২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

শিল্প ও সেবা খাতে ঋণ দিতে ব্যাংকের গড়িমসি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৫২ কোটি টাকা ছাড়
-

বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতে ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে। কিছু কিছু ব্যাংক কাগজপত্রাদি যাচাই-বাছাইয়ে কালক্ষেপণ করছে। ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদান না করায় অনেক প্রতিষ্ঠানই চলতি মূলধন ঘাটতির মুখে পড়েছে। ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধায় অর্থ ছাড় শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে গতকাল পর্যন্ত ঋণবিতরণকারী ব্যাংকগুলোকে ১৫২ কোটি টাকা ছাড় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সাথে এ সুবিধা ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। সুদহার নির্ধারণ করা হয় ৯ শতাংশ। এ ৯ শতাংশ সুদের মধ্যে গ্রাহক ব্যাংককে পরিশোধ করবে সাড়ে ৪ শতাংশ এবং বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ সরকার ব্যাংককে ভর্তুকি হিসেবে দেবে। ব্যাংকগুলোর তহবিল সঙ্কটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক অর্থাৎ ১৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা এ খাতে ঋণ বিতরণ করলে ৫০ কোটি টাকা তহবিল জোগান দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সহযোগিতা ঘোষণার পরেও বেশির ভাগ ব্যাংকই এ খাতে ঋণ বিতরণ করছে না।
শিল্পোদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর নানা সহযোগিতা ও ছাড় দেয়া হলেও ব্যাংকগুলো গ্রাহকের মাঝে তেমন কোনো ঋণ বিতরণ করছে না। প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নেয়ার জন্য আবেদন করা হচ্ছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নামে কালক্ষেপণ করছে। দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছে। এমনি একজন উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সিআরআর সংরক্ষণে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে। প্রায় দেড় শতাংশ কমে এখন সিআরআর সংরক্ষণ করছে ব্যাংকগুলো। এতে ব্যাংকগুলোর হাতে বাড়তি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা চলে এসেছে। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নেয়ার জন্য সুদহারও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর পরেও ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নামে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিøষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে প্রণোদনার প্যাকেজ থেকে অতিদ্রুত ঋণ প্রদান করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এর পরেও কিছু কিছু ব্যাংকের বিরুদ্ধে ঋণ প্রদানে গড়িমসি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে ওই সব ব্যাংককে সতর্ক করা হচ্ছে। একই সাথে প্রণোদনার প্যাকেজ থেকে ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদানে উৎসাহিত করতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে অর্থ ছাড় শুরু করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট থেকে অর্থ ছাড় শুরু হয়েছে। গতকাল ৬ আগস্ট পর্যন্ত ১৫২ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এখন থেকে যারাই আবেদন করবে তাদেরই এ সহযোগিতা দেয়া হবে।
এ দিকে আগে প্রণোদনার প্যাকেজের নীতিমালায় তিন বছরের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল সুবিধা দেয়ার জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল; কিন্তু কবে থেকে এ ছাড় শুরু করা হবে এবং কোন দিন পর্যন্ত শেষ হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা ছিল না। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ৪ আগস্ট থেকে শুরু হবে। শেষ হবে আগামী ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে তারিখে ব্যাংকের হিসাবে যে পরিমাণ অর্থ পুনঃঅর্থায়ন হিসেবে প্রদান করা হবে সেই তারিখ থেকে ওই পরিমাণ অর্থের ওপর দৈনিক ভিত্তিতে সুদ হিসাবায়ন করা হবে। তিন মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে বিকলনপূর্বক আদায় করা হবে। একই সাথে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সংক্রান্ত ব্যাংকের প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইটে দাখিল করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর তদারকি সহজ করতে নতুন এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


আরো সংবাদ