০১ ডিসেম্বর ২০২০
সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

১০ মাসে আগুনমুখা নদীতে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত ৭

-

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছন্ন উপজেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে নৌদুর্ঘটনা। চলতি বছরে ১০ মাসেই এ উপজেলায় আসা-যাওয়ার প্রধান নৌপথ আগুনমুখা নদীতে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন। গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অনেকেই। ফেরির ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক পথে যোগাযোগ নেই বলেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত স্পিডবোটে নদী পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা, দাবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।
গত ২২ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে চলাচলকালে দুর্ঘটনার শিকার হয় একটি স্পিডবোট। আহমেদ এন্টারপ্রাইজের অধিনস্থ রুমেন-১ নামের যাত্রীবাহী ওই বোটটি রাঙ্গাবালীর কোড়ালিয়া থেকে গলাচিপার পানপট্টির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এ সময় ১৮ জন যাত্রীসহ আগুনমুখা নদীর মাঝখানে ডেউয়ের আঘাতে উল্টে যায়। তখন সাঁতার কেটে চালকসহ ১৩ জন কিনারে পৌঁছতে পারলেও বাকি পাঁচজন পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নিখোঁজ রয়ে যায়। পরে ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর ২৪ অক্টোবর ভোরে ভাসমান অবস্থায় রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ কনস্টেবল মো: মহিবুল হক, কৃষি ব্যাংক বাহেরচর শাখার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান, আশা ব্যাংকের খালগোড়া শাখার ঋণ অফিসার কবির হোসেন ও দিনমজুর মো: ইমরান ও মো: হাসান মিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি আগুনমুখা নদীতে পায়রা বন্দরের স্পিডবোটের সাথে আহমেদ এন্টারপ্রাইজের যাত্রীবাহী স্পিডবোটের সংঘর্ষ হয়। এতে যাত্রীবাহী স্পিডবোটের ছয়জন যাত্রীসহ বোটটি পানিতে ডুবে যায়। পরে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও হারুন হাওলাদার ও আইয়ুব হাওলাদার নামে দুইজন যাত্রীর মৃতদেহ দুর্ঘটনার পরবর্তী দ্বিতীয় ও চতুর্থ দিনে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ দিকে বাহেরচর শাখা কৃষিব্যাংক ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় চালকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাশফাকুর রহমান জানান, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এ রুটের স্পিডবোটগুলো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেয়। এ ছাড়ও লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার না করে বিপদসঙ্কেত অমান্য করে স্পিডবোট চালায়। এ বিষয়টি আমি বিআইডব্লিইটিএ কর্তৃপক্ষকে আগেও জানিয়েছি। আগুনমুখা নদীতে পানপট্টি-কোড়ালিয়া রুটে নদী পাড়াপাড়ের জন্য ফেরি চালু করা দরকার।
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: মহিব্বুর রহমান মহিব জানান, আগুনমুখা নদীর কোড়ালীয়া-পানপট্টি রুটে ফেরি চালুর জন্য আমি ডিউলেটার দিয়েছি। ঢাকায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবার যাব। এ ছাড়াও সুযোগ পেলে বিষয়টি নিয়ে সংসদে উপস্থাপন করব। আশাকরি অতি দ্রুত সময়ে ফেরি চালু হবে ইনশাআল্লাহ।


আরো সংবাদ