১০ আগস্ট ২০২০

ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে আ’লীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ

-
24tkt

ঢাকা-৫ আসনে ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবারের এমপি ছিলেন হাবিবুর রহমান মোল্লা। এর আগে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হয়েছিলেন এই আসন থেকে। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন টানা পাঁচবার। সাফল্য পেয়েছিলেন চারবার। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। গত ৬ মে পোড় খাওয়া এই নেতা মৃত্যুবরণ করেন। ফলে আসনটি শূন্য হয়ে যায়। এখন আগামী উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রীতিমতো জল্পনা কল্পনা চলছে। আওয়ামী লীগ কি আবারো মোল্লা বাড়ির ওপর আস্থা রাখবে, না কি নতুন কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবেÑ এ নিয়ে এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই মনে করেন, ঢাকা-৫ আসনে মোল্লা বাড়ীর লোকজন এলাকায় শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আওয়ামী লীগের সাংগঠনিকভিত্তি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিন একই ব্যক্তি মনোনয়ন পাওয়ায় অন্য নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন। যদিও তিনি সবার মুরব্বি ছিলেন বলে সরাসরি কেউ আপত্তি তোলেননি। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। দীর্ঘ এই সময়ে একাধিক বলয়ও তৈরি হয়েছে এলাকায়। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে গত প্রায় চার বছর কেটে গেলেও ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থানা-ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। যদিও ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মশিউর রহমান মোল্লা সজল। তিনিও তার বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য জোরালো চেষ্টা তদবির শুরু করে দিয়েছেন। বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে একটু থেমে ছিলেন। এখন সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তৃণমূল সুসংগঠিত আছে দাবি করে সজল নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরাবরই মোল্লা বাড়ির ওপরে আস্থা রেখেছেন। আমার বাবা সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। আমার বাবার অবর্তমানে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রাখবেন বলে আশা করি।
মোল্লা বাড়ির বাইরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ মুন্না, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ইসলাম খান মাসুদ, সিনিয়র সহসভাপতি ও ডিএসসিসির ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আতিকুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন। এর মধ্যে কাজী মনিরুল ইসলাম মনু গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র পেয়েছিলেন। পরে দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলে তিনি মনোনয়ন ফরম জমা দেননি। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলাম। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়নি। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী আগামী উপনির্বাচনে আমাকে সুযোগ দেবেন। আর যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ মুন্না ছিলেন মরহুম হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী। ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন হাবিবুর রহমান মোল্লা। ওই সময়কার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হারুনর রশীদ মুন্না। এরপর বিভক্ত হয়ে যাত্রাবাড়ী থানা গঠন হলে সাধারণ সম্পাদক হন মুন্না। ১/১১ এর সময় আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তিনি রাজপথে সোচ্চার ছিলেন। হারুনর রশীদ মুন্না নয়া দিগন্তকে বলেন, আলহাজ হাবিবুর রহমান মোল্লা ছিলেন আমার একজন অভিভাবক। দীর্ঘ রাজনীতির পথ চলায় তিনি সব সময় আমাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি এখন আমাদের মাঝে নেই। নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে হাবিবুর রহমান মোল্লার অসমাপ্ত কাজগুলো আমি সমাপ্ত করতে চাই।
আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও ডিএসসিসির ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আতিকুর রহমান বলেন, রাস্তাঘাট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করেছি। সব সময় মানুষের সঙ্গে থেকেছি। এলাকার উন্নয়নে আমার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। নেত্রী আমার ওপর আস্থা রাখলে নিজেকে বিলিয়ে দেবো।
তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন বলেন, দলের দুঃসময়ে বিভিন্ন সময়ে নেত্রীর নির্দেশে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে একাধিক মামলার আসামি হয়ে জেলে যেতে হয়েছে। নেত্রীর তরুণ নেতৃত্বের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের বিষয়ে আমি আশাবাদী।
ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল জাসদের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো: শহীদুল ইসলামও মনোনয়ন চান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাধিকবার দল ও জোটের স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি। আগামী উপনির্বাচনে আমার অতীতের ত্যাগের কথা বিবেচনা করে জোট আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
এ ছাড়াও শেখ পরিবারের আত্মীয় নেহরীন মোস্তফা দিশিও আলোচনায় রয়েছেন। নেহরীন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনায় নির্মমভাবে নিহত শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামালের ভাতিজি। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার আবদুস সবুর আসুদও জোট থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী।


আরো সংবাদ