৩০ নভেম্বর ২০২০

রূপায়ণ সিটি ব্র্যান্ড দেশে ও দেশের বাইরেও সিটি নির্মাণ করবে : মাহির আলী খান রাতুল, ভাইস চেয়ারম্যান, রূপায়ণ গ্রুপ

-

দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি পর্যায়ে সিটি ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করছে রূপায়ণ গ্রুপ। এই ব্যান্ডের অধীনে উত্তরায় গড়ে উঠছে আধুনিক শহর ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’। দৃষ্টিনন্দন ও বিশ্বমানের এই শহর গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির সহস্রাধিক কর্মী। ইতোমধ্যে সব শ্রেণী-পেশার গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে আবাসন খাতে বেসরকারি পর্যায়ের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম রূপায়ণ গ্রুপ। দেশবাসীকে নতুন কিছু উপহার দিতে দ্রুত গতিতে চলছে ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’র নির্মাণ কাজ। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বসবাসের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ এই সিটি। দৈনিক নয়া দিগন্তের সাথে ব্র্যান্ডটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নয়া দিগন্তের নিজস্ব প্রতিবেদক শাহেদ মতিউর রহমান।
নয়া দিগন্ত : দেশের অন্য কোনো এলাকায় না করে উত্তরায় কেনো এই আধুনিক শহর নির্মাণ করার জন্য আপনারা নির্বাচন করেছেন?
মাহির আলী খান রাতুল : আমরা মনে করি উত্তরা হবে আগামী দিনে দেশ তথা রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র। এ ছাড়াও এখানে আধুনিক শহর করার জন্য যেসব উপকরণ দরকার তার সব কিছুই উপস্থিত। নিকট ভবিষ্যতে উত্তরাই হবে ব্যবসা বাণিজ্য ও যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। তাই আমরা উত্তরায় বৃহৎ পরিসরে ব্যতিক্রমী কিছু করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। আর সেই উদ্যোগের প্রথম বাস্তবায়ন হচ্ছে ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’। দ্বিতীয় যে বিষয়টিকে আমরা প্রাধান্য দিয়ে উত্তরায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছি সেটি হলো আমরা চেয়েছি এ ধরনের একটি আধুনিক শহর ঢাকাতেই করব; যাতে মানুষ তাদের লাইফস্টাইল একটু ভিন্নভাবে উপভোগ করতে পারেন। এখানে আমরা প্রায় ১৩৫ বিঘা আয়তনের জমি নিয়ে কাজ করছি। ঢাকার ভেতরে এত বিশাল আয়তনের জায়গা অন্য কোথাও পাওয়াও যাবে না। এসব দিক বিবেচনা করেই মূলত আমরা দেখেছি ঢাকার ভেতরে একমাত্র উত্তরাতেই এ ধরনের একটি প্রাইভেট শহর করার জন্য বেস্ট লোকেশন। সবচেয়ে বড় কথা হলো উত্তরার এই লোকেশনে না এলে সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারা যাবে না কেন আমরা এই লোকেশনটি আমাদের প্রাইভেট সিটির জন্য নির্বাচন করছি। আরেকটি বিষয়, বিশ্বের প্রতিটি আধুনিক শহরই মূল সিটির একটু বাইরে নিরিবিলি পরিবেশে গড়ে ওঠে। যেখানে শহরের কোলাহল কিংবা অন্য কোনো ভোগান্তি থাকে না তবে রাজধানী শহরের অন্য যেসব সুযোগ সুবিধা সেগুলো সেখানে থাকবে শতভাগ। সে দিক বিবেচনায়ও আমাদের নতুন এই ব্যান্ডটির জন্য উত্তরাই হচ্ছে বেস্ট লোকেশন।
নয়া দিগন্ত : আপনার বিবেচনায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে উত্তরাকে কেনো মানুষ অগ্রাধিকার দেবে?
মাহির আলী খান রাতুল : হ্যাঁ, ভালো প্রশ্ন। একটি বিষয় খেয়াল করবেন, মানুষ কিন্তু এখন আর নিজেকে কিংবা নিজের পরিবারকে নিয়েই শুধু চিন্তা করে না। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা হিসেবে প্রত্যেকেই এখন প্রথমেই চিন্তা করে আমার প্রতিবেশী হিসেবে কে বা কারা থাকছেন। মানুষ এখন শুধু নিজেকে নিয়ে নয়, বরং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এবং অন্যান্য বিষয়েও চিন্তা করেন। আমার বিবেচনায় উত্তরায় মানুষ তার সব ধরনের চাহিদা এবং প্রয়োজনের সামগ্রিক বিষয়গুলোরও জোগান পাবেন। তা ছাড়া উত্তরায় এখনো নির্মল বায়ু আর প্রকৃতির একটি ছোঁয়াও অনুভব করা যায়। অন্য দিকে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার আর সম্প্রসারণেও উত্তরা নিকট ভবিষ্যতে প্রথম কাতারেই থাকবে।
নয়া দিগন্ত : যোগাযোগের ক্ষেত্রেও উত্তরা এখন অনেক দূর এগিয়েছে, আরো তো এগোবে?
মাহির আলী খান রাতুল : এখন যতটুকু এগিয়েছে আমরা দেখছি, সেখানেই কিন্তু থেমে থাকবে না। আপনি যদি উত্তরা-কেন্দ্রিক আরো কিছু পরিকল্পনার বিষয়ে চিন্তা করেন তা হলে দেখবেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই উত্তরা হবে দেশের প্রাণকেন্দ্র। ব্যবসা বাণিজ্যের দিক দিয়েও আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে এই এলাকা। এ লক্ষ্যে সরকারেরও বেশ কিছু পরিকল্পনা এখানে বাস্তবায়ন হচ্ছে।
নয়া দিগন্ত : কোন কোন বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে আপনারা উত্তরায় বিশ্বমানের এই আধুনিক শহর গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগী হলেন?
মাহির আলী খান রাতুল : কোনো একটি মাত্র বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কোনো দেশে মেগা সিটি গড়ে ওঠে না। আমরাও শুধু নির্দিষ্ট একটি বিষয়কে প্রাধান্য দেইনি। উত্তরা এমন একটি লোকেশন যেখানে আন্তর্জাতিক মানের মেগা সিটি করার সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। যেমন ধরুন, এখানেই রয়েছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মেট্রো রেল ও বাস র্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) মতো নানা ধরনের অবকাঠামোর সুযোগ সুবিধা। আর এসব সুযোগ ও অবকাঠামোসংলগ্ন হওয়ায় ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ হয়ে উঠেছে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রথম পছন্দের শহর। এমনকি ভবিষ্যৎ ঢাকার প্রাণকেন্দ্রের ওয়ান্ডারল্যান্ডও বলা হবে এই গেটেড কমিউনিটিকে।
নয়া দিগন্ত : কোন ধরনের কমিউনিটিকে টার্গেট করে আপনারা এই শহর গড়ে তুলছেন?
মাহির আলী খান রাতুল : আমরা নির্দিষ্ট কোনো কমিউনিটিকে আসলে টার্গেট করছি না। আমাদের বিবেচনায় থাকবে শুধু রুচিশীল মানুষ। রাত্রিযাপনের জন্য শহরের যেকোনো এলাকায় শুধু একটি বা দু’টি কক্ষ হলেই চলে। কিন্তু আপনি যদি পুরো সোসাইটির কথা চিন্তা করেন তা হলে দেখবেন এর সাথে অনেক কিছুই সম্পৃক্ত। মানুষের জীবন জীবিকা এবং নিরাপত্তার জন্য দরকার তার উপযোগী একটি পরিবেশ। আমরা সেই রুচিশীল মানুষদের জন্যই গড়ে তুলছি বিশ্বমানের ব্যতিক্রমী এই শহর। এ ছাড়া রূপায়ণ সিটি ব্র্যান্ড দেশে ও দেশের বাইরেও এ ধরনের আরো সিটি নির্মাণ করবে?
নয়া দিগন্ত : আপনার দৃষ্টিতে ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’র মূল বিশেষত্ব কী?
মাহির আলী খান রাতুল : বেসরকারি পর্যায়ে দেশে এই প্রথম প্রিমিয়াম মেগা গেটেড কমিউনিটি ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে রূপায়ণ গ্রুপ। এটি গড়ে উঠেছে প্রায় ১৩৫ বিঘা জমিতে। মোট জমির ৬৩ শতাংশ জায়গাই থাকবে ফাঁকা (ওপেন স্পেস)। এই সিটির বাসিন্দাদের জন্য বিশুদ্ধ অক্সিজেনের জোগানোর জন্যই মূলত এই ব্যবস্থা। এ ছাড়াও এখানে থাকছে কমিউনিটি ক্লাব, মসজিদ, খেলার মাঠ, স্কুল, সাড়ে ৬ কিলোমিটার জগিং ট্র্যাক ও গাড়ি চলাচলের পৃথক রাস্তা। আর সবই মিলছে একই গেটের ভেতরে। ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’য় আরো থাকছে প্রিমিয়াম কন্ডো অ্যাপার্টমেন্ট, স্কাই ভিলা, পেন্থহাউজ, বিপণন কেন্দ্র, অফিস স্পেস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রয়েছে জীবনের প্রয়োজন মেটানোর সব আয়োজন।
নয়া দিগন্ত : আপনাদের নেতৃত্বে এ ধরনের একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগের কারণ কী?
মাহির আলী খান রাতুল : মানুষের সব কাজের পেছনেই কোনো না কোনো একটি স্বপ্ন থাকে। আমাদের মনেও সেই রকমই একটি স্বপ্নের অঙ্কুর ছিল। আমরা যখন অন্যান্য দেশে গিয়ে নতুন এবং আধুনিক শহরের কাঠামোগত দিক দিয়ে চিন্তা করতাম তখন মনে মনে এমন একটি শহর গড়ার স্বপ্ন মনের ভেতরে বুনতাম। মূলত দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য নতুন কিছু করার চিন্তা থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
নয়া দিগন্ত: করোনার পরে দেশের অর্থনীতির গতি যেখানে মন্থর সেখানে আপনারা এই ধরনের একটি সাহসী উদ্যোগের সফলতা বিষয়ে কতটুকু আশাবাদী ?
মাহির আলী খাঁন রাতুল: দেখুন, করোনায় প্রভাবে শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেই আবাসন ব্যবসায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে কিছু দেশে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিও রয়েছে আর সেসব দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আবাসন ব্যবসায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির প্রথম কারণ হলো মানুষ নিজের পুঁজিটাকে এখন আবাসন খাতে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। এখানে বিনিয়োগ করে ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে তারা কাজে লাগাতে চাচ্ছে। অনেক গ্রাহক মনে করছে একটি বাড়ি কিনে সেটি ভাড়া দিলে সেখান থেকে ভাড়া আসবে, সেটাকে এক ধরনের বিনিয়োগ হিসেবে নিচ্ছে তারা দ্বিতীয়ত, পুঁজি থেকে আরো বেশি মুনাফা বাড়িয়ে নেয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবাসন খাতে বিনিয়োগ করে অনেকে জমি বা ফ্ল্যাট দেখিয়ে ব্যাংকের ঋণ বা জামানত কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে ওই গ্রাহক সে সম্পত্তি দেখিয়ে ব্যাংক থেকে বড় ধরনের ঋণ নিতে পারছে। এখানে নিজের সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি হিসেবে ঋণ সুবিধাটা পেয়ে যাচ্ছে।
নয়া দিগন্ত : ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ নামে নতুন একটি ব্র্র্যান্ড ওপেন করেছেন, এই ব্র্যান্ড সম্পর্কে কিছু বলবেন কী?
মাহির আলী খান রাতুল : ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ বাংলাদেশের প্রথম ‘সিটি ব্র্যান্ড’। এর মাধ্যমে দেশের আবাসন খাতে প্রথম শহর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এর আগেও আমরা আবাসনে ছোট ছোট শহর গড়ে তুলেছি। কিন্তু এসব শহরে বিল্ডিং গড়ে তুললেও আসলে মানুষের জীবন মানটাকে ভালোভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ‘রূপায়ণ সিটি’ উত্তরা প্রকল্পের আওতায় মূলত খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট, শপিংমল, সুইমিংপুল, মসজিদ, পার্ক, হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। সামাজিক যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেগুলো যাতে মানুষ শহরের জীবনেও পেতে পারে; তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে। যেখানে সব ধরনের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকবে। অন্য দিকে প্রকল্পটি আমরা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কথা চিন্তা করে হাতে নিয়েছি। মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তরাও এখানে নিজের বাসস্থান করার সুযোগ-সুবিধা পাবেন। প্রতিটি স্তরেই রুচিশীল মানুষ এখানে নিজের স্বপ্নটাকে সাজাতে পারবেন। নিজের পরিবারকে নিয়ে যারা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাদের জন্যই মূলত ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ প্রকল্প।
নয়া দিগন্ত : আপনাকে ধন্যবাদ।
মাহির আলী খান রাতুল : আপনাকেও ধন্যবাদ।

 


আরো সংবাদ