০৬ জুন ২০২০

সাগরতীরে লবণ উৎপাদনের ধুম দরপতনে নাখোশ চাষিরা

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাঠে পড়ে রয়েছে লবণ : এস এম রহমান -

সমগ্র পৃথিবী করোনাভাইরাসে স্থবির হয়ে পড়লেও এই বিপদেও সাগরতীরে চলছে লবণ উৎপাদনের ধুম। তবে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লবণ উৎপাদন করলেও দরপতনে নাখোশ উপকূলের হাজার হাজার চাষি। চলতি বছরে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন আর চাহিদা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার টনের বিপরীতে গতকাল শনিবার পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭ টন, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার ৭ টন বেশি গত বছর একই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৮ লাখ ৭৮ হাজার টন। বিসিক লবণ প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার হাফিজুর রহমান এ কথা জানান।
এ দিকে গত কয়েকটি মৌসুমে লবণের বাম্পার উৎপাদন হলেও দেশের চারটি রসায়ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে আনা সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে অতিরিক্ত লাখ লাখ টন সোডিয়াম ক্লোরাইড (ভোজ্যলবণ) আমদানি করার কারণে মাঠে উৎপাদিত লবণের দাম তলানিতে পড়ে যায়। এতে চাষিরা রয়েছেন চরম বিপাকে। একই কারণে গতকাল লবণ উৎপাদনের ১২টি কেন্দ্রের আওতায় ৬০ হাজার একরে উৎপাদিত লবণ পাইকারি বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ সর্বোচ্চ ১৫৩ টাকা করে। অথচ প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে চাষিদের খরচ হয় কমপক্ষে ২০০ টাকার ওপরে।
বাঁশখালী সনুয়ার বাসিন্দা ও লবণচাষি মো: বেলাল হোসেন বলেন, গতকাল প্রতি মণ লবণ বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৬০ টাকা। এর মধ্যে ধোলাই খরচ ২০ টাকা বাদে প্রতি মণ লবণ বিক্রি করে ১৪০ টাকার ওপরে তারা পাচ্ছেন না বলে জানান। তিনি বলেন, এভাবে গত তিন-চার মৌসুম ধরে তারা লবণের দাম পাচ্ছেন না।
লবণ মিল মালিকরা কয়েক বছর ধরে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে লাখ লাখ টন অতিরিক্ত সোডিয়াম ক্লোরাইড (ভোজ্যলবণ) আমদানি করার কারণে মাঠে চাষিরা উৎপাদিত লবণের ন্যায্যদাম না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তারা আগামীতে সোডিয়াম সালফেট আমদানির ওপরে শুল্কহার বাড়িয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন যাতে ভোজ্যলবণ আমদানি নিরুৎসাহিত হয়।
বিসিক লবণ প্রকল্প ও লবণ মিলমালিক সূত্রে জানা গেছে, দেশে চারটি রসায়ন শিল্প রয়েছে এগুলো হলো এ এস এম ইন্টারন্যাশনাল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, তাসনিম ক্যামিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, সামুদা ইন্ডাস্ট্রি ও গ্লোবাল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ। এই চারটি কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সোডিয়াম সালফেটের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে মাত্র তিন লাখ ৭৯ হাজার টন। এই চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে সোডিয়াম সালফেট আমদানি করতে হয়। আর এ সুযোগ পুঁজি করে আমদানিকারকরা কোনো প্রকার বাধা না পেয়ে সোডিয়াম সালফেটের আড়ালে অতিরিক্ত লাখ লাখ টন সোডিয়াম ক্লোরাইড বা ভোজ্যলবণ আমদানি করছেন। আমদানি করা অতিরিক্ত লাখ লাখ টন লবণ সরাসরি চলে যাচ্ছে লবণ কারখানাগুলোতে আর আমদানি করা লবণ ধবধবে সাদা ও ঝরঝরে হওয়ার সুবাধে তা প্যাকেটে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অপর দিকে সরকার চলতি মৌসুমে সরাসরি মাঠ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত লবণ ক্রয়ের কথা থাকলেও তা আজো বাস্তবায়ন হয়নি। বিষয়টি জানতে চাইলে গতকাল হাফিজুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, লবণ ক্রয়ের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি বছর লবণের চাহিদা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার টন আর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন। এর মধ্যে ভোজ্যলবণ ৮ লাখ ৯৬ হাজার টন, শিল্পলবণ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টন, মৎস ও প্রাণিসম্পদের জন্য ২ লাখ ৪৭ হাজার টন।
তিনি আরো জানান, চলতি বছর এই সময়ের মধ্যে লবণ উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭ টন, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার ৭ টন বেশি। গত বছর একই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৮ লাখ ৭৮ হাজার টন। এ ছাড়া চলতি বছর উদ্বৃত্ত লবণ রয়েছে ৬ লাখ টন। উৎপাদনের সময় রয়েছে মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত। কাজেই তিনি মনে করেন চলতি বছরও লবণের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।


আরো সংবাদ





justin tv