০৭ জুলাই ২০২০

চালু ও বন্ধের দোলাচলে পাটুরিয়া ফেরি সার্ভিস

-

করোনা সংক্রমণ রোধ ও আসন্ন ঈদে ঘরমুখী জনস্রোত রুখতে স্পর্শকাতর পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল দোলাচলের মধ্যে রয়েছে। এই শুরু আবার এই বন্ধ! ফেরি চলাচলে কখন কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে তা ঘাটের কেউ নিশ্চিত নয়। তবে বেশ কিছুদিন ছোট দু’টি ফেরি দিয়ে জরুরি পণ্য ও রোগীবাহী যানবাহন পারাপার সীমাবদ্ধ থাকলেও গত দু’দিন তা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। স্থানীয় প্রশাসন ও ফেরি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ভোগান্তি পোহায় ঘাটে আটকে পড়া বিভিন্ন ধরনের যানবাহন শ্রমিক ও ঘরমুখী অসংখ্য মানুষ। সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আমফান আটকে পড়া মানুষের দুর্ভোগ আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ফেরি চলাচল বন্ধে বিড়ম্বনার শিকার অনেকেই ঘাট থেকে পুলিশের সহায়তায় উল্টো পথে ফিরে যান।
এমন পরিস্থিতিতে মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তনুযায়ী বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে এ রুটে ফেরি চলাচল শিথিল করায় পারের অপেক্ষায় আটকে থাকা অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক, ছোট গাড়িসহ যাত্রী পারাপার করা হয়। গত দু’দিনে পাটুরিয়া প্রান্তে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ দেড় সহ¯্রাধিক জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন আটকে ছিল বলে সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার পাটুরিয়া ঘাট এলাকা সরজমিন দেখা যায়, ঈদে ঘরমুখো যাত্রী ও গাড়ির তেমন চাপ নেই। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি ও মোটরসাইকেলে কিছু যাত্রী ঘাটে আসছে। পন্টুনে বাঁধা ফেরিগুলো যানবাহন ও যাত্রীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এ যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
বিআইডব্লিউটিসির ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো: জিল্লুর রহমান জানান, গত দু’দিন এ রুটে জরুরি পরিববহন পারাপারে সীমাবদ্ধ থাকলেও তা বর্তমানে শিথিল রয়েছে। আটকে থাকা পণ্যবাহী ট্রাকগুলো গত রাতেই পারাপার করা হয়েছে। বর্তমানে গাড়ি ও যাত্রীর চাপ নেই। বহরের ১৬টি ফেরি মধ্যে ১৫টি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে এর সংখ্যা বাড়ানো হবে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষদের ভোগান্তি হবে না বলে তিনি আশা করেন।
ঘাট এলাকায় জননিরাপত্তায় দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবালয় সার্কেল তানিয়া সুলতানা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বত্র পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের অননুমোদিত কোনো পরিবহন বা যাত্রী ফেরিতে পারাপার হতে না পারে এ ব্যাপারে সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ