০৭ মার্চ ২০২১
`

পুরান ঢাকায় বিদ্যুৎ চুরির মহোৎসব

দিনে বৈধ মিটার রাতে বাইপাস লাইন
-

পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিনব কৌশলে বিদ্যুৎ চুরির মহোৎসব চলছে। এতে দুর্নীতিবাজরা সুবিধা পেলেও সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চোরচক্রের সাথে বিদ্যুৎ বিভাগেরই কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল রোববার চানখারপুল লেন এলাকার স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নয়া দিগন্তকে অভিনব কৌশলে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে এমন তথ্য দিয়ে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এলাকার চিহ্নিত দালালচক্র ইচ্ছামতো আবাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুতের লাইনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ লাগিয়ে টু পাইস কামাই করছে। এ জন্য দালালরা নিজেরাই মই বানিয়ে নিয়েছে। তারা তাদের ইচ্ছা মতো যখন যেখানে লাইন দেয়া দরকার সেভাবেই দিয়ে দিচ্ছে। তারা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের যখন যা দিয়ে ‘খুশি’ করা দরকার সেভাবেই খুশি করছে বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ। বিষয়টি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের দিয়ে গোপনে তদন্ত করালেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও এলাকাবাসী দাবি করছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি দুই সপ্তাহ আগে বংশাল থানাধীন চানখারপুল লেন এলাকার একটি কারখানা ও গোডাউনে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার হয়। বিপুল অংকের বিদ্যুত বিল বকেয়া থাকার কারণে বাড়িটি সিলগালা করে দেয়া হয়।
সাতরওজা এলাকার জনৈক বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে গতকাল নয়া দিগন্তকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় আবাসিক এলাকায় যেনো তেনোভাবে কারখানা স্থাপনা করে বাইপাস লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার চলছে। এই এলাকা থেকে বিদ্যুৎ অফিসের দূরত্বও বেশি না। তাছাড়া তাদের না জানিয়ে কেউ অবৈধ লাইন ব্যবহার করারও কথা না।
তারা বলছেন, পুরো বংশাল থানাধীন আবাসিক এলাকায় কী পরিমাণ কলকারখানাগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন চলছে সেই হিসাব জানা নেই জানিয়ে ওই বাসিন্দারা আরো বলছেন, আমরা শুধু জানি, এসব এলাকায় দিনে বৈধ মিটারের লাইন ব্যবহার হলেও রাতে চলে অবৈধ লাইন। আর অবৈধ লাইন নেয়া হচ্ছে মেইন লাইন থেকে সরাসরি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশের মধ্যে পরিবেশ অধিদফতরকে তোয়াক্কা না করে অনেক বাসাবাড়ির মালিক তাদের বাসাবাড়িতে ভাড়া দিয়েছেন ছাপাখানা, লেদমেশিন, পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানা। এতে একদিকে এলাকায় যেমন পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে, অপরদিকে অধিকাংশ কারখানায় গোপনে অথবা কৌশলে চোরাই লাইন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ চুরি হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় এলাকার বিভিন্ন স্কুলে বিয়ে শাদির অনুষ্ঠানেও মেইন লাইন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে চিহ্নিত দালালরা ডিপিডিসির কিছু কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধরনের উপঢোকন পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে গতকাল রোববার রাতে বংশাল জোনের ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিত রায়ের সাথে বার বার যোগাযোগ করার পরও তাকে পাওয়া যায়নি।
ছুরিটোলার একজন বাসিন্দা জানান, শীতের সময়ও এলাকায় বিদ্যুৎ যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। শুনছি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে ম্যানেজ করে এলাকার কিছু কলকারখানার মালিক অবৈধ বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ নিয়ে দেদারসে ব্যবসায় করছেন। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের এসব অবৈধ কাজকারবার হালাল করার জন্য আমাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ভুতুড়ে বিল তারা আদায় করছে। তার দাবি, যারাই বিদ্যুৎ চুরির অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। একইভাবে তদন্তে ডিপিডিসির যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদেরও আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 



আরো সংবাদ