০৭ জুলাই ২০২০
ফেসবুক লাইভে টেলিমেডিসিন পরামর্শে ডা: শাহাদাত

অসুস্থ শরীরকে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পুনর্বাসন করার অন্যতম উপায় নামাজ

-

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি ও স্পোর্টস মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডা: শাহাদাত হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে লাইভে এসে টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই রমজান মাসেও তার নিজস্ব ফেইসবুক পেইজ (https://www.facebook.com/DrShahadat BNP/) থেকে তিনি এই সেবা দিচ্ছেন রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। সাম্প্রতিক এক লাইভ সেশনে দর্শকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান কিভাবে আমাদের প্রাত্যহিক নামাজের মাধ্যমেই ফিজিওথেরাপির ব্যায়াম করা যায়।
তিনি বলেন, শরীরকে সুস্থ রাখা এবং অসুস্থ শরীরকে ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পুনর্বাসন করার অন্যতম উপায় হচ্ছে নামাজ, যা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এন-এইচ-এস) রিসার্চ বলে। এন-এইচ-এস এর একটি রিসার্চ পেপার ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড সালাহ (নামাজ)-এর আলোকে তিনি বলেন, ফিজিওথেরাপির উদ্দেশ্য শারীরিক পুনর্বাসনের সাহায্যে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে উন্নত করা। শারীরিক পুনর্বাসন একটি নিয়মিত হালকা ব্যায়াম কর্মসূচি যা আমাদের হাঁটাচলা ও শারীরিক নড়াচড়াকে শক্তিশালী করে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের মাংসপেশী ও জয়েন্টগুলোতে অসাড়তা হ্রাস করতে সহায়তা করে। এটি আমাদের মাংসপেশীর শক্তিও ক্রমশ বৃদ্ধি করে শারীরিক সুস্থতা উন্নতি করতে। নামাজের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কিভাবে ফিজিওথেরাপিউটিক বেনেফিট হয় তা উল্লেখ করে তিনি বলেনÑ
তাকবির: তাকবিরের সময় কনুই বাঁকানো থাকে ও কাঁধের জয়েন্টটি আলতোভাবে প্রসারিত থাকে। তার পরে কাঁধের শোল্ডার ব্লেড এবং পিঠের নিচের অংশ তাদের স্বাভাবিক শিথিল অবস্থায় ফিরে আসে কেন্দ্রীয় মাংসপেশীর (কোর মাসল) সাহায্যে। এই মাংসপেশীগুলো মেরুদণ্ড সোজা রাখতে ও সোজা হয়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে। তাকবিরের এই ব্যায়াম বারবার করার ফলে কেন্দ্রীয় মাংসপেশী আরো শক্তিশালী হয়।
কিয়াম: কিয়ামের সময় আমাদের হাত পেটের উপর কোমরের কাছে নামানো থাকে ও আমাদের কাঁধ শিথিল অবস্থায় থাকে। তখন শ্বাস-প্রশ্বাসও থাকে স্বাচ্ছন্দ্যময়। দুপায়ের উপর সমান ভর পড়ে, যাতে কেন্দ্রীয় মাংসপেশী সক্রিয় থাকে।
রুকু: রুকুর সময় কোমর বাঁকানোর ফলে পিঠের নি¤œাংশের মাংসপেশী, উরুর ও পায়ের পেশী সম্পূর্ণরূপে প্রসারিত থাকে। কোমর ও পিঠ বাঁকানো নিয়ন্ত্রণ করার ফলে কেন্দ্রীয় পেশীগুলোর ব্যায়াম হয়, রুকুতে যাওয়ার সময় ও রুকু থেকে ওঠার সময়।
সিজদা: সিজদার সময় পিঠের নি¤œাংশের মাংসপেশী সঙ্কুচিত থাকে ও ঘাড়ের পেশীগুলো আমাদের মাথাকে নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় মাটিতে অবনত করতে ও মাটি থেকে ওঠাতে সাহায্য করে। এ সময় হাতেও শরীরের ওজন পড়ার ফলে কাঁধের শোল্ডার ব্লেডকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। এতে কাঁধ ও কাঁধের রোটেটর কাফকে শক্তিশালী করে স্থিতিশীল রাখে।
তাশাহহুদ: তাশাহহুদ বা সালাম ফিরানোর আগে বসে থাকার সময় পায়ের পাতা ও পায়ের গোড়ালির পেশী প্রসারিত থাকে, পায়ের আঙ্গুলগুলো সম্প্রসারিত হয় এবং হাঁটু ও কোমর সঙ্কুচিত থাকে। পিঠের নি¤œাংশ ভালো পশ্চাতে (অবস্থানে) থাকার ফলে কেন্দ্রীয় মাংসপেশী আরো শক্তিশালী হয়।
সালাম ফিরানো: সালাম ফিরানোর সময় মাথা ঘুরানোর ফলে ঘাড়ের রেইঞ্জ অফ মোশন বৃদ্ধি পায়। বারবার এই ব্যায়াম করার ফলে ঘাড়ের পেশীগুলোও প্রসারিত হয়।
ফিজিওথেরাপির ভাষায় নামাজ বা সালাহ একটি হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ব্যায়াম যা প্রতিদিন পাঁচবার ১০ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত করা হয়ে থাকে। এতে হৃদস্পন্দন বাড়ে, শরীরের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলির শক্তি এবং সহনশক্তি (স্ট্যামিনা) উন্নত হয়। এই ব্যায়ামে শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক (পেইনকিলার) এন্ডোরফিন নিঃসরিত হয়, যা ভালো থাকার অনুভূতি দেয় ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। রিসার্চে দেখা গেছে, নামাজ বা প্রার্থনা একটি প্রাকৃতিক ‘শিথিলকরণ প্রতিক্রিয়া’ যা শরীরকে হালকা করে। এটি মানসিক চাপকে হ্রাস করে। এর ফলে অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোনগুলিও কম সক্রিয় থাকে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে রক্তচাপ ও মানসিক উদ্বেগের উপর উপকার প্রভাব ফেলে।


আরো সংবাদ