২০ অক্টোবর ২০২০

ভিন্ন পেশায় ঝুঁকছেন শিক্ষক বন্ধ হচ্ছে নামীদামি স্কুল

করোনাকালে শিক্ষা ঝুঁকি-৩
-

করোনার সময়ে পেশা হারিছেন অনেক শিক্ষক। বিশেষ করে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেসরকারি পর্যায়ের অনেক স্কুলই বন্ধ হয়ে গেছে। ভাড়া বাসায় গড়ে উঠা এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিমাসের বাড়ি ভাড়া এবং শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করতে না পারায় তারা এক বা দু’মাস পরই তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অনেকে আবার স্কুল বিক্রিও করে দিচ্ছেন। কোনো কোনো স্কুলের ভবন ব্যবহার হচ্ছে অন্য ব্যবসায়িক কাজে। কেউ বা আবার স্কুল ভবনের সংস্কার করে সেখানে বাসা ভাড়াও দিয়েছেন। দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা বহু শিক্ষক (নারী এবং পুরুষ) হঠাৎ করেই বেকার হয়ে যান। একে তো করোনার প্রাদুর্ভাব অন্য দিকে চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয় তাদের। এ দিকে স্কুল খোলার নতুন কোনো ঘোষণাও সরকারের পক্ষ থেকে আসছে না। ফলে বাধ্য হয়েই স্কুল ছেড়ে ভিন্ন পেশায় ঝুঁকছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে করোনার এই সময়ে দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেসরকারি পর্যায়ের কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো। কিন্ডারগার্টেন পরিচালনাকরী মালিকদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, দেশে বর্তমানে ৬০ হাজারের বেশি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। আর এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী। আর শিক্ষকতায় জড়িত রয়েছেন প্রায় ১১ লাখ শিক্ষক। করোনার এই সময়ে অধিকাংশ শিক্ষকই তাদের চাকরি হারিয়েছেন অথবা চাকরি থাকলেও বেতন পাচ্ছেন না। ফলে অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়েই তারা ভিন্ন পেশায় যোগ দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের সভাপতি এম ইকবাল বাহার চৌধুরী নয়া দিগন্তকে জানান, বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে উঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শতকরা ৯০ ভাগের বেশিই ভাড়া বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত, যাহা সম্পূর্ণ রূপে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর নির্ভরশীল। যদিও ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করতে না পারায় মার্চ থেকে এই পর্যন্ত অনেকেই বাড়ি ভাড়া, শিক্ষক কর্মচারীর বেতন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিলসহ কোনো প্রকারের বিল পরিশোধ করতে পারিনি। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে না পারায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি আরো জানান, জীবন জীবিকার তাগিদে অনেক শিক্ষক অসম্মানজনক পেশায়ও নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন। এদের মধ্যে অনেকে ভিন্ন ব্যবসা কিংবা সবজিও বিক্রি করছেন।
অপর একটি সংগঠন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মিজানুর রহমান জানান, করোনার শুধু শিক্ষকরাই সঙ্কটের মধ্যে পতিত হননি বরং স্কুল প্রতিষ্ঠা যারা করেছেন তারাও এখন আর্থিক দেনার মধ্যে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে অনেক মালিক এখন স্কুলই বিক্রি করে দিচ্ছেন। তিনি আরো জানান, আমাদের সংগঠনের সদস্যদের মধ্যেও অনেকে একদিকে বাড়ি ভাড়া অন্য দিকে শিক্ষকদের বেতনের টাকার সংস্থান করতে না পেরে প্রতিষ্ঠান বন্ধ কিংবা বিক্রি করারও উদ্যোগ নিচ্ছেন। শিক্ষক এবং স্কুল পরিচালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনার এই সঙ্কটের মধ্যে সাধারণ পণ্য সামগ্রির মতোই হরমামেশা বিক্রি হচ্ছে স্কুল কলেজ। ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিক্রির এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নামীদামি অনেক প্রতিষ্ঠানও। দীর্ঘ দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আর্থিক দুরাবস্থার কারণেই মূলত এসব প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিচ্ছেন মালিকপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশের যে পরিমাণ স্কুল কলেজ বিক্রি হয়েছে করোনার এই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিক্রির সেই মাত্রা এখন ছাড়িয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল কলেজ বিক্রির নতুন নতুন খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রির এই তালিকায় প্রথমে রয়েছে কিন্ডারগার্টেন। এরপর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সেন্টার, ও বিভিন্ন প্রফেসলান কোর্সের ক্লাব বা কোচিং।
গত কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন সড়কে কম্পিউটার কম্পোজ করা সাদা কাগজের একটি বিজ্ঞাপন দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো রয়েছে। বিজ্ঞাপনে লেখা ফার্নিচারসহ স্কুল বিক্রি হবে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিজ্ঞাপন দাতা তকবীর আহমেদ নয়া দিগন্তকে জানান তিনি নিজেই স্কুলটির মালিক। মোহাম্মদপুরে বেড়িবাঁধের ঢাকা উদ্যান এলাকার নবীনগর হাউজিং ৪ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফুলকুঁড়ি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। অনেক স্বপ্ন নিয়ে তিনি শিশুদের এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। করোনাকালে বিদ্যালয়ের টিউশন ফি-সহ সব রকম আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থ সঙ্কটে পড়ে তিনি বিদ্যালয়টি এখন বিক্রি করে দিচ্ছেন।


আরো সংবাদ

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন : আমেরিকার কাছ থেকে যা যা পেতে চায় বাংলাদেশ ব্যর্থতার জন্য বিএনপির নেতাদের পদত্যাগ করা উচিত : সেতুমন্ত্রী ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা হবে সশরীরে, নম্বর বিভাজনে আসছে পরিবর্তন বাঘাইছড়িতে প্রতিপক্ষের সাথে বন্দুকযুদ্ধে পিসিপি নেতা নিহত করোনা : বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষায় ১০ প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি তথ্য প্রযুক্তি খাতে আরো ১০ লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে : পলক ঢাকা-১৮ উপ-নির্বাচন আমাদের জন্য একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ : আমান দেশে করোনায় আরো ১৮ জনের মৃত্যু উপ-নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে আবার নির্বাচনের দাবিতে মির্জাপুরে বিএনপির মানববন্ধন আকবর বিদেশে পালিয়ে গেলেও ফিরিয়ে আনা হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুঠিয়ায় পায়ের রগ কাটা লাশ উদ্ধার

সকল