৩০ নভেম্বর ২০২০

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কবরে পাঠাতে হবে : জাফরুল্লাহ

সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর মুক্তি দাবিতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী : নয়া দিগন্ত -

সাংবাদিকদের সত্য অনুসন্ধান করার সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে সব তুলে নেয়ার দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাথদিকথদের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে সব তুথলে নিথয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কবরে পাঠাতে হবে। তাহলে সরকার ও দেশের লাভ হবে। দেশ-গণতন্ত্রের দিকে প্রসারিত হবে।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাথবেথশে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্য দেয়ার আগেই ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়ার কারণে তিনি দুর্বলতা অনুভব করলে বসেই বক্তব্যে দেন। পরে তাকে ধানমন্ডি নগর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি হাসপাতালে বিশ্রামে পুরোপুরি সুস্থ আছেন।
ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদেরকে আহ্বান করেছেন কোনো প্রকার ইয়োলো (হলুদ) সাংবাদিকতা যেন না হয়। কিন্তু ইয়োলো জার্নালিজম (হলুদ সাংবাদিকতা) তো তিনিই সৃষ্টি করছেন। মনে রাখতে হবে সাংবাদিকরা হলেনÑ সত্য অনুসন্ধানী, সবসময় সত্য প্রকাশ করে। আপনার সরকারের সবচেয়ে বড় বন্ধু হলো সাংবাদিকরা। তারা প্রকৃত তথ্যকে আপনার সামনে তুলে ধরেন। সেই সাংবাদিকদের কণ্ঠ যখনই রোধ করেন তখনই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়।’
‘সরকারের ভুল নীতি দেশকে বাধ্য করছে একটা ভুল পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য’ যোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর কথা উল্লেখ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকেই তাকে মুক্তি দিন। সাংবাথদিকথদের মুক্তি দিয়ে বলেনÑ সত্য কথা বলুন, সত্য প্রকাশ করুন। তাহলে দেথশের জনথ্য মঙ্গল হথবে। আর নাহলে ক্রমেই দেশ জঙ্গিবাদের দিকে যাবে। এর দায় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সম্মিলিতভাবে কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসবে।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের সত্য অনুসন্ধান করার সুযোগ দিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে সব তুলে নিতে হবে। শুধু তাই নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কবরে পাঠাতে হবে।’
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত ইবনে মঈন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আমীন রোকন, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাকের হোসাইন, আবু ইউসুফ, খন্দকার আলমগীর, জেসমিন জুঁই, আবু হানিফ, জিনাফের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজীর মুক্তি দাবি খেলাফত মজলিসের
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে খেলাফত মজলিস। গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরেছে। সাংবাদিকরা যাতে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে লিখতে না পারে সেজন্য সাংবাদিকদের নানাভাবে হয়রানি, গ্রেফতার, নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় রুহুল আমীন গাজীর মতো একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক নেতাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় অবিলম্বে সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার দাবি জানান এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণকারী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান। বিজ্ঞপ্তি।


আরো সংবাদ