২৮ অক্টোবর ২০২০
চ্যালেঞ্জের মুখে সৌদি রাজতন্ত্র

নির্বাসিত সৌদি নাগরিকদের রাজনৈতিক দল গঠন

-

রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে সৌদি ভিন্নমতাবলম্বীরা। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে নির্বাসিত সৌদি নাগরিকরা ‘ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্টি’ নামে ওই দল গঠনের ঘোষণা দেন। বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের শাসনামলে এই প্রথম কোনো বিরোধী দল গঠন হলো। পুরোপুরি রাজতন্ত্র শাসিত সৌদি আরব কোনো বিরোধী দলের অস্তিত্বকে বরদাশত করে না। এর মধ্যে দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আরো বেশি খর্ব হয়েছে।
রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরব একটা নিখুঁত রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিরোধিতার সুযোগ নেই সেখানে। সম্প্রতি ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমনপীড়ন আরো বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ২৩ সেপ্টেম্বর রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিরোধী দল গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে ২০০৭ ও ২০১১ সালেও বিরোধী দল গঠনের প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছিল। তবে গ্রেফতারসহ বিভিন্ন ধরনের বলপ্রয়োগের মধ্য দিয়ে তা দমন করা হয়। তবে আরব বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক পরিবারের সামনে একেবারেই দুর্বল মনে হলেও করোনাকালীন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি সৌদি সরকারের জন্য নতুন একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
এবার যারা দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন, বুধবার তাদের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে : ‘আমরা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্টি নামের একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য সৌদি আরবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা।’
ঘোষিত রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, দলের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছেন লন্ডনভিত্তিক বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ইয়াহা আসিরি। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষাবিদ মাদায়ি আল-রশিদ, গবেষক সাঈদ বিন নাসের আল-গামদি, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত আবদুল্লাহ আলাউদ এবং কানাডায় থাকা ওমর আবদুল আজিজ।
দলের সাধারণ সম্পাদক আসিরি হলেন বিমানবাহিনীর সাবেক অফিসার। আসিরি বলেছেন, ‘এক চরম সঙ্কটময় মুহূর্তে দেশকে রক্ষা করার তাগিদ থেকে আমরা এই দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া এবং শাসনকাজে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো।’
দলের মুখপাত্র ও ব্রিটেনের শিক্ষাকর্মী এম আল-রশিদ জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীন রাজপরিবারের বিরুদ্ধে তাদের কোনো শত্রুতার সম্পর্ক নেই; কিন্তু সরকারি দমন সমানে বাড়ছে। তাই এটাই দল গঠনের পক্ষে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা মানেই প্রবল ক্ষমতাধর সৌদি রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতন নয়। তবে তেলের দাম হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জি-২০ বৈঠক নিয়ে ব্যস্ত সৌদি শাসকের জন্য এটি স্পষ্টত একটি চ্যালেঞ্জ আকারে হাজির হয়েছে। তা ছাড়া ভাবী বাদশাহ ও বর্তমানে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার বিরোধীদের নানা কারণ দেখিয়ে গ্রেফতার করেছেন। ২০১৮ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাতে তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সৌদি কর্মকর্তারা অবশ্য যুবরাজের ভূমিকার কথা অস্বীকার করেছেন। তার সংস্কার কর্মসূচি নিয়েও সৌদিতে বিতর্ক হচ্ছে।

 


আরো সংবাদ