০৭ জুলাই ২০২০

অভিবাসীদের জোর করে ফিরে যেতে বাধ্য করায় বাংলাদেশের উদ্বেগ

-

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অভিবাসীদের জোর করে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করার কিছু দেশের প্রবণতায় উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। সরকার অভিবাসীদের প্রতি আরো মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গতকাল নিউ ইয়র্কে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক ভার্চুয়াল আলোচনায় জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেক দেশ থেকে অভিবাসীদের জোর করে নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক। ফিরে আসা প্রবাসীদের ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টায় অবশ্যই জাতিসঙ্ঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও অংশীজনদের সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এর পরিণতি খুবই ভয়াবহ হতে পারে। এটি উন্নয়নশীল বিশ্বের রেমিট্যান্সনির্ভর পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
রাবাব ফাতিমা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর ভয়াবহতার শিকার হওয়ার পাশাপাশি অভিবাসীরা বিশ্বের অনেক জায়গাতেই তাদের অধিকার, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা, এমনকি চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, অভিবাসীরা তাদের গ্রহণকারী দেশগুলোর উন্নয়নে অবদান রাখা প্রথম সারির কর্মী। এই করোনাকালেও এ কথা সত্য। তাই সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কোভিড-১৯ মোকাবেলা ও উত্তরণে যে পরিকল্পনা ও প্যাকেজ গ্রহণ করেছে তাতে অবশ্যই অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।
‘কোভিড-১৯-এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিবাসন : অভিবাসীদের স্বাস্থ্য ও রেমিট্যান্স’বিষয়ক এ আলোচনার আয়োজন করেছে অভিবাসনসংক্রান্ত সমমনা দেশগুলোর গ্রুপ। বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো ও বেনিন যৌথভাবে এ গ্রুপের সহ-আহ্বায়ক। আয়ারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও প্রবাসীমন্ত্রী সিয়ারান ক্যাননসহ অভিবাসী প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশগুলোর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রাষ্ট্রদূত উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্থায়নবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত ড. মাহমুদ মোহাইয়েলদিনসহ অন্যান্য সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।


আরো সংবাদ