০২ ডিসেম্বর ২০২০

সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে

ডিএসই এমডির পদত্যাগ
-

গত মঙ্গলবার উত্থান হলেও গতকাল বুধবার সামান্য পতনে শেষ হয়েছে শেয়ারবাজারের লেনদেন। টানা চার দিন উত্থানের পর আজ শেয়ারবাজারে পতন হলো। সূচকের সাথে আজ টাকার পরিমাণে লেনদেন এবং বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে।
গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ০.৪০ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯১৬.৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২.৩৫ পয়েন্ট ও সিডিএসইসি ২.৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১১৬.৭৪ পয়েন্টে ও ৯৮৮.০৩ পয়েন্টে। তবে অপর সূচক ডিএসই-৩০ সূচক ০.৬৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯৫.০৭ পয়েন্টে।
ডিএসইতে গতকাল টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ৮৫৫ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট, যা আগের দিন থেকে ৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯১৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকার।
ডিএসইতে আজ ৩৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৯টির বা ৩০.৭৯ শতাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। দর কমেছে ১৭৮টির বা ৫০.২৮ শতাংশের এবং ৬৭টি বা ১৮.৯২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এ দিন ২৬.৮৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪০৩৪.২৭ পয়েন্টে। এ দিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৬৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৮১টির, কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টির দর। আজ সিএসইতে ২৩ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইর এমডির পদত্যাগ : দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক পদত্যাগ করেছেন। ডিএসইর বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তিনি গত ৮ অক্টোবর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা গতকাল বুধবার ডিএসইর পর্ষদ সভায় গৃহীত হয়েছে। তিনি এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে যোগদান করেন। তাকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।
ডিএসইর এমডি পদে কাজী সানাউল হকের নিয়োগ নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি ছিল ডিএসইর পর্ষদ সদস্যদের মধ্যে। শেয়ারধারী পরিচালকদের একটি অংশ তার নিয়োগের বিরোধিতা করে। এ নিয়ে পর্ষদ সভায় তারা তাদের যুক্তিও তুলে ধরেন। কিন্তু ডিএসইর চেয়ারম্যানসহ স্বতন্ত্র পরিচালকদের বেশির ভাগ সানাউল হকের পক্ষে অবস্থান নেন। দুই পক্ষই পক্ষে-বিপক্ষে পর্ষদ সভায় মতামত তুলে ধরে। পরে সব মতামতসহ সানাউল হকের নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পাঠানো হয়। গত ২৩ জানুয়ারি বিএসইসি ডিএসইর এমডি হিসেবে সানাউল হকের নিয়োগ অনুমোদন করেন।
এরপর তিনি ৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে যোগ দেন। ডিএসইতে যোগদানের আগে কাজী সানাউল হক রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) এমডি ছিলেন। ২০১৭ সালের আগস্টে আইসিবির এমডি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
অ্যাপোলো ইস্পাতের দুই পরিচালককে জরিমানা : পূর্বঘোষণা ছাড়া শেয়ার বিক্রি করায় অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডের দুই পরিচালককে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত ৭৪৫তম নিয়মিত সভায় এ জরিমানা করা হয়েছে বলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন। তিনি জানান, অ্যাপোলো ইস্পাতের পরিচালক আর্ট ইন্টারন্যাশনাল (মনোনীত পরিচালক মমতাজুর রহমান) ও জুপিটার বিজনেস (মনোনীত পরিচালক মসফিকুর রহমান) পূর্বঘোষণা ছাড়া যথাক্রমে আট লাখ ৮৮ হাজার ও আট লাখ ৯১ হাজার শেয়ার বিক্রি করেছে। এই অপরাধে উভয়কে ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
আইপিওতে শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন পেল এনার্জিপ্যাক : শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য এনার্জিপ্যাক পাওয়ারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত ৭৪৫তম নিয়মিত কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন। তিনি জানান, কোম্পানিটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে দুই কোটি এক লাখ ৪৬ হাজার ৮০০টি সাধারণ শেয়ার ৩১ টাকা মূল্যে (প্রান্তসীমা থেকে ১০ শতাংশ বাট্টায়) ইস্যু করবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে এই শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৬২ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলন করবে।
এর আগে বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির শেয়ারের কাট অফ প্রাইস ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে। যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে এ দরে দুই কোটি এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৬টি ইস্যু করা হবে। যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা হবে ৭০ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার ৮১০ টাকা। এই টাকা উত্তোলন করে কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।
ই-জেনারেশনের আইপিও অনুমোদন : ই-জেনারেশন লিমিটেডের প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল বুধবার বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন।


আরো সংবাদ