২৬ অক্টোবর ২০২০

বিধিমালা চূড়ান্ত ছাড়াই নিয়োগ পাচ্ছেন এফআরসির আরেক চেয়ারম্যান

দায়িত্বে আসছেন অধ্যাপক ড. মো: হামিদ উল্লাহ
-

অবশেষে দুই মাস পর ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে এফআরসির চেয়ারম্যানের শূন্যপদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের অধ্যাপক ড. মো: হামিদ উল্লাহ ভূঁইয়া। চার বছরের জন্য তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগের চেয়ারম্যানের মেয়াদ গত জুলাই মাসে শেষ হয়ে যায়। এর পর থেকে পদটি শূন্য অবস্থায় ছিল।
এ দিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হলেও গঠনের তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই সংস্থাটির বিধি-প্রবিধিমালা এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অর্থ বিভাগের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এ নিয়োগে চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে একটি ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে বহুল আলোচিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট’ প্রণীত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এতে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), কোম্পানি ও সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল’ (এফআরসি) প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়। আইনটি বাস্তবায়নে পরের বছর (২০১৬) এপ্রিলে গঠিত হয় ‘এফআরসি’। এর পরের বছর (২০১৭) জুলাইয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব সি কিউ কে মুস্তাক আহমদকে এফআরসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থার কার্যক্রম শুরু হয়।
এফআরসির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থ সংস্থাগুলোর ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কার্যক্রমকে একটি সুনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনা, হিসাব ও নিরীক্ষা পেশারস্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন, যথাযথ প্রতিপালন, বাস্তবায়ন, তদারকি এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য কাজ সম্পাদনের জন্য একটি কাউন্সিল প্রতষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন,২০১৫’ প্রণয়ন করা হয়।
ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন,২০১৫-এর ধারা ১০-এর উপধারা (৬) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ভিত্তিতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমদকে তার ৬৫ বছর হওয়া পর্যন্ত ৩ বছর ৬ দিনের জন্য ২০১৭ সালের ২ জুলাই তারিখে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তার নিয়োগের মেয়াদ চলতি বছর ৮ জুলাই শেষ হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের পদটি গত ৯ জুলাই থেকে শূন্য রয়েছে।
আইনের ধারা ১০-এর উপধারা (১) অনুসারে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের সুপারিশ করার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সভাপতি বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত একজন সদস্য ও অর্থসচিব।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে চেয়ারম্যানের শূন্য পদের বিপরীতে দুইজন উপযুক্ত ব্যক্তির নামের তালিকা প্রস্তুত করে বাছাই কমিটির সুপারিশসহ সরকারের কাছে পেশ করার বিধান রয়েছে।’ কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগের যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘সরকার, কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাবরক্ষণ বা ব্যবসা প্রশাসন বা অর্থনীতি বা আইন বা ফাইন্যান্স বা ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ কমপক্ষে ১৫ বছরের নির্বাহী কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তিকে চার বছর মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করবে।’
এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের জন্য গত ৭ জুলাই বাছাই কমিটির একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে দুইজনের নাম প্রস্তাব করে গত ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে নতুন প্রস্তাব দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী ফাইন্যান্সসিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের সুপারিশ দেয়ার জন্য কমিটির ভার্চুয়াল সভ গত ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের সুপারিশ দেয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে বাছাই কমিটি দুইজনের নাম সুপারিশ করে।
এ দুইজন হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের অধ্যাপক ড. মো: হামিদ উল্লাহ ভূঁইয়া এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মো: ইউনুসুর রহমান। এই দুইজনের মধ্য থেকে ড. মো: হামিদ উল্লাহ ভূঁইয়াকে চার বছরের জন্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়ার অর্থমন্ত্রীর সুপারিশসহ প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ দিকে তিন বছরেও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এফআরসির সাংগঠনিক কাঠামো এখনো অনুমোদন হয়নি, গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়নি এর বিধি-প্রবিধানমালা।
গত ১৭ আগস্ট প্রণীত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল’-এর সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের জন্য এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ এফআরসির সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের প্রস্তাবটি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এছাড়া ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট ২০১৫’ অনুযায়ী ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল’-এর বিধি-প্রবিধানমালা গেজেট আকারে প্রকাশের বিষয়ে সর্বশেষ গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বৈঠক করেছে অর্থ বিভাগ।
প্রসঙ্গত, ‘ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট ২০১৫’ অনুযায়ী এফআরসির সদস্য সংখ্যা হবে ১২ জন। এফআরসিতে একজন চেয়ারম্যান, ১০ জন্য সদস্য ও একজন নির্বাহী পরিচালক থাকবেন। চেয়ারম্যান তিন মাসে একবার কাউন্সিলের সভা ডাকবেন। আইন অনুযায়ী এফআরসির সদস্য হবেনÑ অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, একজন ডেপুটি মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন সদস্য, ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’-এর একজন কমিশনার, ‘ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস বাংলাদেশ’-এর সভাপতি, ‘ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্টস বাংলাদেশ’-এর সভাপতি, সরকারি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি। এ ছাড়া এফআরসির চেয়ারম্যান একজন সদস্যসচিব নিয়োগ দেবেন।


আরো সংবাদ