আরএসএস সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কাউকে যেন প্রশাসনে রাখা না হয়, সেজন্য ১৯টি ভারতীয়-আমেরিকান সংগঠন বাইডেনের কাছে চিঠি লিখেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, উগ্রডানপন্থী হিন্দু সংগঠনের সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন অনেকেই ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য। তাই এক্ষেত্রে তাকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়।
দুই দিনে ৩ বিশ্বনেতাকে বাইডেনের ফোন : প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর শুক্র-শনিবারের মধ্যে কানাডা, মেক্সিকো এবং ব্রিটেনের শীর্ষ নেতার সাথে ফোনে কথা বললেন জো বাইডেন। তিনি গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোন করেন কানাডার জাস্টিন ট্রুডোকে। এরপর মেক্সিকোয়। আর শনিবার অনেকক্ষণ কথা বলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সাথে। জনসনের অফিস থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাইডেনের কিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু প্রতিরোধবিষয়ক চুক্তিতে ফিরে আসা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে হাত মিলিয়ে ভ্যাকসিন বিতরণ কর্মসূচিতে ঢোকায় বাইডেনের কাছে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।’ অন্য দিকে ট্রুডোর সাথে তার কথোপকথনের পরপর জানা যায়, দু’জনে সামনের মাসে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন। এই বৈঠকে তারা করোনা প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন। ট্রুডোর অফিসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে দুই নেতা সামনের মাসে বৈঠক করবেন। এ সময় করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনা গুরুত্ব পাবে।’
বাইডেন-শি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টার খবর চীনের অস্বীকার : চীন সরকার দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তার মার্কিন সমকক্ষ জো বাইডেনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের চেষ্টা করছে বলে যে খবর বেরিয়েছে তা নাকচ করে দিয়েছে বেইজিং। আমেরিকার চীনা দূতাবাস মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এ সংক্রান্ত খবরের সত্যতা প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে বলেছে, এই খবরের সত্যতা নেই এবং চীন কখনোই এ ধরনের কাজ করেনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ‘বিশ্বস্ত’ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, চীনের ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ইয়াং জেই জিকে ওয়াশিংটনে পাঠানোর প্রস্তাব তৈরি করেছে বেইজিং এবং আমেরিকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত কুই তিয়ানকাই প্রস্তাবটি মার্কিন কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তিয়ানকাই প্রস্তাবটি সরাসরি মার্কিন কর্মকর্তাদের চিঠি লিখে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছে। চীন আশা করছে জেই চিকে ওয়াশিংটে পাঠিয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে বাইডেনের একটি সাক্ষাৎ ঘটানোর ব্যাপারে বাইডেন প্রশাসনকে রাজি করানো সম্ভব হবে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গত চার বছর ধরে বেইজিংয়ের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে রেষারেষি ও উত্তেজনা বজায় ছিল।



আরো সংবাদ