০৬ জুন ২০২০
ইয়ার্ডে কনটেইনারের স্তূপ

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ডেলিভারিতে স্থবিরতা

-

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সেবা ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা হলেও পণ্য ডেলিভারিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। ফলে বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনারের স্তূপ এখন ধারণক্ষমতা ছুঁই ছুঁই। এতে যে কোন সময় থমকে যেতে পারে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কর্মকাণ্ড।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং গণপরিবহন বন্ধ করায় পুরো দেশ কার্যত অঘোষিত লকডাউনে। দেশের ও বহির্বিশ্বের এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। পাশাপাশি আমদানি পণ্য ছাড় এবং রফতানি পণ্য জাহাজীকরণ নিশ্চিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজও চালু রাখা হয়েছে সার্বক্ষণিক। ব্যাংক থেকে বিএল নেয়াসহ জরুরি আমদানি-রফতানির সুবিধার্থে যেসব শিপিং এজেন্ট, মেইন লাইন অপারেটর, ফিডার অপারেটরের জাহাজ বন্দরে আসছে তাদের অফিসও সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলার রাখা হচ্ছে।
কিন্তু দেশ কার্যত অঘোষিত লকডাউনে যাওয়াতে এক দিকে শিল্প কারখানাগুলোর প্রায় সবই বন্ধ, হাতেগোনা কয়েকটি গার্মেন্ট কারখানা চালু থাকলেও বেশির ভাগ বন্ধ। এ ছাড়া দেশের প্রধান পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বিপুল পণ্য মজুদ থাকলেও ক্রেতার অভাবে সেখানেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বন্দরে সমুদ্রগামী জাহাজের গমনাগমন রয়েছে স্বাভাবিক। ফলে বন্দর ইয়ার্ডে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনারের স্তূপ বাড়ছে। গতকাল রোববার বন্দর ইয়ার্ডে প্রায় ৪০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার ছিল বলে বন্দর সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো: ওমর ফারুক বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে অফিশিয়াল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘরে অবস্থান করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু অপারেশনাল কাজে নিয়োজিতদের কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে ২৪ ঘণ্টা বন্দর সচল রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বন্দরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন টার্মিনাল ও ইয়ার্ড মিলে ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট সাইজের একক হিসেবে)। আমরা ২৪ ঘণ্টা বন্দর সচল রাখলেও শিল্প কারখানা বন্ধ থাকায় ডেলিভারি কমে গেছে। তিনি জানান, গত ২৮ মার্চ ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৩২৬ টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে। গতকাল রোববারও হাজারখানেক কনটেইনার ডেলিভারির অ্যাসাইনমেন্ট ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হয়। ডেলিভারি কমলেও এখন পর্যন্ত জাহাজ আগমন কমেনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে ইয়ার্ডে স্থান সঙ্কটে জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের জরুরি আমদানি, রফতানি চালানের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা সচল রেখেছি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জরুরি সেবা পণ্য ডেলিভারি এবং সব ধরনের রফতানি পণ্য জাহাজীকরণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ন্যূনতম যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন ততটুকুই নিয়োজিত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োজিত রাখা হলেও রফতানির ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাড়া মিললেও আমদানির ক্ষেত্রে খুব বেশি সাড়া নেই বলে তিনি জানান। এই শুল্ক কর্মকর্তা জানান, গত তিন দিনে ৬ হাজার বিল অব এক্সপোর্ট চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে জমা হয়েছে। কাজের প্রয়োজনে বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজন হলে সেই প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।


আরো সংবাদ





justin tv