২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

হজের নিবন্ধন নিয়ে দোটানায় এজেন্সি মালিকরা

-

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে চলতি বছরের হজ স্থগিত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেও হজের নিবন্ধন চালু রাখায় দোটানার পড়েছে হজ এজেন্সি মালিকরা। নিবন্ধনের সময় দ্বিতীয় দফা বাড়ানোর পরও নিবন্ধন করছেন না অনেকে। লকডাউনের মধ্যে গত তিন দিনে এক হাজারের কিছু বেশি হজযাত্রীর নিবন্ধন হয়েছে।
গত ২৫ মার্চ হজের নিবন্ধনের সময় শেষ হওয়ার দিন সময় বৃদ্ধি করে আগামী ৭ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। ছুটি ও লকডাউনের মধ্যেও নিবন্ধন চালু রাখা হয়েছে। সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা থাকায় এবং নিবন্ধন কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে হওয়ার কারণে অফিস বা বাসায় বসেও নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। হজ অফিসের অনলাইন কার্যসম্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশনের পক্ষ থেকেও জরুরি ফোন নম্বর দিয়ে জানানো হয়েছে বাসা থেকেই সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এজেন্সি মালিকা গতকাল হজ স্থগিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, সৌদি আরবে প্রতিদিনই নতুন নতুন করোনা রোগী ধরা পড়ছে। সেখানে অনেক এলাকায় কারফিউ চলছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কিছু দিনের মধ্যে থামলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো অনেক সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের টাকা নিয়ে বসে আছি। দোটানায় আছি জমা দিয়ে নিবন্ধন করবো কি না। যদি হজ স্থগিত হয় এই টাকাতো নিজের একাউন্টে হলেও ওঠাতে পারব না। তিনি বলেন, তার চেয়ে ভালো ছিল সরকার যদি নিবন্ধন স্থগিত রেখে দিতো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং হজের জন্য সৌদি সরকার প্রস্তুতির ঘোষণা দিলে স্বল্প সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার সুযোগ দিলেই হতো। এটা অসম্ভব কিছু না।
জানতে চাওয়া হলে কয়েকজন এজেন্সি মালিকও প্রায় একইধরনের মত প্রকাশ করেন। তবে হজযাত্রীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এই শংকায় অনেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে কোনো কোনো এজেন্সি সন্দিহান হলেও হজ শেষ পর্যন্ত হতেও পারে এমন আশা প্রকাশ করে মত দিয়ে বলেন, হজযাত্রীদের অনেকে টাকা দিতে চাইছেন না।
লকডাউনের মধ্যেও নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে হজ এজেন্সিস অ্যাসেসিয়েশনের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, যারা পারেন তারা জমা দেবেন। তিনি বলেন, আসলে নিশ্চিত করেতো কিছুই বলা যাচ্ছে না। নিবন্ধনের সিস্টেম খোলা রাখা আছে। যাদের পক্ষে নিবন্ধন করা সম্ভাব তারা করে রাখবেন। আমরা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছি।
হজের নিবন্ধনের সার্ভারে দেখা যায়, লকডাউন হওয়ার পর গত তিন দিনে প্রতিদিন সাড়ে ৩০০ এর মতো হজযাত্রীর নিবন্ধন হয়েছে। গতকাল নিবন্ধন হয়েছে ৩৫১ জনের। এ নিয়ে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা ৩৯ হাজার ৬৮৯। এ বছর বেসরকারি হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২০ হাজার। এই হিসেবে ৩৩ শতাংশের নিবন্ধন হয়েছে। আর সরকারি ব্যবস্থাপনার হয়েছে ১৭ হাজার ১৯৮ জনের মধ্যে মাত্র তিন হাজার ৩৬৮জন যা মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের মতো। এ বছর মোট হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন। সরকারি বেসরকারি মিলে মোটা নিবন্ধন হয়েছে ৪৩ হাজার ৫৬ জন যা মোট কোটার সাড়ে ৩১ শতাংশের মতো।
চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ৩০ জুলাই ৯ জিলহজ হজের দিন। বাংলাদেশ থেকে আগামী ২৩ জুন হজ ফ্লাইট চালুর কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ বিমান। প্রতিবছর রমজানের আগেই হজের নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর রমজানের মধ্যেই মক্কা মদিনায় বাড়ি ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করে আসছিল এজেন্সিগুলো। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এবার এখন পর্যন্ত নিবন্ধই সম্পন্ন হয়নি।
তাছাড় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে পরবর্তী ঘোষণার আগ পর্যন্ত হজের অত্যাবশ্যকীয় সকল কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেছে। এই চিঠি পাওয়ার পরও ধর্ম মন্ত্রণালয় হজের নিবন্ধন সার্ভার চালু রেখেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের যুক্তি হচ্ছে- এই নিবন্ধন কার্যক্রমধর্ম মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সার্ভারে হচ্ছে। এজেন্সিগুলোর নিজস্ব একাউন্টে হলেও এই টাকা হজের সুনির্দিষ্ট খাত ছাড়া ব্যয় করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া আছে। ফলে হজযাত্রীদের টাকার নিশ্চয়তা থাকছে। হজ স্থগিত হলে হজযাত্রীরা চাইলেএজেন্সির মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে নিতে পারবেন অথবা তার পরের বছরের হজের জন্য নিবন্ধিত হয়ে থাকতে পারবেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ বলেছেন, হজে যেতে না পারলেও হজযাত্রীরা আর্থিকভাবে কোন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, হাজীদের টাকা ফেরত দেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ