২২ সেপ্টেম্বর ২০২০
পল্লবী থানায় বিস্ফোরণ : তিনজন রিমান্ডে

কোনো উগ্রবাদী সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি : ডিবি

-

রাজধানীর পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কথিত তিন ভাড়াটে খুনির সাথে উগ্রবাদের সংশ্লিষ্টতা নেই জানিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলেছে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা। তবে তাদের দুই দিন আগেই পুলিশ আটক করেছিল পরিবারের এমন অভিযোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর দেয়নি পুলিশ। এ দিকে গ্রেফতারকৃত তিনজনকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের পৃথক দুই মামলায় ১৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, দুপুরে পল্লবী থানায় পৃথক দুই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই ফারুক হোসেন তিন আসামিকে আদালতে হাজির করেন। একই সাথে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের পৃথক দুই মামলায় প্রত্যেকের দশ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। এই সময় আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিরোধিতা করে রিমান্ড মঞ্জুরের দাবি জানানো হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে দুই মামলায় প্রত্যেকের সাত দিন করে ১৪ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে পল্লবী থানা পুলিশের একটি দল দু’টি পিস্তল এবং ওজন মাপা মেশিনের মতো বস্তুসহ রফিকুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন ও শহিদুল ইসলাম নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন বুধবার সকাল ৭টার দিকে থানায় ওজন মাপার মেশিনের মতো একটি যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়। এতে পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরান (৪৮), এসআই সজীব (৩০) পিএসআই অঙ্কুশ (২৮), পিএসআই রুমি (২৮) এবং সাধারণ নাগরিক রিয়াজ (২৮) আহত হন।
পুলিশ জানায়, ওই দিন ভোরে পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষে ডিজিটাল ওয়েট মেশিনের মতো দেখতে ভারী বস্তুটি তল্লাশি করতে গেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এ বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কোনো উগ্রবাদী সংশ্লিষ্টতা দেখছে না পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা স্থানীয় কোনো অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, এ ঘটনায় পল্লবী থানায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে আমরা যা পাচ্ছি এটা ‘স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার সংশ্লিষ্ট একটি ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিস। উগ্রবাদী কোনো সংশ্লিষ্টতা আমরা এখনো পাইনি।
পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কথিত তিন ভাড়াটে খুনির একজন শহিদুল। পুলিশের দাবি, ২৯ তারিখ ভোরে পল্লবী কবরস্থান এলাকা থেকে অস্ত্রসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু গ্রেফতার তিনজনের একজন শহিদুলের পরিবারের দাবি, ২৭ তারিখ বিকেলেই ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থানায় আটকে রেখে অস্ত্র ও বোমা বিস্ফোরণের নাটক সাজানো হয়েছে।
শহিদুল পরিবারের একজন বলেন, গত ২৭ তারিখ ৩টা ৫২ মিনিটে আমাদের এলাকার চায়ের দোকান থেকে ডিবি পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নেয়া হয়। থানায় যোগাযোগ করেছি, তারা বলছে, তারা এই নামে কাউকে ধরেনি। পরে আমরা জিডি করেছি। শহিদুলকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়ার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছে শহিদুলের পরিবার। তুলে নেয়ার সময় দেখেছেন তার শ্বশুরও। শহিদুলের শ্বশুর বলেন, ২৭ তারিখে যাকে তুলে নিয়ে যায় তার পরদিন কিভাবে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায়।
পরিবারের এ দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যায় পুলিশ। ডিবির কর্মকর্তা শুধু বলেন, পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কথিত তিন ভাড়াটে খুনির সাথে উগ্রবাদী সংশ্লিষ্টতা নেই। এটা আধিপত্য বিস্তারের ঘটনা বলে মনে হয়েছে। আরো তদন্ত হচ্ছে।

 


আরো সংবাদ