২৮ অক্টোবর ২০২০

পুঁজিবাজারে চলতি বছর আসছে না ২৭ বীমা কোম্পানি

এক বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা
-

এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানি পুুঁজিবাজারে আসেনি। চলতি বছরেও তা সম্ভব হবে কি না সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশের ২৭টি বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারের বাইরে রয়েছে। এদেরকে বাজারে আনার জন্য অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিন মাসের একটি সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। সেই অনুযায়ী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এসব বীমা কোম্পানিকে তিন মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসার জন্য নির্দেশনাও জারি করে। কিন্তু তিন মাস তো দূরের কথা, ১২ মাস পরও এই কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তাদের শেয়ার অবমুক্ত করেনি।
পুঁজিবাজারে না আসার কারণ হিসেবে আইনগত জটিলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর করোনাকে আরো একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিয়মানুযায়ী কোনো কোম্পানি শেয়ার বাজারে আসতে হলে তার পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকা হতে হবে এবং এই সব কোম্পানির অডিট হালনাগাদ থাকতে হবে। কিন্তু পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা বেশির ভাগ বীমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা এবং তাদের কোনো হালনাগাদ অডিটও নেই। ফলে এসব কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে পারছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বীমা কোম্পানিগুলো এখন বলছে, করোনার কারণে তারা পাঁচ-ছয় মাস কোনো কাজ করতে পারেনি। ফলে পুঁজিবাজারে আসার জন্য সেসব নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা প্রয়োজন তা-ও সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে তারা আরো সময় চেয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এ বছরও তাদের পুঁজিবাজারে আনা সম্ভব হবে না।
জানা গেছে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে ৪৭টি বীমা কোম্পানি। বাকি ২৭টি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি জীবন বীমা এবং ৯টি সাধারণ বীমা কোম্পানি। বাকি চারটি কোম্পানির মধ্যে দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত, একটি বিদেশী মেটলাইফ এবং বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ কোম্পানি। এই চারটি কোম্পানির পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা রয়েছে।
পুঁজিবাজারে বাইরের কোম্পানিগুলো হলো জীবন বীমা কোম্পানিÑ বায়রা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, বেস্ট লাইফ, চার্টার্ড লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ, প্রোটেকটিভ ইসলামি লাইফ, সোনালী লাইফ, জেনিথ ইসলামি লাইফ, আলফা ইসলামি লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ, যমুনা লাইফ, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, স্বদেশ লাইফ, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ, এলআইসি বাংলাদেশ।
সাধারণ বীমা কোম্পানির মধ্যে রয়েছেÑ ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ও সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম এবং সব বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুখ্য নির্বাহীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা করেন। সেখানে তিনি পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা ২৭টি বীমা কোম্পানিকে তিন মাসের মধ্যে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, তিন মাসের মধ্যে যেসব কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না, তাদের লাইসেন্স প্রাথমিকভাবে সাময়িক বাতিল করা হবে। তারপর কয়েকটি কোম্পানি মিলে একীভূত হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। তার পরও যেসব কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে পারবে না তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। অর্থমন্ত্রীর সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২৭টি কোম্পানি আগামী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর এ নির্দেশের পর আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে ২৭টি বীমা কোম্পানির উদ্দেশে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। সেখানে বলা হয়,‘যেসব লাইফ ও নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বীমা আইন,২০১০ এর ২১ ধারা এবং বীমাকারীর মূলধন ও শেয়ার ধারণ বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধান মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের অবশিষ্ট শতকরা ৪০ ভাগ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আহ্বানের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রয়পূর্বক দেশের পুঁজিবাজারে এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত হয়ে শর্ত পূরণে সক্ষম হয়নি তাদেরকে আগামী তিন মাসের মধ্যে (ডিসেম্বর-২০১৯) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। অন্যথায় বীমা আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়।
বীমা আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি নিবন্ধিত হওয়ার তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে না পারলে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে আরো দুই বছর সময় নিতে পারে। এর পরেও তালিকাভুক্ত না হলে, প্রতিদিনের জন্য জরিমানা দিতে হবে। ২০১০ সাল পর্যন্ত জরিমানার পরিমাণ ছিল প্রতিদিন এক হাজার টাকা। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়।

 


আরো সংবাদ