২৭ নভেম্বর ২০২০

বাবা যখন খুনি!

-

সাড়ে তিন বছরের একমাত্র সন্তানকে হত্যা করেছেন এক পাষণ্ড বাবা। শিশুটির নাম মাহিম। হত্যার আগে জুসের সাথে আটটি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করানো হয় শিশুটিকে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করে বালুচাপা দিয়ে বাড়িতে ফিরে ছেলে অপহরণের নাটক সাজান তিনি। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মাহিমের বাবা জুলহাস দীর্ঘ দিন ধরে যৌতুকের টাকা দাবিসহ বিদেশে যাওয়ার জন্য চার লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন শ্বশুরবাড়িতে। শ্বশুরালয় থেকে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিলেন তিনি। একপর্যায়ে টাকা না পাওয়ার ক্ষোভে এবং পারিবারিক কলহের জেরে নিজ সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জুলহাস। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিবেশী জুয়েল ব্যাপারীকে নিয়ে সাড়ে তিন বছরের ছেলেকে হত্যা করেন। পরে জুলহাস র্যাবের কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। খবর পেয়ে তদন্তে নেমে র্যাব জানতে পারে, অপহরণ নয়; শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা না পেয়ে জুলহাস নিজেই জুয়েলকে নিয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করেছেন। অবশেষে পাষণ্ড সেই বাবাসহ দুই ঘাতককে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
র্যাব-১০-এর কোম্পানি কমান্ডার উপপরিচালক আলী রেজা রাব্বী জানান, গত ২৯ জুন জুলহাস আমাদের কাছে এসে অভিযোগ করেন, তার ছেলে মাহিমকে গত ২৭ তারিখে কে বা কারা অপহরণ করেছে। এ ঘটনায় তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় জিডিও করেছেন। অভিযোগ পেয়ে ৩০ তারিখে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী এলাকা থেকে অপহরণের সাথে জড়িত জুয়েল ব্যাপারীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল মাহিমকে অপহরণের কথা স্বীকার করেন এবং এই অপহরণের সাথে ভিকটিমের বাবা জুলহাস ওরফে ফারুক ওরফে গুড্ডার সংশ্লিষ্টতার কথা জানান। পরে জুলহাসকেও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ভিকটিমকে অপহরণ করে জুসের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তা পান করিয়ে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।
র্যাব জানায়, জুলহাস বিদেশে যেতে টাকা না পাওয়ায় এবং পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটনান। এর আগে তিনি ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পূর্বপরিকল্পনা মতে, গত ২৬ জুন জুয়েল আটটি ঘুমের ওষুধ ক্রয় করে জুলহাসকে দেন। পরের দিন জুয়েল শিশু মাহিমকে তার বাসার সামনে থেকে ফুসলিয়ে তার বাবা জুলহাসের পূর্বনির্ধারিত স্থান মাতুয়াইল বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। এরপর জুলহাস এবং জুয়েল ভিকটিমকে মাতুয়াইল বাসস্ট্যান্ড থেকে ডেমরার দেইল্লা নামক নির্জন এলাকায় নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে জুসের সাথে আটটি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করান। এরপর তারা ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে ওই দিন সন্ধ্যায় মৃধাবাড়ী ময়লার ডিপো-সংলগ্ন গ্রিন মডেল টাউন এলাকায় কাশবনের ভেতর বালুচাপা দিয়ে রেখে নিজ বাড়িতে চলে যান। এরপর জুলহাস তার ছেলে অপহরণ হয়েছে বলে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি জিডি করেন। অপহরণ প্রমাণ করার জন্য ২৯ জুন জুয়েলকে দিয়ে মুক্তিপণ চেয়ে নিজের মোবাইলে একটি মেসেজ পাঠান। গ্রেফতারের পর শিশু মাহিমের লাশ উদ্ধার করে র্যাব।

 


আরো সংবাদ