২০ অক্টোবর ২০২০

সৌদিগামীরা ভিসা নিয়ে শঙ্কিত

বিমান এয়ারলাইন্সকে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়নি
-

দেশে আটকেপড়া সৌদি আরবগামী প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের ভিসার (ইকামা) মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে অনেকটাই শঙ্কিত। ইতোমধ্যে কারো কারো ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কারো মেয়াদ এক সপ্তাহ পর শেষ হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের পর যদি যেতে পারেন তাহলে ভিসার মেয়াদ আদৌ বাড়ানো হবে কি, হবে না- তা নিয়ে অনেকেই আছেন ভয় আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে।
এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সৌদি আরবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে সৌদি সরকার ফ্লাইট শিডিউল না দেয়ার কথা জানিয়েছে। যার কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সৌদিগামী শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। তবে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চলাচল করবে বলে সৌদিগামী যাত্রী ও এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো ক্ষুদেবার্তায় জানানো হয়, সৌদি আরবগামী যাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে সে দেশের বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিল। সে অনুযায়ী বিমান ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি প্রদান করেনি। সৌদি সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর বিমান ফ্লাইট পরিচালনা করবে। সৌদি গমনেচ্ছু সকল যাত্রীদেরকে যাত্রার তারিখ, সময় যথসময়ে অবহিত করা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
গতকাল ঢাকায় আটকাপড়া চাঁদপুরের বাসিন্দা একজন যাত্রী নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে ছুটিতে দেশে এসেছিলাম। করোনায় আটকা পড়েছি। এখন আমার ছুটি এবং ইকামার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর। উপায় না পেয়ে ২০ তারিখ সকাল সাড়ে ১০টার সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের টিকিট কিনলাম। আমার গন্তব্য দাম্মাম হলেও টিকেট নিয়েছি জেদ্দা পর্যন্ত। ভিসার মেয়াদ আছে ২০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব সময় রাত ১২টা পর্যন্ত। ওইদিনের ফ্লাইট ফুল আছে। বিমানকে শিডিউল দেয়া হয়নি এটা জানলাম। এখন ভয়ে ভয়ে আছি যেতে পারব কি না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, শুধু আমার নয়, আমার মতো অনেকের ভিসার মেয়াদই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটি নিয়ে আমাদের সরকারের এখনই সৌদি আরব সরকারের সাথে কথা বলা দরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোকাব্বির হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, সৌদি আরব বলেছিল তারা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কমার্শিয়াল ফ্লাইটের জন্য এয়ারপোর্ট ওপেন করবে। এরজন্য তারা কিছু শর্ত দিয়েছিল। এরমধ্যে ইকামা থাকলে যেতে পারবে, রেসিডেন্স পারমিট থাকলে যেতে পারবে। আমরা সেই অনুযায়ী তাদের কাছে ফ্লাইট ওপেন করতে শিডিউল চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের বিমানকে ফ্লাইট শিডিউল দেয়নি। এখন শুনলাম তারা ফ্লাইট শিডিউল দেবে না। এক্ষেত্রে এয়ারলাইন্স হিসাবে আমাদের কিছুই করার নেই। এখন বাকিটা গর্ভমেন্ট-এর ইস্যু। সৌদি আরবগামী শ্রমিকদের ভিসা থাকবে কি থাকবে না, নেবে কি নিবে না সেটা বলতে পারবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এটা এয়ারলাইন্সের ইস্যু না।
এক প্রশ্নের উত্তরে এমডি বলেন, আমরা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু পারমিশন না দেয়ায় ফ্লাইট স্থগিত করেছি। কারণ আমাকে যদি ওখানে নামার পারমিশন না দেয়, আমি তো ফ্লাইট চালাতে পারব না। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করার জন্য আজকে থেকে ওপেন করছিলাম। পারমিশন না পাওয়ায় বন্ধ করে দিয়েছি। তিনি বলেন, যাত্রীরা জানেন, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট চালু হচ্ছে এ জন্য তারা বিমান অফিসে ভিড় করছেন। আমরা বিমান থেকে প্রেস রিলিজ দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি। এরআগে জনশক্তি প্রেরণকারী ব্যবসায়ীদের একমাত্র সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ অফ বাংলাদেশ (বায়রা)-এর মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তারা তো অবশ্যই প্রবলেমে পড়বে। সুতরাং, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কমার্শিয়াল ফ্লাইট চালু না হয় এবং এদের ভিসার মেয়াদ এমপ্লয়াররা রিনিউ না করে দিলে যাওয়াটা অনেকটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে। এটা যত দেরি হবে ততই চ্যালেঞ্জটা বাড়বে। বিশেষ করে চাকরি হারাবার। যোগ করেন তিনি।

 


আরো সংবাদ