২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

ছোটতে অনীহা বড়তে আগ্রহ!

লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন অগ্রগতি
-

বড়তে আগ্রহ, ছোটতে নেই। এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে করোনা মোকাবেলায় সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে। এখানে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর অধিক আগ্রহ থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান তেমন কোনো ঋণ পাচ্ছে না। প্রণোদনা প্যাকেজের দু’টি বড় খাত বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
এই প্রণোদনার সবচেয়ে বড় দু’টি প্যাকেজ হচ্ছেÑ ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টর এবং ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই খাতে। এই দুই খাতে প্রণোদনা হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এই দুই প্যাকেজ বাস্তবায়নে প্রথমটির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও শেষ প্যাকেজ বাস্তবায়নে তাদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। ফলে এখন পর্যন্ত প্রথম প্যাকেজ বাস্তবায়ন অগ্রগতির হার যেখানে ৬৮ শতাংশ সেখানে অন্য প্যাকেজ বাস্তবায়নের হার মাত্র ১৬ শতাংশ। এই অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এসএমই খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে জরুরি তাগাদা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত সপ্তাহে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে আর্থিক খাতের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় একটি ভার্চুয়াল সভার আয়োজন করা হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সভায় প্যাকেজ বাস্তবায়নের সাথে জড়িত স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সভায় বলা হয়, নোভেল করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাতের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ছয় হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি প্যাকেজ কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেশের ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই প্রণোদনায় সবচেয়ে বড় প্যাকেজটি হচ্ছেÑ করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসাবে ঋণসুবিধা প্রদান। এই প্যাকেজ বাস্তবায়নে অর্থ দেয়া হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এই প্যাকেজের আওতায় বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে চলতি মূলধন হিসেবে ঋণসহায়তা দেয়া হয়েছে। এ খাতে অগ্রগতির বিষয়ে বলা হয়েছে, গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত আলোচ্য প্রণোদনা প্যাকেজ হতে ১৭২১ জন ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসাবে দেয়া হয়েছে ১৭ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। আবার সচল রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের জুন মাসের বেতনভাতার হিসাবে আড়াই হাজার কোটি টাকা, জুলাই ২০২০ মাসের বেতনভাতা আরো ২ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা ঋণ হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে। এই প্যাকেজের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ।
অন্য দিকে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণসুবিধা দেয়ার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এ খাত থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ৯ হাজার ৫০টি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আলোচ্য প্রণোদনা প্যাকেজ হতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। আর এই সময়ে প্যাকেজটি বাস্তবায়ন অগ্রগতি মাত্র ১৬ শতাংশ।
একইভাবে ৫ হাজার কোটি টাকার কৃষি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৭ হাজার ৮০১ জন কৃষক/কৃষি ফার্মের অনুকূলে এই প্রণোদনা প্যাকেজ হতে মাত্র ৪৯৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। সচল রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেয়ার জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় যে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তার পুরোটাই গার্মেন্ট খাতের শ্রমিকদের এপ্রিল-মে-জুন মাসের বেতন বাবদ প্রদান করা হয়েছে। এই ঋণের সুদহার মাত্র ২ শতাংশ।
একইভাবে নি¤œ আয়ের পেশাজীবী কৃষক/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ৩৬টি ক্ষুদ্র আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই)
মাধ্যমে প্রণোদনা প্যাকেজ হতে ৯ হাজার ৮৮২ জন কৃষক/ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে মাত্র ২৭৬ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।
প্যাকেজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা গতকাল এই প্রতিবেদককে বলেন, দেখা যাচ্ছে ব্যাংকগুলো বড় ব্যবসায়ী গ্রুপকে ঋণ প্রদানে বেশি আগ্রহী হলেও ছোট ব্যবসায়ী বা গোষ্ঠীকে ঋণ দিতে আগ্রহী নয়। আমরা এ ব্যাপারে তাদের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য তাগিদ দিয়েছি।


আরো সংবাদ