২১ অক্টোবর ২০২০

বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

-

‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজিত পর্যটন দিবসে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক পরিবর্তন মন্ত্রী মো: শাহাব উদ্দিন জানান, দেশের পর্যটন শিল্পকে এখন সমুদ্রের তলদেশে থাকা জীববৈচিত্র্যের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। গতকাল রোববার দিবসটি উপলক্ষে ‘সেভ আওয়ার সি’ আয়োজিত অনলাইন ‘আন্ডারওয়াটার ন্যাচার এক্সিবিশন অ্যান্ড ডিসকাশন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েছে উন্নত দেশগুলো। সারাবিশ্বে ইকো টুরিজম, এনভায়রনমেন্ট টুরিজমকে ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। আমাদেরকেও তা-ই করতে হবে। ইকো টুরিজমের নীতি হলো প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করে টুরিজম করা। পরিবেশকে ঘিরে টুরিজম হলে তা হবে টেকসই ও সুদূর প্রসারী। সেদিক বিবেচনা করে সমূদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন দ্বীপ, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত এবং সুন্দরবনকে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করেছে। এসব এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার ঘোষিত ইসিএ যথাযথভাবে কার্যকরের মাধ্যমে এসব এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া উপকূলের দূষণ প্রতিরোধে ৫২টি স্থানকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে দূষণ প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। সমুদ্রের বায়োডাইভার্সিটি অ্যাসেসমেন্টের জন্যও প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ভবিষ্যতে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যুগান্তকারী ১০০ বছরের ডেল্টা প্লান বাস্তবায়ন করছে। পর্যটন বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণপূর্বক আমাদের পর্যটন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সমুদ্র উপকূল সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার মেরিনড্রাইভ এবং সুন্দরবনকে ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া ইসিএ ঘোষণা করা হয়েছে। ইসিএ যথাযথভাবে কার্যকরের মাধ্যমে এসব এলাকায় পানির নিচের কোরাল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। সামুদ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সরকার দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে এক হাজার ৭৩৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির বিপন্ন সামুদ্রিক ডলফিন, তিমি ও হাঙ্গরের সংরক্ষণ ও বংশ বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।’
এ ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন এক হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করার কার্যক্রম চলমান আছে। বঙ্গোপসাগরে জলজ সার্বিক জীববৈচিত্র্য বিশেষ করে ডলফিন সংরক্ষণের টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনলাইন এক্সিবিশনে সাগরের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিকারী সংগঠন ’সেভ আওয়ার সি’ এর উদ্যোগে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ডুবুরিদের পানির নিচের সৌন্দর্যের স্থির ও ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।


আরো সংবাদ