১৯ জানুয়ারি ২০২১
`

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ

-

ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টের দেয়া ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলি হাইকোর্ট বেঞ্চ বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদ সংযুক্ত করে রিটকারীদের পক্ষে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
আদেশে আদালত বলেছেন, আবেদনকারীর সংযুক্ত মিডিয়ার রিপোর্টে বায়ুদূষণের যে বর্ণনা আছে তা সবার জন্য ভয়াবহ এবং পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণ না হয় তবে তা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বেঁচে থাকার অধিকার খর্ব করতে পারে । আদালত আরো বলেন যে, বিবাদিরা যদিও এর আগে নির্দেশনা অনুসারে পদক্ষেপ নিয়েছে কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে আবারো পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
বায়ুদূষণ বন্ধে হাইকোর্টের দেয়া ৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে গত ফেব্রুয়ারিতে পদক্ষেপ নেয়া শুরু হলে বায়ুদূষণ কিছুটা কমতে থাকে কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা শহর আবার সর্বোচ্চ বায়ুদূষণের শহর হওয়ার সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এ সংক্রান্ত সংবাদ সংযুক্ত করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে গত ১৫ নভেম্বর আদালতে একটি আবেদন দাখিল করে বায়ুদূষণ বন্ধে নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়। এ বিষয়ে গত ১৭ নভেম্বর ও ২৩ নভেম্বর শুনানি শেষে গতকাল আদালত আদেশ প্রদান করেন।
গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকা শহর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণ বন্ধে হাইকোর্ট ৯ দফা নির্দেশনা জারি করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের আদালত এ আদেশ দেন। নির্দেশনাগুলো হলোÑ ১) ঢাকা শহরে মাটি/বালু/বর্জ্য পরিবহনকৃত ট্রাক ও অন্যান্য গাড়িতে মালামাল ঢেকে রাখা।
২) নির্মাণাধীন এলাকায় মাটি/বালু/সিমেন্ট/পাথর/ নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা।
৩) সিটি করপোরেশন কর্তৃক রাস্তায় পানি ছিটানো।
৪) রাস্তা/কালভার্ট/ কারপেটিং/খোঁড়াখুঁড়ি কাজে টেন্ডারের শর্ত পালন নিশ্চিত করা।
৫) কালো ধোঁয়া নিঃসরণকৃত গাড়ি জব্ধ করা।
৬) সড়ক পরিবহন আইন অনুসারে গাড়ির চলাচল সময়সীমা নির্ধারণ ও সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ওই গাড়ি চলাচল বন্ধ করা।
৭) অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করা।
৮) পরিবেশ লাইসেন্স ব্যতীত চলমান সব টায়ার ফ্যাক্টরি বন্ধ করা।
৯) মার্কেট/দোকানগুলোতে প্রতিদিনের বর্জ্য ব্যাগ ভরে রাখা এবং অপসারণ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ নেয়া।
ওই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে গত ফেব্রুয়ারিতে পদক্ষেপ নেয়া শুরু হলে বায়ুদূষণ কিছুটা কমতে থাকে কিন্তু বর্তমানে ঢাকা শহর আবার সর্বোচ্চ বায়ুদূষণের শহরে পরিণত হওয়ার সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়।
শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, করোনার কারণে মার্চ থেকে সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বায়ুদূষণ কমে এসেছিল কিন্তু এখন আবার তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ওই নির্দেশনাগুলো সম্পূর্ণ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে সব মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। তিনি বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিবেদন উপস্থাপন করে ঢাকার বায়ুদূষণের বর্তমান ভয়াবহ অবস্থা বর্ণনা করেন এবং আদালতের নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

 



আরো সংবাদ