১৬ আগস্ট ২০২০

রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ১০.৮৭ শতাংশ

অর্থবছরের শেষ মাসে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
-
24tkt

বিদায়ী অর্থবছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বছরের শেষ চার মাসের মধ্যে তিন মাসেই রেমিট্যান্সপ্রবাহ বড় আকারে কমে যায়। বিশ্বব্যাপী করোনার কারণে মার্চে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্স কম আসে সাড়ে ১২ শতাংশ, এপ্রিলে ২৪ শতাংশ এবং মে মাসে ১৪ শতাংশ। কিন্তু জুনে হঠাৎ করে রেমিট্যান্স বেড়ে যায় ৩৪ শতাংশ। বছরের শেষ মাসে এ অস্বাভাবিক রেমিট্যান্স বেড়ে যাওয়ার সুবাদেই রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা রক্ষা পায়। আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ শতাংশ।
বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই লকডাউন চলছে। এতে রেমিট্যান্স পাঠানোর অন্যতম মাধ্যম বেশির ভাগ এক্সচেঞ্জ হাউজও বন্ধ হয়ে যায়। কাজ না থাকায় শ্রমিকরা ঘরে অবরুদ্ধ। এ কারণেই গত মার্চ থেকে টানা তিন মাস অর্থাৎ মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যায়। কিন্তু হঠাৎ জুনে রেমিট্যান্সপ্রবাহ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন করোনার কারণে হুন্ডি তৎপরতা কমে গেছে। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়ে যায়। অপর দিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশ থেকেই শ্রমিকের চাকরি হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন। কাজ না থাকায় বিদেশে অবস্থান অনেকের জন্যই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিন বিদেশে যারা অবস্থান করছেন তারা জমানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এরও প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। আবার কেউ কেউ বলছেন, করোনার কারণে দেশে বেশির ভাগ মানুষেরই আয় রোজগার কমে গেছে। অনেকেই চাকরি হারাচ্ছেন। অনেকেরই বেতন-ভাতা বন্ধ। অনেকেরই পক্ষে এখন টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই এখন ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। এ সময়ে যাদের বিদেশে অত্মীয়স্বজন রয়েছেন তারা কেউ কেউ দেশে বেকায়দায় পড়া আত্মীয়স্বজনের জন্য অর্থ পাঠাচ্ছেন। এ কারণেও হঠাৎ রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যেতে পারে। আবার কেউ বলছেন, রেমিট্যান্স আসলেই ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। নগদ সহায়তা পাওয়ার আশায় হুন্ডির পরিবর্তে অনেকেই বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইতে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২১ শতাংশ। এরপর আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্তÍ একটানা রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়। যদিও প্রথম মাসের মতো প্রবৃদ্ধি হয়নি, তবে ঋণাত্মক হয়নি। কিন্তু মার্চ মাস থেকে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই লকডাউন শুরু হয়। এ কারণে শ্রমিকরা বেকার হয়ে ঘরেই অবস্থান করেন। এর প্রভাবে মার্চে আগের বছরের চেয়ে রেমিট্যান্স কম আসে ১৮ কোটি ২০ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্মক সাড়ে ১২ শতাংশ। এপ্রিলে কম আসে ৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যার প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ২৪ শতাংশ এবং মাসে ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা শতকরা হারে ঋণাত্মক ১৪ শতাংশ। কিন্তু বছরের শেষ মাস অর্থাৎ জুনে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয় ৩৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের জুনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৩৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার। সেখানে বিদায়ী অর্থবছরের জুনে এসেছে ১৮৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার। এ সুবাদে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্সের মোট প্রবৃদ্ধি হয় ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল যেখানে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার, সেখানে বিদায়ী অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যাংকভেদে মাসভিত্তিক হিসাবে গত জুনে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে ইসলামী ব্যাংকের (আইবিবিএল) মাধ্যমে ৫৮ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। এর আগে এক মাসে এত রেমিট্যান্স আর কোনো ব্যাংকে আসেনি। জুনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৬ কোটি ডলার। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

 


আরো সংবাদ