১৪ আগস্ট ২০২০
প্রত্যাখ্যান বিএনপি এমপিদের

এ বাজেটে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে

-
24tkt

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলেছেন এ বাজেটকে একমাত্র ক্ষমতাসীন দল ছাড়া কেউ কোনোভাবেই সঙ্কটকালীন বাজেট বলে মনে করে না। বাজেটে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। একই সাথে তারা করোনা মোকাবেলায় সরকারকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং রোডম্যাপ তৈরি করে জাতির উদ্দেশে প্রকাশ করারও দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন সংসদ ভবনের গেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে বাজেটের কপি ছিঁড়ে বাজেট প্রত্যাখ্যানের এই ঘোষণা দেন বিএনপির এমপিরা। এ সময় তাদের হাতে বাজেট প্রত্যাখ্যানের স্লোগানসংবলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড ছিল।
বিএনিপর যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ এমপি বলেন, একটি অপ্রত্যাশিত ও অকল্পনীয় বাজেট পাস হয়েছে, যাতে গত অর্থবছরের চেয়েও ২৪ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। এটি অবাস্তব। আমরা এই বাজেট প্রত্যাখ্যান করছি।
জি এম সিরাজ এমপি বলেন, মাত্র এক দিন সংসদে সাধারণ আলোচনা করে এই বাজেট পাস করা হয়েছে। এক দিনের আলোচনায় বাজেট পাসের নজির ইতিহাসে নেই। আমরা এই বাজেট ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের অপসারণ দাবি পুনর্ব্যক্ত করে হারুনুর রশীদ বলেন,অবিলম্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে। অতি দ্রুত করোনা নিয়ন্ত্রণ, সঙ্কট উত্তরণ এবং বিনা চিকিৎসায় যেন মানুষ না মারা যায়, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং রোডম্যাপ জাতির উদ্দেশে দিতে হবে সরকারকে।
এ সময় দলটির সাতজন এমপির মধ্যে পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুই সংসদ সদস্য অসুস্থ থাকায় এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানানো হয়। বিক্ষোভে অংশ নেয়া অন্য এমপিরা হলেন মোশাররফ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।
হারুনুর রশীদ বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে একমাত্র আমাকে বাজেট আলোচনার শেষ দিকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু একপর্যায়ে স্পিকার আমার মাইকও বন্ধ করে দেন। মাত্র একজনই বিরোধী দলের সদস্য। বাকি সবাই মহাজোটের শরিক। আমাদের দাবি ছিল ভার্চুয়াল বাজেট আলোচনার। সেটি হলে সব সদস্য তার প্রতিক্রিয়া দিতে পারতেন। সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।
প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই সংসদ গঠিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এখানে যারা মহাজোটের শরিক, তারাই আবার বিরোধী দলে আছেন। যে কারণে সত্যিকার অর্থে জনগণের যে সঙ্কট সেটি সংসদে প্রতিফলিত হচ্ছে না। আমরা যে কয়েকজন সদস্য তা বলার চেষ্টা করি, তাদেরও সেই সুযোগ দেয়া হয় না।
হারুন বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বেহাল অবস্থার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছিলাম এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে সংস্কারের কথা বলেছিলাম। কিন্তু এই নিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী কোনো কথা বলেননি।
এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় বিএনপি ৮৭ হাজার কোটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা তিন বছর মেয়াদি বাজেট ভাবনা দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বরাবরের মতো তার চরম কর্তৃত্ববাদী চরিত্র বজায় রেখে বিএনপির পরামর্শগুলো আমলে নেয়নি। শেষ পর্যন্ত সরকার যে বাজেট প্রস্তাবনা সামনে এনেছে, সেটা একমাত্র ক্ষমতাসীন দল ছাড়া কেউ কোনোভাবেই একটা সঙ্কটকালীন বাজেট হয়েছে বলে রায় দেয়নি।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ক্ষেত্র থেকে বলা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট করোনায় সৃষ্ট জীবন এবং জীবিকার সঙ্কট মোকাবেলায় সক্ষম নয়। ফলে আগামী দিনগুলোতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে এটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। পুরো বাজেটটি নানা রকম স্ববিরোধী ও অসামঞ্জস্যে পরিপূর্ণ।
তিনি বলেন সরকারের আর সব বাজেটের মতো এই বাজেটেও লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ যে রকম ঢালাওভাবে করা হয়েছে সেটি বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে আর কখনো হয়নি। এবার মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করা যাবে। এই দেশে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষও যে মোবাইল ফোনে কথা বলে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেটি ব্যবহারের খরচ বাড়ানো হয়েছে; কিন্তু শুল্ক কমানো হয়েছে ধনীদের ব্যবহার্য সোনার।


আরো সংবাদ