০৬ আগস্ট ২০২০

গণবিরোধী সরকার করোনা টেস্টের ফি নিচ্ছে : রিজভী

-
24tkt

ক্ষমতাসীন সরকারকে গণদুশমন ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বুধবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে আছে করোনা শনাক্তে সরকার টাকা নেয়। এই মহামারীর মধ্যে মানুষ না খেয়ে আছে, এক মুঠো আহারের জন্য অসহায় কর্মহীন মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। অথচ করোনা টেস্টের জন্য বাংলাদেশে ২০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান সেখানেও করোনা টেস্টের জন্য ২০০ টাকা নেয়া হয় না। কত বড় গণবিরোধী গণশত্রু হতে পারে এই সরকার। যদি একজন রিকশাওয়ালাকে তার করোনা টেস্ট করতে যেতে হয়, একজন ভ্যানওয়ালাকে করোনা টেস্ট করতে যেতে হয়, একজন মজুর, একজন কৃষি শ্রমিক তারা সারা দিন কাজ করার পর হয়তো ১০০ থেকে ২০০ টাকা ইনকাম করতে পারে, তাও পারে না, কারো ৬০ থেকে ৭০ টাকা ইনকাম হয়। সে ২০০ টাকা দিয়ে করোনা টেস্ট করবে কি করে? আমরা করোনা টেস্টে ফি নির্ধারণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে গুম হওয়া দুই পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দিতে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উত্তরের গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজ, আজিজুর রহমান মোছাব্বির, মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে গুম হওয়া মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সগীর হোসেনের স্ত্রী ও তেজগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কাউসার আহমেদের স্ত্রীর হাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন রিজভী। গুম হওয়া পরিবারের খোঁজখবর নেয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
রিজভী বলেন, দেশে যদি জনগণের সরকার থাকত তাহলে করোনা টেস্টের জন্য ফি নির্ধারণ করা হতো না। সরকারি চিকিৎসা পৃথিবীর বহু দেশে এমনকি ব্রিটিশ আমলে, পাকিস্তান আমলেও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অনেকটা ফ্রি ছিল। আর উন্নত দেশগুলোতে প্রশ্নই আসে না। যখন এই মহামারীর সময়ে মানুষকে খাদ্য দেয়া দরকার, মানুষের জিনিসপত্রের দাম কমানো দরকার ঠিক এই সময়ে তারা সুযোগ পেয়ে গেছে। করোনার সময়ে মানুষ আর মিছিল করতে পারবে না- এই সময়ে যত পারিস বাড়াও, বিদ্যুতের দাম, তেলের দাম বাড়াও, গ্যাসের দাম বাড়াও। কী পরিমাণ একটা জুলুমবাজ সরকার, রক্ত শোষণকারী সরকার ক্ষমতায় আছে। একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে জনগণকে টার্গেট করেছে ওরা। আমরা যে বলি গণদুশমনের সরকার। সেই গণদুশমন আক্ষরিকভাবে এটা সত্য। না হলে তো এখন গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম কমানো উচিত। সেটা না করে তারা আরো বৃদ্ধি করছে। এই মহামারীর মধ্যে তো হাজার হাজার লোক নিয়ে নামতে পারবে না। অতএব এই সময় করে নাও। সরকারের এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
রিজভী বলেন, আমরা নি¤œবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা আর্থিকভাবে ভয়ঙ্কর কষ্টের মধ্যে পড়েছি। প্রতিবাদ ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই এই মুহূর্তে। এই প্রতিবাদ জানাতে গেলে পুলিশ বলে কি না অনুমতি লাগবে! আজকে সরকারের গুণগ্রাহী হিসেবে পুলিশ যে ভূমিকা পালন করছে এটা ঠিক নয়। পুলিশ তো একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। তারা আচরণ করবে সরকারি দলের জন্য একরকম, বিরোধী দলের জন্য অন্যরকম। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বিএনপি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করতে প্রতিবাদ করছে সেখানেও তারা হুমকি দিচ্ছে। সরকার রক্ত চুষে নেবে, প্রতিবাদ করা যাবে না?

 


আরো সংবাদ