০২ জুন ২০২০
খাদ্যসামগ্রী, মাস্ক, স্যানিটাইজার, স্প্রে দেয়া হচ্ছে

অসহায় মানুষের পাশে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন

-

মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে চলছে সাধারণ ছুটি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দোকানপাটসহ বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজের সুযোগ বন্ধ হয়েছে এসব দরিদ্র মানুষের। অথচ কাজ না করলে তাদের আহারের ব্যবস্থা হয় না। এক বেলা খেলে আরেক বেলার চিন্তা করতে হয়। বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন। করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি অসহায় ও গরিব মানুষের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ এবং জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে চালু করা হয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং হটলাইন নাম্বার। যে কেউ করোনা বিষয়ে হটলাইনে ফোন করে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ নিতে পারবেন। আর এসব কাজই হচ্ছে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে। এ ধরনের কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারী থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ঘরবন্দী মানুষজন বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষজনের জন্য খাবার পৌঁছে দেয়ার কাজ করছে। তবে এ ধরনের সঙ্কট মোকাবেলার ক্ষেত্রে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করলে সেটি দেশের জন্য ভালো কাজ হবে। আমরা মনে করি, এখনো সময় আছে জাতীয় কমিটি করার, এটা গঠন করা উচিত।
খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে মাঠে ছাত্রদল : ঢাকা মহানগর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন মহানগর, জেলা ও উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে মাঠে কাজ করছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক স্প্রে। অসহায় ও গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। করোনা সংক্রমণ রোধে মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে মাস্ক, সাবান, গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন। ইতোমধ্যে তিনি সারা দেশের জেলা, মহানগরীর নেতাদেরকে এ ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। খোকন নয়া দিগন্তকে বলেন, সব সময়ই ছাত্র সংগঠনগুলোর কিছু সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে। দেশের এবং মানুষের প্রয়োজনে তাদের মাঝে মাঝে এগিয়ে আসতে হয়। তারই অংশ হিসেবে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামীর দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিটি জেলায় সাধ্যমতো ভূমিকা রাখছে। দেশ ও জাতির এই ভয়াবহ ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রদলের প্রতিটি ইউনিটকে যথাসম্ভব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমি নিজেও কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাবে ইনশা আল্লাহ।
জানা গেছে, দলীয় নির্দেশ মেনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদল। সোনারগাঁও থানা, পৌরসভা, ফতুল্লøা থানাসহ বিভিন্ন থানা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এলাকার একাধিক পাড়া-মহল্লায় রাস্তা পরিষ্কার, গরিব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ, জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো, মাস্ক ও হ্যান্ড ওয়াশ বিতরণ করেছেন। একইভাবে পঞ্চগড়, রংপুর জেলা ও মহানগর, সাতক্ষীরা, গাজীপুর, সিলেট, ঢাকা, জয়পুরহাট, পাবনা, যশোর, সুনামগঞ্জ, বগুড়াসহ প্রায় সব জেলা ও মহানগরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্ব-উদ্যোগে সাধ্যমতো জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানোর পাশাপাশি গরিব মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। গত রোববার ও মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অসহায় দুই শতাধিক গরিব মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। কোথাও কোথাও এই কার্যক্রম একেবারে গ্রাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যন্ত চলমান আছে।
স্বেচ্ছাসেবক দল : রাজধানীতে গত সোমবার দুই শতাধিক অসহায় ও গরিব মানুষের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহদফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলসহ অন্য নেতারা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের উদ্যোগে তার নির্বাচনী এলাকা ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে পাঁচ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। রাজধানীতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন সাগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলীও। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তারা এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানান, বর্তমান যে ক্রান্তিকাল চলছে তা সম্মিলিতভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্যই ব্যক্তি উদ্যোগে তার নিজ এলাকায় তিনি পাঁচ হাজার মাস্ক এবং অনেক লিফলেট বিতরণ করেছেন। সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে গরিব মানুষের মধ্যে খাদ্যপণ্য দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি গোলাম সারোয়ার।
হটলাইন নাম্বার চালু : করোনাভাইরাস বিষয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও হটলাইন নাম্বার চালু করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশিদ নয়া দিগন্তকে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্যই তারা হটলাইন চালু করেছেন। যে কেউ ফোন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথেও কথা বলে তথ্য জানতে পারবেন। যত দিন দরকার তত দিন তাদের এ সেবা চালু থাকবে।
সার্বিক বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়া দিগন্তকে বলেন, করোনা মহামারী প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি অসহায় মানুষের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছি। বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বজায় রেখেই সাধ্যমতো এসব কাজ করছেন। প্রয়োজনে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। করোনা পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।


আরো সংবাদ