২৫ জানুয়ারি ২০২১
`

উত্তর প্রদেশে ‘লাভ জিহাদ’ ঠেকাতে অর্ডিন্যান্স জারি

আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য
-

হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননা করেই তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ ঠেকাতে উত্তর প্রদেশে অর্ডিন্যান্স জারি করল বিজেপির যোগী আদিত্যনাথের সরকার। সেখানে ধর্মান্তর করার জন্য বিয়ে করলে জেল-জরিমানা উভয় শাস্তিই হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতে ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির জন্য এই ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটি আমদানি করেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। মুসলিম ছেলের সাথে হিন্দু মেয়ের বিয়েকেই ‘লাভ জিহাদ’ নাম দিয়ে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে তারা। তবে হিন্দু ছেলের সাথে মুসলিম মেয়ের বিয়েতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এক দিন আগেই হাইকোর্ট জানিয়েছিল, বিয়ের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ের সম্মতিই আসল কথা। সেখানে ধর্ম দেখা হবে না। সংবিধান দেখিয়ে আদালত জানিয়েছিল, সবারই নিজের মতো করে জীবন কাটানোর অধিকার আছে। কিন্তু এর পরই উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ সরকার একটি অর্ডিন্যান্স নিয়ে এসেছে। এই অর্ডিন্যান্সে ধর্মান্তর করার উদ্দেশ্য নিয়ে বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্মান্তরের জন্য বিয়ে করলে এক বছর থেকে দশ বছর পর্যন্ত জেল ও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এভাবেই ‘লাভ জিহাদ’ বন্ধ করতে চেয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ।
যোগী সরকারের মন্ত্রী সিদ্ধার্থ নাথ সিং এ সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ‘যদি কেউ বিয়ে করার জন্য ধর্ম বদল করতে চান, তা হলে তাকে জেলা শাসকের কাছে দুই মাস আগে আবেদন জানাতে হবে। তিনি অনুমতি দিলে ধর্ম পরিবর্তন করা যাবে।’ তবে এই অনুমতি কতটা পাওয়া যাবে তা নিয়ে বিরোধী নেতাদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তারা মনে করছেন। সিদ্ধার্থ নাথও জানিয়ে রেখেছেন, সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ও মেয়েদের, বিশেষ করে দলিত ও আদিবাসীদের ন্যায়ের জন্য এই অর্ডিন্যান্স জরুরি ছিল।
অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তন করার জন্য বিয়ে করা হলে, সেই বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হবে। আর জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করার জন্য এক থেকে পাঁচ বছরের জেল হবে। সাথে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা। দলিত ও আদিবাসীদের ক্ষেত্রে জেলের মেয়াদ হবে তিন থেকে ১০ বছর। জরিমানা দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা। আর মিথ্যা কথা বলে, প্রলোভন দেখিয়ে গণহারে ধর্মান্তর করলে ১০ বছর পর্যন্ত জেলের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। নাবালিকাকে বিয়ের জন্য ধর্মান্তর করলেও একই সাজা হবে।
অর্ডিন্যান্সে বলা হয়েছে, জোর করে, লোভ দেখিয়ে, জালিয়াতি করে বা বিয়ের জন্য যে ধর্মান্তর করা হয়নি, সেটি প্রমাণ করার দায় অভিযুক্তের ওপর থাকবে। অথবা যারা ওই বিয়ে বা ধর্মান্তরের সাথে যুক্ত থাকবেন, তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে। আর জোর করে ধর্মান্তর করা হলে জামিনও পাওয়া যাবে না। এভাবেই অর্ডিন্যান্সকে খুবই কড়া করা হয়েছে। পরে বিধানসভায় বিল পেশ করে আইনও করা হবে।
সম্প্রতি কানপুর পুলিশ বলেছিল, গত দুই বছরে ১৪টি ভিন্নধর্মের ছেলেমেয়ের বিয়ে হয়েছিল। তারা প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দেখেছে। ১১টি ক্ষেত্রে দেখা গেছে কোথাও নাম বদল করে, কোথাও নাবালিকাকে বিয়ে করা হয়েছে। সেই সব ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তা হলে বর্তমানে আইন থাকা সত্ত্বেও কেন এ ধরনের অর্ডিন্যান্স জারি করা হলো? প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘পুরোটাই করা হয়েছে একটা বার্তা দেয়ার জন্য। হিন্দুত্বের বার্তা। এটা অনেকটা নাগরিকত্ব আইনের মতো। নাগরিকত্ব নিয়ে আইন থাকা সত্ত্বেও নতুন আইন করা হয়েছিল। সেটাও বার্তা দেয়ার জন্যই। এখানেও সেই একই উদ্দেশ্যে অর্ডিন্যান্স করা হয়েছে।’ এবার বাকি বিজেপি শাসিত রাজ্যেও একই ধরনের অর্ডিন্যান্স বা আইন করা হতে পারে।



আরো সংবাদ