২৮ অক্টোবর ২০২০
জাতিসঙ্ঘের ভার্চুয়াল অধিবেশন

করোনা টিকা প্রাপ্যতায় গুরুত্বারোপ করবেন প্রধানমন্ত্রী

-

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্ববাসীর সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সবার জন্য ভাইরাসের টিকা বা প্রতিষেধকের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেবেন। মহামারীর সময়ে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দুর্দশা দমনে বাংলাদেশের কার্যক্রম তিনি তুলে ধরবেন। বরাবরের মতোই রোহিঙ্গা সমস্যা ও তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রাধান্য পাবে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির আদান-প্রদান, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ, লিঙ্গসমতা নিশ্চিতকরণ, শিশু স্বাস্থ্য ও তাদের অধিকার, শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়গুলো উঠে আসবে।
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে আজ থেকে শুরু হওয়া উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ককে সামনে রেখে গতকাল আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন এসব কথা জানান। তিনি বলেন, করোনা মহামারীর কারণে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতিসঙ্ঘের ইতিহাসে এই প্রথম ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে সদস্যরাষ্ট্রগুলো নিজ নিজ দেশ থেকে অধিবেশনে অংশ নেবে। নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসঙ্ঘ স্থায়ী মিশন থেকে একজন প্রতিনিধি সশরীরে অধিবেশনে যোগ দেবে। তাই অন্যান্যবারের মতো এবারের অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। অধিবেশনের সাইডলাইন বৈঠকগুলোতে অনেক দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্তও নেয়া হতো। এবার তার ব্যতিক্রম হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম এবং আগে থেকে রেকর্ড করা বক্তব্যের মাধ্যমে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলায় তার বক্তব্য রাখবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বছর সাধারণ বিতর্কের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘যে ভবিষ্যৎ আমরা চাই : যে জাতিসঙ্ঘ আমাদের প্রয়োজন।’ জাতিসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তি ও করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবকে উপজীব্য করে এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের অধিবেশনটি বেশ কিছু কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, জাতিসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছরপূর্তিতে অনুষ্ঠিতব্য এই অধিবেশন যেমন বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রাসঙ্গিকতাকে সামনে নিয়ে আসবে, তেমনি বিশ্ব নেতৃবৃন্দ আগামী বছরগুলোতে কী ধরনের জাতিসঙ্ঘ দেখতে চান, সে বিষয়ে তাদের অভিমত, চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। দ্বিতীয়ত, কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার ইস্যুটি এবারের অন্যতম আলোচিত বিষয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর উদ্যোগ, মহামারীর কারণে সৃষ্ট বৈষম্য, স্বল্পোন্নত ও অভিবাসী প্রেরণকারী দেশগুলোর ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, অর্থনৈতিক বিপর্যয়সহ নানবিধ সমস্যা মোকাবেলা এবং মহামারী-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে এবারের অধিবেশনে আলোচনা হবে। তৃতীয়ত, মহামারী প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করার কারণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন প্রচেষ্টা যাতে ব্যাহত না হয় এবং গ্রাজুয়েটিং দেশগুলোর গ্রাজুয়েশন প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার বিষয়গুলো এবারের অধিবেশনে উঠে আসবে। চতুর্থত, রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত অপরাধ নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আইনি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে এবারের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা গুরুত্বের সাথে আলোচিত হবে। পঞ্চমত, এবারের অধিবেশনে নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে আলোচিত হবে।
সাধারণ বিতর্ক পর্বের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, বিশ্বের যেখানে করোনাভাইরাসের সফল প্রতিষেধক পাওয়া যাবে, বাংলাদেশ সেখান থেকেই তা সংগ্রহ করবে। জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে এই প্রতিষেধকের সহজলভ্যতার ওপর বাংলাদেশ গুরুত্ব দেবে। প্রতিষেধক সরবরাহের ব্যাপারে রাশিয়া, চীন ও ভারত আমাদের আশ্বস্ত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথেও আমাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প প্রতিষেধক নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে।

 


আরো সংবাদ