০২ জুন ২০২০

আমদানি সহায়তায় এনবিআরের আয় কমতে পারে ৫০০ কোটি টাকা

প্রণোদনা প্যাকেজ
-

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমে যেতে পারে। অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ব্যবসায়-বাণিজ্যকে প্রণোদনা দেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে পাঁচটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্যাকেজগুলোর মধ্যে থেকে অন্ততপক্ষে দু’টি প্যাকেজের কারণে এনবিআর রাজস্ব আয় চলতি অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা কমে যাবে বলে প্রাথমিক হিসাবে মনে করা হচ্ছে। কারণ এই দুই প্যাকেজে আমদানি সুবিধা দেয়ার জন্য ঋণের সুদ হার কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা সাশ্রয়ী দামে জিনিসপত্র আমদানি করতে পারবে। ফলে টোটাল ভ্যালুয়েশনের পণ্যের দাম কমে যাওয়ার কারণে ট্যাক্সও কমে যাবে। ফলে আয়ও কমবে এনবিআরের। এসব কারণে বছর শেষে এনবিআর রাজস্ব ঘাটতি পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার মোট ৫টি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্যাকেজ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত ‘রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার বাড়ানো। এই প্যাকেজের মাধ্যমে ‘ব্যাক-টু-ব্যাক’ এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধা বৃদ্ধির জন্য ইডিএফের বর্তমান আকার ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের উন্নীতকরণ। এর ফলে ১৫০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ইডিএফ তহবিলে নতুন করে যুক্ত হবে। ইডিএফের বর্তমান সুদের হার হচ্ছে লন্ডন আন্তঃব্যাংক সুদের হার (লাইবয়) এবং এর সাথে ১ দশমিক ৫ শতাংশের যোগফল। ফলে এই সুদের হার হবে ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। প্রণোদনা প্যাকেজে এই সুদের হার শূন্য ৭৩ শতাংশ কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সাথে অন্য একটি প্যাকেজে প্রাক-জাহাজীকরণ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি ঋণ (প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম) নামে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করবে। এর সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। এখানেও সুদের হার হ্রাস করার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রণোদনা প্যাকেজে আমদানির ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার কমে যাওয়ার কারণে আমদানিকৃত পণ্যের দামও কমে যাবে। ফলে এর ওপর আরোপিত করও হ্রাস পাবে। আমরা একটি প্রাথমিক হিসাব করে দেখেছি দু’টি প্যাকেজের কারণে এনবিআরের আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমে যেতে পারে।
এনবিআরের একটি সূত্র এই আয় কমে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, করোনার কারণে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের এই ক্ষতি মেনে নিতে হবে। কারণ আগে ব্যবসা-বাণিজ্য, মানুষের কর্মসংস্থান, পরে কর আদায়।
এ দিকে চলতি অর্থবছরে এনবিআর রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি হতাশাজনক পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ বিভাগের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আট মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৮৯ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। সেখানে আদায় হয়েছে এক লাখ ৪৪ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। শতকরা হিসেবে ঘাটতি ২৪ শতাংশ। ঘাটতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে কাস্টমস খাতে। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি হয়েছে ২৯ শতাংশ। ভ্যাটের ঘাটতি ২১ শতাংশ এবং আয়করে ঘাটতি হয়েছে ২৩ শতাংশ।
করোনার কারণে ইতোমধ্যে দেশে লকডাউন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যানবাহনসহ সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রায় ১২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বছর শেষে এনবিআর ঘাটতি আরো বেড়ে যাবে তা নির্দ্বধায় বলা যায়। সিপিডি বলেছে, এই ঘাটতি বছর শেষে এক লাখ কোটি টাকায় পৌঁছবে।

 


আরো সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলতে চান ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী প্লাংকেট এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে উল্লাপাড়ার জমজ দুই বোন সিটি করপোরেশনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি : মেয়র তাপস টিভি সিরিয়াল দেখতে বাধা, বাবার ওপর অভিমান করে মেয়ের আত্মহত্যা একনেকে করোনাসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন আমফানে ক্ষতিগ্রস্থ ৫টি ঘর নির্মাণ করে দিলো সেনাবাহিনী ট্রাম্প সম্পর্কে নীরব জুকারবার্গ, প্রতিবাদে সরব ফেসবুকের কর্তাব্যক্তিরা পরকিয়ায় আসক্ত স্বামী, স্টাম্পে স্বাক্ষর রেখে স্ত্রীকে পাঠিয়েছে বাপের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ে করোনায় আ’লীগ নেতার মৃত্যু করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন দেশের প্রখ্যাত ইউরোলজিষ্ট মনজুর রশীদ চৌধুরী ফটিকছড়িতে সার্ভেয়ারের রহস্যজনক মৃত্যু

সকল