২১ অক্টোবর ২০২০

করোনায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থী স্কুলে চাই মানবিক আচরণ

করোনাকালে শিক্ষা ঝুঁকি- শেষ
-

শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক এখনো কাটছে না। যদিও করোনা থেকে মুক্ত থাকতে প্রচারমাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হয়েছে তারপরও স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীদের মনে করোনার ভীতি রয়েই গেছে। তাই স্কুল খুললেও এসব শিক্ষার্থীর সাথে মানবিক আচরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে স্কুল কলেজ খোলার পর শিক্ষার্থীদের আরো বেশি স্বাস্থ্য সচেতন করতে তাদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা এবং তাদের ভীতি কাটিয়ে মনোবল চাঙ্গা করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সমগ্র বিশ্বেই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের করোনা-দুর্যোগের চিত্র আমাদের শিক্ষার্থীরাও সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিয়ত আপডেট পাচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের দেশের সার্বিক পরিস্থিতিও নাজুক। আর্থিক, সামাজিক, শিক্ষাসহ আমাদেরও নানা খাতে এই দুর্যোগের যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে নতুন করে এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নি®প্রয়োজন।
এ দিকে গত প্রায় সাত-আট মাসে করোনা-দুর্যোগের বিরূপ প্রভাব পড়েছে আমাদের শিক্ষা খাতেও। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাই তো বটেই অভিভাবকদের মধ্যেও নানা রকম শঙ্কা তৈরি করেছে বিদ্যমান করোনার এই পরিস্থিতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের মহামারী মোকাবেলায় সব দেশের প্রতি পদক্ষেপ দ্বিগুণ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক আরো কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থার কথাও বলেছেন। এইগুলো আমাদের শিক্ষা সেক্টরে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে করোনার এই সময়ে শিক্ষার্থীর মনোকষ্ট, ভয় ও দুশ্চিন্তাও বেড়েছে। অন্য দিকে কমেছে শিক্ষার্থীদের আনন্দ। এ ছাড়া পড়াশোনা ও সৃজনশীল কাজকর্ম ব্যতীত অন্যান্য কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীরা গড়ে সময় কাটাচ্ছে ৩৮১ মিনিট। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার বিখ্যাত মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। গবেষণায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রভাব, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় বা আতঙ্ক এবং অনলাইনে পাঠ গ্রহণের সাথে মানিয়ে নেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য মুঠোফোনে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকের সারা দেশের শহরের বস্তি (ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও সিলেট ছাড়া) এবং গ্রামের ৪ হাজার ৬৭২টি পরিবারের ৫ হাজার ১৯৩ শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণা করা হয়। শিক্ষার্থীর পাশাপাশি মায়েদের সাক্ষাৎকারও নেয়া হয়। চলতি বছরের ৫ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত এ গবেষণা কাজে সার্বিক সহায়তা করেছেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর (বিআইজিডি) সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট অনিন্দিতা ভট্টাচার্য, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মনতাজিমা তাসনিম এবং রিসার্চ ইন্টার্ন ফারজিন মুমতাহেনা।
গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার আগে গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুল, কোচিং ও বাড়িতে প্রতিদিন গড়ে ৬২৫ মিনিট পড়ালেখায় ব্যয় করলেও এখন তারা মাত্র ১২৪ মিনিট পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীদের মনে ভয় বা আতঙ্ক কাজ করায় দিনে ১০ ঘণ্টা পড়ালেখার সময় কমে এসেছে মাত্র ২ ঘণ্টায়। সেই হিসেবে ৮০ শতাংশ পড়াশোনার সময় কমেছে।
শিশুদের মনে করোনার ভয় ও ভীতির বিষয়ে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্প্রতি তার প্রবন্ধে লিখেছেন, মানুষের মনে করোনা-দুর্যোগ ভয়াবহভাবে হতাশা-আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ শিক্ষার্থীদের মনে করোনার এই অপচ্ছায়া আরো বেশি বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে গৃহবন্দী শিশু শিক্ষার্থীরা মানসিক বিষাদে বেশি আক্রান্ত হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমেই এসেছে। তাই স্কুল খোলার পর শ্রেণী শিক্ষকদের এসব শিশু, তরুণ, তরুণী, কিশোর, কিশোরীদের ওপর মনোযোগ বিশেষভাবে বাড়াতে হবে।
প্রবীণ শিক্ষক নেতা ও ২০১০ সালের শিক্ষা কমিশনের সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক মনে করেন, করোনায় শিশু-কিশোরদের মনে একটি ভয় বা আতঙ্ক এখনো কাজ করছে। অনেক শিক্ষার্থীর মনে একটি ধারণা বদ্ধমূল যে স্কুলে গেলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই স্কুল এখনো খুলছে না। তাই স্কুল খোলার পর এই খুদে শিক্ষার্থীদের মনে সাহস জোগাতে হবে। তাদের মনে করোনার এই ভীতি কাটাতে হবে। স্কুল কলেজের শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের সাথে সহনশীল ও মানবিক আচরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান কিভাবে শিক্ষার্থীদের আরো বেশি আত্মবিশ^াসী হিসেবে গড়ে তুলছে আমাদেরকে সেই আলোকেই শিক্ষা কাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে।

 


আরো সংবাদ

হ্যাকাররা চুরি করা অর্থ কেন দান করছে ধাওয়ানের অনন্য কীর্তি ছাপিয়ে দুরন্ত পাঞ্জাব রোনালদোহীন জুভেন্টাসের জয়ের নায়ক মোরাতা জয়ের নায়ক রাশফোর্ড, প্যারিসে ম্যানইউর কাছে হারল পিএসজি মেসির রেকর্ডের রাতে পিকের লাল কার্ড; তারপরও গোল উৎসব বার্সার একতরফা নির্বাচনী ধারা বন্ধে ফের তৎপর বিএনপি ভিসামুক্ত ভ্রমণের চুক্তি করল আমিরাত ও ইসরাইল মাদক সেবনের টাকা না দেয়ায় বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে হত্যা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের শ্রদ্ধা দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে আনার প্রতিবাদ করায় প্রথম স্ত্রীর মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকা সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে অঙ্গসংগঠন হিসেবে কাজ করছে ইসি : মির্জা ফখরুল

সকল