২৮ অক্টোবর ২০২০
কক্সবাজারে দুদকের ধারাবাহিক অভিযান

এবার মেয়র মুজিবুরের ২০ লাখ টাকা জব্দ

-

কক্সবাজারে দুদকের অভিযানে একের পর এক জব্দ হচ্ছে টাকা ও স্থাবর সম্পত্তি। মূলত ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছ থেকে এসব অবৈধ সম্পদ জব্দ করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেল, পৌর কাউন্সিলর ওমর ছিদ্দিক লালু প্রমুখ। গতকাল সোমবার মেয়র মুজিবুর রহমান ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের ব্যাংক হিসাব থেকে জব্দ করা হয় ২০ লাখ ১২ হাজার টাকা। দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম কক্সবাজার সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে এসব টাকা জব্দ করে। অপর দিকে সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ নোবেলের ব্যাংক হিসাব থেকে ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকাসহ কয়েক কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি।
দুদক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, মেয়র মুজিবুর রহমানের ব্যাংক হিসাব থেকে সোমবার দুপুরে ১৮ লাখ ৭৮ হাজার ৬০১ টাকা ও তার ছেলে মেহেদী হাসানের ব্যাংক হিসাব থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে থাকা কক্সবাজার পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর ছিদ্দিক লালুর হিসাব থেকে ১৭ হাজার ৮৩০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর দুদকের টিম মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের কক্সবাজার শাখা থেকে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌরমেয়র মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের ১১টি ব্যাংক হিসাব থেকে ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯০ টাকা জব্দ করে। পরদিন ১৫ সেপ্টেম্বর পৌরমেয়র ও তার পরিবারের ৬ কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ পায় দুদক। এসব স্থাবর সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রক্রিয়ায় থাকায় এসব সম্পদ অভিযুক্তদের হস্তান্তর না করার জন্য কক্সবাজারের জেলা রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেয় দুদক। ১৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে পৌরসভা মেয়রের আটটি দলিল জব্দ করে দুদক। এর মধ্যে তিনটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বায়নাকৃত। অন্য দিকে বাকি পাঁচটি আমমোক্তারনামা। জব্দ করা দলিলের জমির পরিমাণ ৮৭ দশমিক ৮৩ শতক। অপর দিকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেলের ২১ কোটি টাকা জব্দের পর গত রোববার এক দশমিক ১১ একর জমি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। এই জমির মূল্যমান দেখানো হয়েছে এক কোটি ৬৭ লাখ ১১ হাজার টাকা। গত রোববার কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নোবেলের জমির নিয়ন্ত্রণ নেয় দুদক। এর আগে তার নামে থাকা ২১ কোটি ২২ লাখ টাকা জব্দ ও কক্সবাজার শহরে চারটি ফ্ল্যাটেরও নিয়ন্ত্রণ নেয় দুদক।
দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন আরো জানান, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে নোবেলসহ কক্সবাজার জেলার ১০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধান করছে দুদক। প্রাপ্ত তথ্য মতে, দুদকের অনুসন্ধানে নোবেলের নামে বেসিক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় এর আগে ২০ কোটির বেশি টাকার সন্ধান পায় দুদক। ওই টাকা জব্দের পর কক্সবাজার জেলা ডাকঘরে আরো ৮০ লাখ টাকার এফডিআরের সন্ধান পায় দুদক এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাও জব্দ করে দুদক। সর্বশেষ ইউনিয়ন ব্যাংকের কক্সবাজার শাখায় আরো ৪২ লাখ টাকা পাওয়া যায়। ১৭ সেপ্টেম্বর ওই ৪২ লাখ টাকা জব্দ করতে অভিযান চালায় দুদক।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কথিত মধ্যস্থতার (দালালি) নামে অবৈধ উপায়ে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে দুদক। কক্সবাজারে বিভিন্ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক বেশ কয়েকটি চক্রের খোঁজ পেয়েছে। এসব চক্রের অন্তত ৬০ জন সদস্য কক্সবাজারে চলমান ৭০টিরও বেশি প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দুদকের হাতে থাকা তালিকায় কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও তার ছেলে মেহেদী হাসান, সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ মোহাম্মদ কায়সার নোবেলসহ জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দুইজন সাংবাদিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।


আরো সংবাদ