০৪ মার্চ ২০২১
`

ডিএসইতে ৫ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড বাজার মূলধন

প্রধান মূল্য সূচক বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ
-

দেশের শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহে বড় উত্থান হয়েছে। এতে এক সপ্তাহেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ৪ শতাংশের উপরে বেড়েছে। আর বাজার মূলধন বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকার উপরে। এতে ৫ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড বাজার মূলধন স্পর্শ করেছে ডিএসই। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৪ লাখ ৭০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা।
এর মাধ্যমে টানা ছয় সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়ল ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। বাজার মূলধন বাড়ার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে।
এ দিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২৮৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২১৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। তার আগের পাঁচ সপ্তাহেও সূচকটি বাড়ে। এতে টানা সাত সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর প্রধান সূচকটি বেড়েছে ১ হাজার ৩৭ পয়েন্ট।
প্রধান মূল্য সূচকের থেকেও বড় উত্থান হয়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকের। গত সপ্তাহজুড়ে সূচকটি বেড়েছে ১৮৮ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বা ৯ দশমিক ২১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৮৪ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। তার আগের পাঁচ সপ্তাহেও সূচকটি বাড়ে। এতে সাত সপ্তাহের টানা উত্থানে সূচকটি বেড়েছে ৫৪৬ পয়েন্ট।
ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও টানা সাত সপ্তাহ বেড়েছে। গত সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সাত সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে ২০৪ পয়েন্ট।
সব ক’টি মূল্য সূচকের বড় উত্থান হলেও গত সপ্তাহে ডিএসইতে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে তার থেকে বেশি। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৪৬টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৮টির। আর ৫০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ১ হাজার ৯৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১২১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ১১ শতাংশ।
আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৯ হাজার ৯৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৬০৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ১১ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘এ’ গ্রুপ বা ভালো কোম্পানির অবদান ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ ছাড়া ‘বি’ গ্রুপের ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ, ‘জেড’ গ্রুপের দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ অবদান ছিল।
গত সপ্তাহে ডিএসইর মূল বাজারে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বেক্সিমকো, রবি, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, আইএফআইসি ব্যাংক, সামিট পাওয়ার, পাওয়ার গ্রিড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল এবং সিটি ব্যাংক।
ডিএসইতে পিই রেশিও ৮ শতাংশ বেড়েছে : বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৭.৪৬ পয়েন্টে, যা সপ্তাহ শেষে ১৮.৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও ১.৩৭ পয়েন্ট বা ৭.৮৫ শতাংশ বেড়েছে।
সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৮.৬৯ পয়েন্টে। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২১.৭১ পয়েন্টে, বস্ত্র খাতের ১৭.৭৫ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৭.৯৯ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ২০.১৪ পয়েন্টে, বীমা খাতের ১৮.৩২ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ৫৭.৭৯ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ২১.৮৭ পয়েন্টে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ১১.২২ শতাংশ, চামড়া খাতের (-)১৩.৫১ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ৩৪.৪১ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ৬৪.৯৪ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ১৫৮.৯৫ পয়েন্টে, পেপার খাতের ৬৩.৫৯ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৪.৪১ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতের ১৮.০৭ পয়েন্টে, সিরামিক খাতের ১৩০.৪১ পয়েন্টে এবং পাট খাতের পিই (-) ৪১.৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।



আরো সংবাদ