০৭ মার্চ ২০২১
`

ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত

-

আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষার দায়িত্বে থাকা দুই মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুই মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকরা বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুই মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে বা কোন প্রক্রিয়ায় খোলা হবে, সেটি তারা ঠিক করবেন। এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও ক্লাসের ক্ষেত্রে যাদের পরীক্ষা আছে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রাধান্য পাবে। এরপর ধাপে ধাপে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। বৈঠকে এ বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর এবং সব বোর্ডের চেয়ারম্যান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট : অবিলম্বে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ভাওয়াল মির্জাপুর পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মো: আব্দুল কাইয়ুম সরকার এ রিট করেন।
রিটকারীর আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী জানিয়েছেন, বিচারপতি মো: খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো: মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
শিক্ষা সচিব, শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, উপসচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে বিবাদি করা হয়েছে।
গত ১১ জানুয়ারি করোনা মহামারীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় ১৬ জানুয়ারির পর ছুটি আর না বাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়। মো: আব্দুল কাইয়ুম সরকারের পক্ষে আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে মোট ১১ বার স্কুল বন্ধের তারিখ বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০ ডিসেম্বর সময় বাড়ানো হয়। তখন ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাই ১৬ জানুয়ারি পর আর মেয়াদ বৃদ্ধি না করতে নোটিশে অনুরোধ করার হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। শিক্ষার্থীরা এ সময়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করছে, টিভি দেখে সময় ব্যয় করছে। এ ছাড়া মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে খারাপ অভ্যাস গড়ে উঠছে। তাই আগামী ১৬ জানুয়ারির পর আর কালবিলম্ব না করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক। নয়তো শিক্ষার্থীরা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

 



আরো সংবাদ